জাপানের উপকূলে ভাসছে ‘মৃতদেহ বোঝাই নৌকা′ | বিশ্ব | DW | 04.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জাপান

জাপানের উপকূলে ভাসছে ‘মৃতদেহ বোঝাই নৌকা'

জাপানের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে আরেকটি  ‘মৃতদেহ বোঝাই' নৌকা ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে৷ এ নিয়ে এ মাসে এমন মোট চারটি নৌকা পাওয়া গেল৷ ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো উত্তর কোরিয়া থেকে এসেছে৷

গত রবিবার জাপানের উত্তরাঞ্চলের আকিতা উপকূলে ভাঙাচোরা এ নৌকাটিকে ভাসতে দেখা যায়৷ স্থানীয় পুলিশ পরে সেই নৌকা থেকে আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ বেশিরভাগ মৃতদেহ পচে গলে গিয়েছিল, যা থেকে ধারণা করা যায় অনেকদিন ধরেই মৃতদেহ নিয়ে নৌকাটি সমুদ্রে ভাসছে৷ পুলিশ জানায়, ২০ মিটার লম্বা নৌকার গঠন ও মাস্তুল দেখে নৌকাটিকে কোরীয় বলে সনাক্ত করা যায়৷ এছাড়াও নৌকায় উত্তর কোরিয়ায় তৈরি সিগারেটের প্যাকেটও পাওয়া গেছে৷ যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে আগের মতোই এ নৌকাটিও উত্তর কোরিয়া থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ নভেম্বরের ২৩ তারিখ আকিতা অঞ্চলের এক বাসিন্দা রাতের বেলা উপকূলের কাছে অপরিচিত মানুষ দেখে পুলিশকে জানান৷ পরে সেই ব্যক্তিকে জেরা তিনি যে উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দা সে বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ৷

এর আগে গত সপ্তাহে একই অঞ্চলের সাদো দ্বীপের কাছ থেকে আরেকটি নৌকা উদ্ধার হয়েছিল৷ সেটিতে দুটি মৃতদেহ পাওয়া যায়৷ এছাড়া, নভেম্বরের শুরুর দিকে জাপানের সমুদ্রসীমায় উত্তর কোরিয়ার আরেকটি নৌকা ডুবে যায়৷ পরে জাপানের কোস্ট গার্ড তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, বাকি ১৫ জন নৌকারোহীর খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

আকিতার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সরকারি সংস্থার প্রধান তাকেশি সুমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখানকার মানুষ নিশ্চিতভাবেই উদ্বিগ্ন৷ আমরা শুনেছি, এগুলো সবই উত্তর কোরিয়া থেকে আসছে৷ তবে এখনও কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷'' এখানকার বাসিন্দাদের অপরিচিতদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তাকেমি সুমা৷ চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইওশিহিদে সুগা বলেন, ‘‘জাপানের সমুদ্র এলাকা পাহারায় কাজ করছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ৷ সরকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে চায়, যাতে সন্দেহজনক কোনো নৌকা বা মানুষ জাপানে ঢুকতে না পারে৷''

জাপানের টেমপেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক জেফ কিংসটন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার খাদ্য ঘাটতির অবস্থা হতাশাজনক এবং বিভিন্ন খবরে আমরা জানছি যে, বেশি মাছের আশায় দূর সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকে৷ কারণ, কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না৷ সরকার অনেক অংশ আবার চাইনিজ ফিশিং ফ্লিটকে লিজ দিয়েছে৷ এ সব কাঠের ডিঙিনৌকা উত্তাল সমুদ্রের উপযোগী নয়৷ বেশিরভাগ জেলের দূর সমুদ্রে মাছ ধরার দক্ষতাও থাকে না৷ অনেক মানুষের জীবন এভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ছে৷'' বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাঝ সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে হাওয়া ও ঢেউয়ের উপর ভরসা করে কূলে পৌঁছানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না৷ সেজন্যেই দিনের পর দিন ভাসতে ভাসতে আরোহীরা মারা যায় এবং দীর্ঘদিন পর গলিত মৃতদেহসহ নৌকাগুলো উপকূলে এসে পৌঁছায়৷

কিংসটন বলেন, ‘‘এছাড়া অন্য কারণও থাকতে পারে৷ জাপানের উপকূলে এবছর এ নিয়ে ৪০টির মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে৷ গত পাঁচ বছরে এ সংখ্যা পাঁচশ'র কাছাকাছি৷ আমার সন্দেহ আরো অনেক বেশি মানুষ নিরাপদে ডাঙায় ফেরত আসতে পারেনি৷''

জুলিয়ান রায়েল/আরএন

নির্বাচিত প্রতিবেদন