জাতীয় নির্বাচনের ‘অ্যাসিড টেস্ট′ নিয়ে হিসেব-নিকেষ | বিশ্ব | DW | 14.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

জাতীয় নির্বাচনের ‘অ্যাসিড টেস্ট' নিয়ে হিসেব-নিকেষ

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা এই নির্বাচনকে দেখছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনের ‘অ্যাসিড টেস্ট' হিসেবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ১৮ জানুয়ারি। প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২১ ও ২২ জানুয়ারি। আর ভোট ২৬ ফেব্রুয়ারি।

আইন অনুযায়ী, মেয়র নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে অংশ নিতে পারবেন প্রার্থীরা। বড় দু'টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে, যদিও তাদের প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্তই করা আছে৷

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন পোশাক মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

অডিও শুনুন 01:44
এখন লাইভ
01:44 মিনিট

‘এটা হবে জাতীয় নির্বাচনের অ্যাসিড টেস্ট’

আর বিএনপি'র প্রার্থী হচ্ছেন তাবিথ আউয়াল। তাবিথ গত নির্বাচনেও বিএনপি'র প্রার্থী ছিলেন। তারা বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি।

এই দু'জন প্রার্থীই এরই মধ্যে তাঁদের দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

জামায়াতে ইসলামী আলাদা প্রার্থী দেয়ার কথা বলছে। তাদের প্রার্থী হতে পারেন মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা। আর গত নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি আবারো প্রার্থী হচ্ছেন।

রবিবার তাবিথ আউয়াল ছাড়াও বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনেছেন সিনিয়র নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, দলটির সহ-প্রচার সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম।

তাবিথ আউয়াল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি দলের মনোনয়ন পেলে এবার জয়ের ব্যাপারে দুই কারণে আশাবাদী। প্রথমত, আমার দল আগের চেয়ে এবার অনেক বেশি গোছালো এবং সংগঠিত। দ্বিতীয়ত, আমার বিশ্বাস নির্বাচন কমিশন একটি ফেয়ার নির্বাচন করতে চাইবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য।''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘উত্তর সিটিতে ৩০ লাখ মানুষের ভোট। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনের অনেক গুরুত্ব। এটা হবে জাতীয় নির্বাচনের অ্যাসিড টেস্ট। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, নির্বাচন কমিশন, স্টেক হোল্ডার সবার জন্যই এই নির্বাচন একটা পরীক্ষা।''

অডিও শুনুন 00:56
এখন লাইভ
00:56 মিনিট

‘এই নির্বাচনকে সব বড় রাজনৈতিক দলই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে’

২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিনি প্রায় তিন লাখ ভোট পান। যদিও ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি।

মেয়র পদে বিএনপি'র আরেকজন মনোনয়ন প্রার্থী মেজর(অব.) আখতারুজ্জামান। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ করে মেয়র পদে বিএনপি'র মনোনয়নপত্র কেনায় অনেকের মধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ডয়চে ভেলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এতদিন নিস্ক্রিয় ছিলাম , কিন্তু এবার দল থেকে মনোনয়পত্র কিনতে বলা হয়েছে তাই কিনলাম। দল মনোনয়ন দিলে মেয়র পদে নির্বাচন করব।''

তিনি বলেন, ‘‘এই নির্বাচনকে সব বড় রাজনৈতিক দলই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন। অনেকেই তার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এই নির্বাচনটাকে দেখছে।''

সোমবার বিএনপি'র মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ওইদিনই জানা যাবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি'র হয়ে মেয়র পদে কে লড়াই করছেন ডিএনসিসি'র উপ-নির্বাচনে।

অডিও শুনুন 01:21
এখন লাইভ
01:21 মিনিট

‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেবেন’

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। চলবে সোমবার পর্যন্ত। ১৬ জানুয়ারি মনোনয়ন বোর্ডের বেঠক। এরপরই চূড়ান্ত হবে কে হবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আতিকুল ইসলামের নাম প্রার্থী তালিকার শীর্ষে থাকলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘‘প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত কেউই প্রার্থী নন।''

আতিকুল ইসলামসহ মোট ১২ জন রবিবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তবে দৌড়ে আতিকুল ইসলামই এগিয়ে আছেন।

এর আগে ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে প্রার্থী হিসেবে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছি।''

আর রবিবার তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক উত্তর সিটি করপোরেশনকে নতুন রূপ দিয়েছেন। তার কাজ আরো বাকি আছে। আর সে অসমাপ্ত কাজ শেষ এবং নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই নগরবাসী আমাকে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর আওয়ামী লীগ সরকারে আছে তাই উন্নয়নের জন্য ভোটাররা আমাকেই বেছে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে কি না তা নিয়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ভাববেন।''

অডিও শুনুন 01:20
এখন লাইভ
01:20 মিনিট

‘এই নির্বাচন হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক'

গত মেয়র নির্বাচনে ডিএনসিসিতে প্রার্থী ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি। সেবার অনেক কম ভোট পেলেও এবারও তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। কেন তিনি প্রার্থী হচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘‘ডিএনসিসি'র গত মেয়র নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা পরিবর্তনের আকাঙ্খা ছিল। তবে তারা ভোট দিতে পারেননি। ভোটাররা এবার ভোট দিতে পারবেন বলে আশা করি। তাই পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আবারো প্রার্থী হচ্ছি।''

তিনি বলেন, ‘‘এই নির্বাচন হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক। এর প্রভাব পড়বে ওই নির্বাচনে।''

জামায়ত সিটি নির্বাচনে বিএনপি'র বাইরে গিয়ে আলাদা প্রার্থী দিচ্ছে রাজনৈতিক কারণে। তাদের দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। প্রতীকও নেই। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্র হলেও জামায়াত তাদের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামাতে চায়।  

প্রসঙ্গত, ৩০ নভেম্বর আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ডিএনসিসি মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।  মেয়র উপ নির্বাচনের সঙ্গে ডিএনসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ও সংরক্ষিত ৬টি ওয়ার্ডে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) যুক্ত হওয়া সমান সংখ্যক ওয়ার্ডের নির্বাচনও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়