জাতীয় আর নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন আলাদা কেন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 17.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

জাতীয় আর নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন আলাদা কেন?

শুধুমাত্র ইভিএম-এর কিছু জটিলতা ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো সমালোচনা নেই৷ তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন ‘‘আগামী জাতীয় নির্বাচনও নারায়ণগঞ্জের মত চমৎকার হবে৷’’

কিন্তু সেটি কি বাস্তবে সম্ভব হবে? আর সম্ভব করতে হলে কী করতে হবে?

এই নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি৷ রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ শেষ হয়েছে সোমবার শাসক দল আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে৷ আর আগে সময় না থাকার কথা বলা হলেও মন্ত্রিপরিষদ নির্বাচন কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে৷ এই আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বিধান থাকছে সংবিধান অনুসরণ করে৷ বিএনপি রাষ্ট্রপতির সংলাপে অবশ্য অংশ নেয়নি৷ তাহলে ভালো নির্বাচনের কোনো সুবাতাস কি বইতে শুরু করেছে?

আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা আর বিনা ভোটে পাস করার মহোৎসবের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে তাহলে একটি ভালো নির্বাচন কীভাবে হলো?

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, তিন কারণে নারায়ণগঞ্জে ভালো নির্বাচন হয়েছে৷ প্রথমত, সরকারের তারকা প্রার্থী ছিলো, যিনি প্রভাব বিস্তার ছাড়াও জিততে পারেন, তাই তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেনি৷ দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয় না৷ তৃতীয়ত, সরকার চাপের মধ্যে আছে দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন কমিশনের অপকর্ম এবং নিয়োগ নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে আছে৷

অডিও শুনুন 02:47

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন কমিশনের অপকর্ম, নিয়োগ নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে আছে: ড. বদিউল আলম মজুমদার

তার কথা,"কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় তাই স্থানীয় সরকারের এই ধরনের ভালো নির্বাচন দলীয় সকারের অধীনে করা সম্ভব নয়৷” তিনি বলেন,"২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হওয়ার পর ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভালো হয়েছিলো৷ তারা বলার চেষ্টা করেছিলো জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে৷ কিন্তু বাস্তবে কি হয়েছিলো? ২০১৪ সালের পর তারা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছিলো৷ সেই অঙ্গীকার কি রক্ষা করেছে?”

তিনি ইভিএম-এর সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এই ইভিএম নিকৃষ্টমানের৷ এটা দিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি করা যায়৷ এই ইভিএম-এ পেপার ট্রায়াল নাই৷ ভারতেও আদালতের নির্দেশে পেপার ট্রায়াল যুক্ত করা হয়েছে৷ এই ইভিএম যেন জাতীয় নির্বাচনে না থাকে৷’’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনও মনে করেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচনের সাথে নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনের তুলনা করা যায় না৷ কারণ এই নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না৷’’

তার কথা, নারায়ণগঞ্জ সিটিতে ২০১১ এবং ২০১৬ সালেও ভালো নির্বাচন হয়েছে৷ কিন্তু ওই এলাকার সংসদ নির্বাচনে কি তার প্রভাব পড়েছে? নারায়ণগঞ্জে গত দুইটি সংসদ নির্বাচন কি সিটির মতো হয়েছে? ২০১৮ এবং ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়েছে? তিনি মনে করেন, ‘‘তথ্যমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের মত ভালো জাতীয় নির্বাচনের কথা বলতেই পারেন৷ কিন্তু বাংলাদেশের পলিটিক্যাল সায়েন্স সেকথা বলে না৷ আইভীর ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ৷ আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারেরা উন্নয়নের জন্য ক্ষমতাসীনদের ভোট দেয়৷ এর বাইরে এই সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের একটা ঐতিহ্য আছে যা স্থানীয় মানুষ ধরে রেখেছে৷’’

অডিও শুনুন 03:54

আইনের খসড়া প্রকাশ করে অংশীজনের মতামত নেয়া দরকার: এম সাখাওয়াত হোসেন

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার রোববার নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে বিকেল ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কুমিল্লা এবং নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সর্বোত্তম নির্বাচন৷’’ আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরও একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন৷

তবে আরেকজন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সোমবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, নির্বাচন কেমন হয়েছে তা নির্ভর করে কে কীভাবে দেখছেন তার ওপর৷ ইউপি নির্বাচন অনেক ভালো হলেও তার সমালোচনা করা হচ্ছে৷ আবার নারায়ণঞ্জের নির্বাচন কেউ বলছেন ভালো, কেউ বলছেন খারাপ৷ তার কথা, ‘‘নির্বাচন কমিশন রেফারি৷ এখানে প্লেয়ারদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা খেলা বন্ধ করে দিতে পারি৷ কিন্তু কেউ যদি ফাউল করে তা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না৷’’

তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ কেন একমাত্র মডেল হবে, সব নির্বাচনই ভালো নির্বাচনের মডেল৷ আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য তাই তিনি বলেন, ‘‘সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে৷ এটা যদি সম্ভব হয় তাহলে ভালো নির্বাচন হবে৷ ভালো নির্বাচনের জন্য আইন যথেষ্ট আছে৷’’

এদিকে সরকারের নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘‘সরকার আইন করতে পারে৷ কিন্তু আইন পাস তো বড় কথা নয়৷ এটা স্বচ্ছতার সাথে করতে হবে৷ সরকার কী করছে তা তো আমরা জানি না৷’’

এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, ‘‘আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা উচিত৷ অংশীজনের মতামত নেয়া দরকার৷ আর আমরা যে খসড়া দিয়ে এসেছি তাও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে কী না জানি না৷ নির্বাচনী আইনের নামে কী করা হচ্ছে তা তো আমরা জানি না৷’’