‘জাতিসংঘকে পুনর্বিন্যাস করার সময় এসে গেছে′ | বিশ্ব | DW | 18.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘জাতিসংঘকে পুনর্বিন্যাস করার সময় এসে গেছে'

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু পুরোপুরি শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনোই হয়নি৷ বরং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নই ক্রমশ বড় হয়েছে৷

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, জাতিসংঘের পুনর্বিন্যাস খুব জরুরি৷ এ বিষয়ে ডয়চে ভেলে কথা বলেছে তার সঙ্গে৷ 

ডয়চে ভেলে : জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতা কতটা কাজে এলো?

এম হুমায়ুন কবীর :ভেটো ক্ষমতা তো কাজে আসবেই। এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থায়ী সদস্য যে ৫ জন আছে, তাদের একজনও যদি অসম্মতি জ্ঞাপন করে তাহলে সেই প্রস্তাব সেখানে পাশ হবে না। ইউক্রেন ইস্যুতে যে প্রস্তাব ছিল সেখানে রাশিয়া ভেটো দিয়েছে। ফলে সেটা পাশ হয়নি। বিকল্প হিসেবে যেটা হয়, নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাশ না হলে সেটা সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়। আমরা যেটা দেখলাম, ১৪৪টি দেশ রাশিয়ার হামলার নিন্দা করেছে এবং ইউক্রেন থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছে। এতে করে জনমতের একটা প্রতিফলন ঘটলো, কিন্তু এর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকলো না।

অডিও শুনুন 15:42

জাতিসংঘ কোথাও সফল, কোথাও ব্যর্থ: হুমায়ূন

যে উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য কি সফল হয়েছে?

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় যে ধারণা করা হয়েছিল, যারা পরাশক্তি, তারা ঐক্যমতে থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। ফলে এই পাঁচ পরাশক্তি যখন ঐক্যমতে থাকে না, তখনই উদ্দেশ্য ব্যহত হয়। কোরিয়া যুদ্ধের সময় ঐক্যমত ছিল না। তখন রাশিয়া এটা বয়কট করেছিল। তখন সেই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব পাশ করে নিয়েছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। ১৯৪৫ সালের প্রেক্ষাপট এবং এখনকার প্রেক্ষাপট এক না। আকাশ-পাতাল তফাৎ। এই তফাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘকে পুনর্বিন্যাস করা বা আরেকটু ভেতরে গিয়ে বিষয়টিকে দেখবার বিষয়ে বিভিন্ন সময় আলাপ-আলোচনা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের গঠন এবং তার ম্যান্ডেট নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। ফলে ১৯৪৫ সালে যে চার্টার নিয়ে শুরু হয়েছিল, সেখানেই আছে, যদিও বাস্তব অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

ন্যাটোর বিস্তৃতিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

আসলে এটা একটা ভলান্টারি অর্গ্য্যানাইজেশন। ফলে এটার বিস্তৃতিতে কারো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে যে খুশি জয়েন করতে পারে, যে খুশি জয়েন করতে না-ও পারে। ১৯৯১ সালের পর থেকে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর বিস্তৃতি নিয়ে একটা বিতর্ক আছে। রাশিয়া এবার ইউক্রেনে আক্রমণে এটাই ব্যবহার করছে। এটা যেহেতু ভলান্টারি অর্গ্যানাইজেশন, ফলে তারা চাইলে এটা ভেঙেও দিতে পারে। এখন পর্যন্ত তারা সেই ধরনের চিন্তা করছে বলে মনে হয় না। উল্টো এখনও তারা পূর্ব দিকে সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করছে। রাশিয়া যেহেতু একটা বড় শক্তি, ফলে তাকে চাপে রাখতে পূর্ব দিকে তাদের এই বিস্তৃতি। আরেকটা বিষয় হলো, আগে যারা সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ ছিল, তারা ছোট ছোট দেশ। তারা নিরাপত্তার স্বার্থেই ন্যাটোতে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এখন এদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তাদের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগ্রহটা কমতে পারে। আসল কথা হলো, ক্ষমতা কেউ ছেড়ে দিতে চায় না। পারলে সেটা ক্রামাগত প্রসারিত করে। যাদের শক্তি আছে, আইন-কানুনের বাইরে চলার একটা প্রবণতা তাদের আছে। এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আন্দাজ করি।

ন্যাটো এবং রাশিয়া- একে অপরকে কি ভয় পায়?

ভয় তো পায়ই। একে অপরকে ধ্বংস করার শক্তি তো আছে। তাদের সবারই পারমাণবিক শক্তি আছে। এটা ব্যবহার হয় না শুধুমাত্র একজন ব্যবহার করলে আরেকজন করবে, এতে কেউ বাঁচবে না। এই ভয়ে এটা কেউ করে না। পারমাণবিক শক্তির কারণেই তারা নিজেদের শক্তিশালী মনে করে।

ন্যাটো তো অনেক ক্ষমতাধর, এই যুদ্ধে ন্যাটোর ক্ষমতা কতটা প্রকাশ পেলো?

এটাকে আমরা কীভাবে দেখছি, সেটার উপর নির্ভর করে। যদি সামরিক দিক থেকে ধরি তাহলে একরকম, অর্থনৈতিক ধরলে একরকম, রাজনৈতিক ধরলে আরেকরকম। আমি মনে করি, ন্যাটোর দুর্বলতার প্রকাশ ঘটেনি। তারা বরং অনেক যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে। যেমন ইউক্রেন বলছে, নো ফ্লাই জোন। রাশিয়া যেভাবে স্থাপনা ধ্বংস করছে, সেখানে যদি ন্যাটো আসে, তাহলে তো দুই পক্ষ যুদ্ধে জড়াবে। তখন পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে। আমার ধারণা, পশ্চিমারা সে পর্যন্ত নিতে চায় না। ফলে ইউক্রেন যেটা চাচ্ছে, সেটা তারা করছে না। তারা কিছু অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমি যতটুকু খোঁজ-খবর রাখি, তাতে রাশিয়ানদের পারফর্ম্যান্স আমার কাছে ভালো মনে হয়নি। তাদের গ্রেড ওয়ান মিলিটারি। তারা যে অবজেকটিভ সেট করেছিল তার কোনোটাই কাজে আসেনি। ফলে এখনই এটা বিশ্লেষন করার সময় হয়নি।

ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে আদর্শিক পার্থক্যটা কী?

এখন তো আর কোনো আদর্শ নেই। এটা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল, তখন একটা তাত্ত্বিক অবস্থান ছিল। অ্যামেরিকা ধনতান্ত্রিক দেশ, রাশিয়াও ধনতান্ত্রিক দেশ। ফলে অর্থনীতি, আদর্শের দিক থেকে তাদের কোনোই তফাৎ নেই। আরেকটা বিষয় হলো, অ্যামেরিকাতে গণতান্ত্রিক চর্চা আছে, মানুষ তাদের মতামতটা দিতে পারে। রাশিয়াতে তো সেটা নেই। এই কারণে পুটিন একবার প্রেসিডেন্ট হন, একবার ভাইস প্রেসিডেন্ট হন, এখন আবার বলছেন ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এগুলোকে পেছন যাত্রা বলেই আমি মনে করি। এখন সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই, কিন্তু তার যত নেতিবাচক কাঠামো ছিল, সবই রাশিয়া ধরে রেখেছে। এখন পশ্চিমাদের সঙ্গে যদি পাল্লা দিতে হয়, তাহলে তার চেয়ে উত্তম কাঠামো তৈরি করেই পাল্লা দিতে হবে। পুরাতন কাঠামো দিয়ে পাল্লা দেওয়া কঠিন হবে।

এই যুদ্ধ কি বিশ্বকে দুইভাগে বিভক্ত করে দিলো?

আমি সেটা মনে করি না। যদিও রাশিয়া একদিকে আবার অন্য বেশ কয়েকটি দেশ অন্যদিকে। অনেকেই টেকনিক্যাল কারণে কোনো কথা বলছে না। বিষয়টি এখন এভাবে দেখা যায়, যারা শক্তিশালী রাষ্ট্র তারা একদিকে, আরা যারা অপেক্ষাকৃত দূর্বল তারা আরেকদিকে। যারা অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী তারা এখন বিপদগ্রস্থ হচ্ছে। এদের বিপদগ্রস্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফলে আমি দুর্বল আর সবলের বিভাজন করবো। এটা সর্বকালেই ছিল। রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে যদি বিভাজনটা করেন তাহলে তার মধ্যে আমি তেমন বড় ধরনের কোনো বিভাজন দেখছি না। আমাদের মতো কম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো যে কোনো যুক্তিতেই হোক আপনি ইচ্ছেমতো আপনার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। বাইরে থেকে আক্রমণ করে ক্ষমতার পরিবর্তন আপনি করতে পারেন না। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য না।

তাহলে জাতিসংঘ করছে কী?

জাতিসংঘ যে এখনও টিকে আছে, এটা ইতিবাচক। তখন যে প্রেক্ষাপটে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটা তো ইতিবাচকই ছিল। ফলে জাতিসংঘ সফল না ব্যর্থ সেটা এক বাক্যে বিশ্লেষন করা যাবে না। কোথাও সে সফল, আবার কোথাও সে ব্যর্থ।

যুদ্ধ এড়াতে আগে থেকেই কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার ছিল?

রাশিয়া কিন্তু বরাবরই বলেছে তারা ইউক্রেন আক্রমণ করবে না। সবাই সেটা শুনেছে। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবারই বলেছেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করবে। পুটিন সেটা প্রত্যাখান করেছেন। এখন কোনো রাষ্ট্রপতি যদি কথার বরখেলাপ করেন, সেটা কি ভালো কাজ? তাহলে আমরা কার কথা বিশ্বাস করবো?

রাশিয়াকে কী এই যুদ্ধে যাইতে বাধ্য করা হয়নি?

না, আমি সেটা মনে করি না।

তাহলে ন্যাটোকে কেন ইউক্রেন পর্যন্ত আসতে হবে?

আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে তো সেটার সমাধান সম্ভব। ২০১৪ সাল থেকে আপনি ইউক্রেনের একটা অঞ্চল দখল করে রেখেছেন। তাহলে ইউক্রেন কী করবে? সে তো আত্মরক্ষার চেষ্টা করবে। পুটিন সেদিনও বলেছে, আমরা এক জাতি। আরে ভাই, এক জাতি হলে বিশ্বে ১৯৩টি দেশ কেন হলো? তাই বলে একজাতি কনসেপ্ট দিয়ে আপনি আরেকটা দেশ দখল করে ফেলবেন, এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। সমস্যা থাকলে সেটা আলোচনা করে সমাধান করা যেতো। আলাপ-আলোচনার বিকল্প কোনোভাবেই হতে পারে না সামরিক আক্রমণ।

নির্বাচিত প্রতিবেদন