‘জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধের বিচার করতেই হবে’ | মুক্তিযুদ্ধ | DW | 21.09.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ

‘জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধের বিচার করতেই হবে’

মুক্তিযুদ্ধের সাত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন৷ তিনি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর কিছু দুঃসাহসিক অভিযানের কথা৷

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক কয়েকজন

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক কয়েকজন

‘‘আমরা ভারতে প্রশিক্ষণ নেই৷ এরপর একদিন পাকিস্তানি সৈন্যদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে বর্তমান নওগাঁ জেলার সাপাহারে যাচ্ছিলাম অভিযান করতে৷ আমাদের যিনি খবর দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন দলের সামনে৷ হঠাৎ নিজেদেরকে পাকিস্তান আর্মির একটি ক্যাম্পের সামনে আবিষ্কার করলাম৷ সেখানে থেকে তাদের কথা শোনা যাচ্ছিল৷ কোনোরকমে ক্যাম্প লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়ে দিলাম দৌড়৷ এভাবে প্রায় মাইল দেড়েক দূরে গিয়ে থামি৷'' এভাবেই একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর গল্প শোনান মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ৷

যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৫৷ নওগাঁ ছাড়াও বগুড়া, নাটোর এসব এলাকায় যুদ্ধ করেন তিনি৷ বগুড়ায় গ্রাম পোড়াতে আসা পাকিস্তানি সৈন্যদের কীভাবে মোকাবিলা করেছেন এবার শোনালেন সেই কাহিনি৷ ‘‘জেলার আদমদিঘি উপজেলার পারিলবিশা গ্রামে পাক আর্মিরা এসেছিল গ্রাম পোড়াতে৷ সেসময় তাদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়৷ এতে তিন পাক সৈন্য মারা যায়৷ আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি৷''

মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত জানালেন লাইট মেশিন গান, এসএলআর, চাইনিজ রাইফেল, থ্রিনটথ্রি রাইফেল, স্টেনগান, গ্রেনেড এসবই ছিল তাদের সম্বল৷

তবে যেসব আশা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার অনেক কিছুই পূরণ হয়নি বলে মনে করেন তিনি৷ যেমন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি৷ গণতান্ত্রিক মুক্তিও নয়৷ এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকে টাকার অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন৷ যেটা দেখলে কষ্ট হয় শাহাদাতের৷

তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে যে দেশ এগিয়ে গেছে সেটাও জানান শাহাদাৎ৷ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও উন্নতি করবে এটাই তার আশা৷ শাহাদাৎ বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা৷ যেটা হয়নি৷''

আর সবার মতো যুদ্ধাপরাধের বিচারও চান মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ৷ তবে এই প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা দেখা দেয়ায় তিনি হতাশ৷ বললেন, ‘‘জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধের বিচার করতেই হবে৷''

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন