জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 24.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের উদ্যোগ

বিতর্কিত ইসলামী ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করতে চলেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারি সংস্থা এনআইএ৷ তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গি কাজে মদত এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিয়োগ রয়েছে৷ জাকির নায়েক এখন পলাতক৷

দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার পর জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের যাবতীয় তথ্য প্রমাণ এবং নথিপত্র তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে৷ জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তা বিশেষ আদালতে পেশ করবে এই সপ্তাহের মধ্যেই৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয় চার্জশিটে৷ তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান প্রধান অভিযোগের মধ্যে আছে জঙ্গি কার্যকলাপে প্ররোচনা দেওয়া এবং তার জন্য বেআইনি আর্থিক লেনদেনে লিপ্ত থাকা, ইসলাম ধর্মপ্রচারের নামে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো. মুসলিম তরুণ সমাজে জেহাদি সহিংসতার বীজ বপনের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় বক্তৃতায় মগজ ধোলাই করা ইত্যাদি৷ উল্লেখ্য, অতীতে দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কেরালার মুসলিম যুবকদের তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে প্রভাব খাটায়, চার্জশিটে এমনটাই অভিযোগ করা হয়েছে৷

৫১ বছর বয়সী জাকির নায়েক তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের আঁচ পেতেই গত বছরের জুলাই মাসে ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান৷ গত বছর পয়লা জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের ওপর জাকিরের প্রভাব ছিলবলে বাংলাদেশ মিডিয়ার খবরের পর আর তিনি ভারতমুখী হননি৷ ঐ সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারায় ২২ জন৷ বাংলাদেশ সরকার জাকিরের পিস টিভি চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দেয়৷ এই টিভি চ্যানেলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের নাম জঙ্গি কার্যকলাপে উস্কানি দিতেন৷ এর প্রসারণ হতো দুবাই থেকে৷ ভারতও পিস টিভি চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দেয়৷ মুম্বাইয়ে জাকিরের এনজিও ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন অফিসে তদন্ত সংস্থা কয়েকবার হানা দিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করে৷ ঐ এনজিও বর্তমানে নিষিদ্ধ৷ তদন্ত কাজে সহযোগিতার জন্য এনআইএ বেশ কয়েকবার ভারতে আসার জন্য জাকির নায়েককে নোটিশ পাঠায়৷ কিন্তু তিনি জবাব দেননি৷ তাঁকে আটক করার জন্য ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়৷ বর্তমানে তাঁর আস্তানার সঠিক খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি৷

তবে জানা গেছে, তিনি নাকি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানেই থাকছেন৷ তার আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান কিন্তু কোনো দেশই তাঁকে স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়নি৷ মালেশিয়া সরকার তাঁর প্ররোচনামূলক ধর্মীয় ভাষণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন৷ সেই দেশে জাকিরের একটা স্থায়ী আস্তানা আছে বলেও শোনা গেছে৷ হালে সেই আস্তানা বন্ধ করে দেবার দাবি জানিয়েছে সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷ ব্রিটেন ও ক্যানাডা তাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে৷ বিদেশের অজ্ঞাত স্থান থেকে ভারতীয় মিডিয়ার সঙ্গে স্কাইপের মাধ্যমে সাক্ষাত্কারে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘নিরীহ মানুষের জীবনহানি ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় জঘন্যতম পাপকাজ৷ তিনি সেটা করেননি৷ মুম্বাইতে তাঁর আইনজীবী জাকিরের পক্ষে ওকালতি করে বলেছেন, নায়েকের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অন্যায়, অবিচার৷ আর্থিক লেনদেন যা হয়েছে তা সবই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে৷ উচ্চতর আদালতে এইসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে৷ কথা হচ্ছে, জাকিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করলেও তাঁকে আসামির কাঠগড়ায় তোলাটাই হবে মোদী সরকার বা তদন্তকারী সংস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ৷ ইন্টারপোলের সাহায্যে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারলে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াই মাঠে মারা যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল৷

জাকির নায়েকের পরিচয় কি ? পুরো নাম জাকির আবদুল করিম নায়েক৷ জন্ম মহারাষ্ট্রে মুম্বাইয়ে৷ চিকিত্সা বিদ্যায় স্নাতক অর্থাৎ এমবিবিএস৷ মুম্বাইয়ে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে এক এজিওর প্রতিষ্ঠাতা৷ মুসলিমদের সেবামূলক কাজ করলেও বলা হয়, জেহাদি ধর্মবাদের মোড়কে রাজনৈতিক উচ্চাকাংখা হাসিল করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য৷ বাকপটুতায় অসামান্য দক্ষতায় তাঁর অনুগামীদের সংখ্যা ক্রমশই বাড়তে থাকে৷ প্রায় চার হাজার ধর্মীয় ভাষণ দেন গোটা বিশ্বে৷

 জাকির নায়েকের ধূমকেতুর মতো উত্থানের পেছনে একটি ঐতিহাসিক কারণ আছে বলে মনে করেন, কোলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজ৷ ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় মধ্যযুগীয় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর মাথা চাড়া দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদ, যার নেতুত্ব দেন বিজেপির শীর্ষ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি আর হিন্দুত্ববাদী আরএসএস এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা৷ হিন্দুত্ববাদের সেই ঢেউ আছড়ে পড়তেই তার মোকাবিলা করতে জাকির নায়েকের আসরে নামা৷ শুরু হয় ইসলাম ধর্মের মাহাত্ম্য প্রচারে তাঁর বক্তৃতা৷ বাবরি মসজিদ ভাঙার জেরে শুরু হয় গুজরাট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা৷ মারা যায় প্রায় হাজার দুয়েক৷ বেশির ভাগ মুসলিম৷ বদলা নিতে শুরু হয় একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা৷ ৯৩-এর মুম্বাই জঙ্গি হামলা৷ মারা যায় ২৫৭ জন৷ ২০০১-এ নতুন দিল্লির সংসদ ভবনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা৷ মারা যায় ১৫জন৷ তার মধ্যে ৫ জন জঙ্গি৷ এবং ২০০৮-এ মুম্বাইয়ে ২৬-১১-র সন্ত্রাসী হামলা৷ মারা যায় ১৬৭ জন৷ এমনটাই মনে করেন, কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়