জলাবদ্ধতায় মৃত্যু পরোয়ানা, প্রাণহানির দায় কার? | বিষয় | DW | 26.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কলকাতা

জলাবদ্ধতায় মৃত্যু পরোয়ানা, প্রাণহানির দায় কার?

জলাবদ্ধতায় বিদ্যুতের ছোবল৷ কলকাতা শহরতলিতে প্রাণ গেল দুই স্কুল ছাত্রীর৷

আগামী মঙ্গল ও বুধবারে ভারী বৃষ্টির সতর্কবাণী শুনিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর

আগামী মঙ্গল ও বুধবারে ভারী বৃষ্টির সতর্কবাণী শুনিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর

সপ্তাহের শুরু থেকে কদিন টানা বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা-সহ আশপাশের জেলাগুলিতে৷ এর জেরে বিভিন্ন জায়গায় জলবন্দি মানুষ৷ অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকা বটেই, অনেক উঁচু স্থানেও জমেছে পানি৷ বুধবার কলকাতার উত্তর শহরতলির দমদম এলাকার বান্ধবনগরে দুই স্কুল ছাত্রী টিউশন পড়তে বেরিয়ে বাতিস্তম্ভে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়৷ 

কলকাতার সবচেয়ে বড় স্টেশন শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে দমদম যেতে বেশি সময় লাগে না৷ পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, স্টেশনে নেমে বান্ধবগড় পৌঁছনো যায় রিকশা বা অটোয়৷ ব্যস্ত দমদম রোডের মুখে পৌঁছে একেবারে অন্য দৃশ্য৷ বাস চলছে না৷ অটো যাচ্ছে কিছুটা দূর পর্যন্ত৷ দমদম রোডের অপর প্রান্ত, নাগেরবাজার যেতে যে রিকশা ২০-২৫ টাকা ভাড়া নেয়, তারা হাঁকছে ১০০৷ রাস্তার মুখে বসা ফল বিক্রেতারা বললেন, ‘‘ব্রিজে ফাটল৷ তাই রাস্তা দিয়ে বাস, অটো যাবে না৷ প্রতি বছরই পানি জমে৷ তবে এ বারের মতো সমস্যা কখনো হয়নি৷''

মতিঝিল, বান্ধবগড় পৌঁছতে গেলে সেতু পার করতে হবে৷ সেজন্য বড় চারচাকা গাড়ির দিকে ছুটে যাচ্ছেন অনেকে৷ অধিকাংশই সন্ধেবেলার অফিস ফেরত যাত্রী৷ স্টেশন ও নাগেরবাজার সংযোগকারী দমদম রোডের দুধারে ঘনবসতি৷ তাই অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যাও অনেক৷ এই সুযোগে রাস্তায় নেমে পড়েছে মালবাহী গাড়ি৷ এগুলি ছোট আকারের ম্যাটাডোর ভ্যান৷ পণ্যের পাশাপাশি এই গাড়িতে বহন করা হয় ছাগল-সহ অন্যান্য গবাদি পশু৷ সেই ভ্যানেই চাপছে মানুষ৷ গাদাগাদি ভিড়, কোভিডের দূরত্ববিধির বালাই নেই৷অনেকের মুখে নেই মাস্ক৷

গাড়ির উচ্চতা মাটি থেকে অনেকটাই৷ ফলে পাঁচিল টপকানোর কায়দায় দুই হাতে ভর উঠছেন অনেকে৷ যাঁরা এই কসরতে অসমর্থ, তাঁদের জন্য রয়েছে একটি দড়ি বাঁধা চেয়ার৷ সেই চেয়ারে পা দিয়ে উঠতে হচ্ছে, নামতে হচ্ছে৷ গাড়ি ভরে যেতেই তা চলতে শুরু করে৷ কিছুটা দূর এগোতেই যেন নদীর মধ্যে প্রবেশ করে গাড়ি৷ দুপাশের ফুটপাত পেরিয়ে পানি ধাক্কা মারছে দোকানপাটে৷ এই রাস্তা আড়াআড়ি চলে গিয়েছে বাগজোলা খাল৷ এই খাল জলে টইটুম্বুর৷ তার উপর যে কালভার্ট, স্থানীয়দের ভাষায় ব্রিজ, তাতে গর্ত হওয়ায় একপাশের যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট৷

জল কাটিয়ে এগোতে এগোতে গাড়ি এমন দুলতে থাকে যে আশঙ্কা হয়, যে কোনো সময় উল্টে যেতে পারে৷ চারপাশ অনেকটা ছায়াচ্ছন্ন, সব পাড়া যেন এক হয়ে আছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায়৷ অসহনীয় অবস্থার মধ্যে দিন কাটছে এলাকার বাসিন্দাদের৷ বাগজোলা খালের পাশে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন শুক্লা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার জরুরি অস্ত্রোপচারের কথা ছিল সপ্তাহের শুরুতে৷ কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি থেকে বেরোতেই পারেননি৷

তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে যা খাবারদাবার ছিল, তা দিয়েই চালাতে হচ্ছে৷ বাজার-হাটে বেরোতে পারিনি৷ এই পরিস্থিতিতে অপারেশন হবে কী করে?''

বান্ধবনগরের দুই স্কুল ছাত্রী স্নেহা বণিক ও অনুষ্কা নন্দী কীভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলো? বদ্ধ জলে বিদ্যুতের ছোবলে খড়দহ, টিটাগড়, ভগবানপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় ১০-এরও বেশি মৃত্যু হয়েছে৷ দমদমে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে বেসরকারি সংস্থা ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন৷

যদিও বিদ্যুতের খুঁটি রক্ষণাবেক্ষণের ভার দক্ষিণ দমদম পুরসভার৷ ফলে পুর প্রতিনিধির দিকে আঙুল উঠেছে৷ দমদমের সাংসদ এলাকা পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিয়েছেন ঘটনার তদন্ত হবে৷ কিন্তু এতেই কি বিতর্কে ইতি টানা যায়? কেন সাধারণ মানুষকে এমন অমানুষিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে হয়, সেই প্রশ্ন উঠবে না?

খালের সংস্কার থেকে নিকাশের বেহাল অবস্থা৷ নানা সময়ে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলে৷ কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় না৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেহিসেবি নগরায়ন সবচেয়ে বড় বিপদ৷ জলাভূমি বুজিয়ে একের পর এক নির্মাণ হতে থাকলে বৃষ্টির জল যাবে কোথায়? যেটুকু নিকাশি ব্যবস্থা রয়েছে তার মাধ্যমে খালে জল পৌঁছলেও অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না৷ খালের জমি যেমন বেদখল হয়েছে, তেমনই ড্রেজিংয়ের অভাবে তা নাব্যতা হারিয়েছে৷ কেন পরিকাঠামোয় গলদ, তার জন্য বিরোধীরা আঙুল তুলছে শাসক দলের দিকে৷ চাপানউতোর চলছে, কিন্তু বছরের পর বছর সমস্যার সমাধান মিলছে না৷

দুই স্কুল ছাত্রীর মৃত্যুর শোক ও আতঙ্ক নিয়ে দমদমবাসী এখন আসন্ন দুর্যোগ 'গুলাব'-নিয়ে আশঙ্কায় দিন গুনছে৷ আগামী মঙ্গল ও বুধবারে ভারী বৃষ্টির সতর্কবাণী শুনিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর৷