জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ | বিশেষ আয়োজন | DW | 16.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ

জার্মানির বন শহরে চলছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন৷ দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনটি শেষ হবে শুক্রবার৷ তার আগে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ৷

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পরিবেশ ও বন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন৷

ড. হাছান মাহমুদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সম্মেলনে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন৷ ‘‘প্রতিটি সম্মেলনে আমরা অনেক আশা নিয়ে আসি৷ কিন্তু যখন আমরা ফিরে যাই তখন বেশিরভাগ সময় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনা'', বলেন তিনি৷ সাবেক এই পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ সকাল পর্যন্ত লস অ্যান্ড ড্যামেজ বিষয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি৷ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য কানকুনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ' বিষয়টির আবির্ভাব হয়েছিল৷ প্যারিস চুক্তিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷ কিন্তু বন সম্মেলনে এসে বিষয়টি প্রায় হারিয়ে গেছে৷''

এছাড়া ড. মাহমুদ বলেন, প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশ অনেক অর্থ সাহায্যের অঙ্গীকার পেয়ে থাকে৷ কিন্তু সেই তুলনায় যা পাওয়া যায় তা খুবই নগণ্য৷ এর বাইরেও হতাশ হওয়ার মতো আরও অনেক বিষয় আছে বলে জানান তিনি৷ অবশ্য সম্মেলনের আরও কিছু সময় বাকি থাকায় এই সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতির আশা করছেন তিনি৷ ‘‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি সম্মেলনের শেষ দুই দিনে অনেক বিষয়ে বলার মতো অগ্রগতি হয়৷ আমি আশা করব এবারও সেটি হবে৷ ফলে আর আমাদের হতাশা নিয়ে দেশে ফিরতে হবে না৷''

পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ুপরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা ‘উচ্চাকাঙ্খী' বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ঘোষণার পর ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশ এই চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে যে সমর্থন জানিয়েছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন পরিবেশমন্ত্রী৷

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিদেশি অর্থ সহায়তা প্রাপ্তির অপেক্ষা না করে বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে কাজ করছে বলে জানান তিনি৷

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত দুই দশকে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করেছে৷

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, সাগরের পানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা৷ ‘‘আমরা অনেক সময় বলি, এটি একটি স্লো-অনসেট ইভেন্ট৷ এর ফলে সবার মনে একটি ধারণা জন্মায় যে, তাহলে হয়ত এ ব্যাপারে পরে ব্যবস্থা নিলেও হবে৷ কিন্তু এটি ভুল ধারণা৷ এটি খুবই জরুরি বিষয়৷ উপকূলীয় এলাকাগুলি বাংলাদেশের সবচেয়ে অরক্ষিত এলাকা৷'' তিনি বলেন, সাগরের পানির উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ‘‘লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা, নিরাপদ পানির অভাব দেখা দিচ্ছে৷ ফলে মানুষজন সেখান থেকে সরে যাচ্ছে'', বলেন ড. নিশাত৷

জেডএইচ/ডিজি

প্রতিবেদনটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়