জলবায়ু বিমার সুফল পাচ্ছেন মরক্কোর চাষিরা | অন্বেষণ | DW | 08.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জলবায়ু বিমার সুফল পাচ্ছেন মরক্কোর চাষিরা

কৃষিকাজ থেকে শুরু করে কৃষি পণ্য বাজারে আনা বা রপ্তানির উপর জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব বেড়েই চলেছে৷ মরোক্কোয় এক জলবায়ু বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে৷

ভিডিও দেখুন 05:24

মরক্কোয় চাষিদের জন্য জলবায়ু বিমা!

গোটা এলাকার চাষিরা বড় হাটে নিজেদের পসার নিয়ে আসেন৷ তাঁদের ফসল কেমন হয়েছে, এসিআরই প্লাস প্রকল্পের মাক্সিম সুভিনিয়ে তা জানতে চান৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের কৃষিকাজের ক্ষতি হচ্ছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে বিমা চালু করার লক্ষ্যে এক গবেষণা প্রকল্পের সমন্বয় করছেন তিনি৷ মাক্সিম বলেন, ‘‘মরক্কোয় ছোট চাষিদের জন্য আগে থেকেই বিমা চালু রয়েছে৷ সরকারি ভরতুকির কল্যাণে বিমা কোম্পানিগুলি তাদের নানা পরিষেবা দেয়৷ কিন্তু সেটা আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে না৷ আমরা গোটা ‘ভ্যালু ক্রিয়েশন চেন'-এর জন্য সমাধানসূত্র দিতে চাই৷''

মাঠে বীজ বপন থেকে শুরু করে উৎপাদিত ফসল প্যাকেজিং ও তার পরিবহণ পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সব ব্যক্তির জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে বিমা করা হচ্ছে৷ সুস এলাকার সমতলভূমিতে কৃষিকাজই আয়ের মূল উৎস৷ কিন্তু খরা থেকে বন্যা – চরম আবহাওয়ার সব রূপই বড় সমস্যা হয়ে উঠছে৷

আঞ্চলিক রাজধানী তারুদঁ-য় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে চরম আবহাওয়ার প্রভাব সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে৷ প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যা গোটা অঞ্চলের ক্ষতি করছে৷ রাস্তাঘাট ও সেতু বিশেষভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে৷ কিন্তু সমস্যা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট অর্থ নেই৷ সেখানকার পৌরসভার সভাপতি সমাইল এলহারিরি বলেন, ‘‘শহরের সেতুসহ সব অবকাঠামোর সুরক্ষার ব্যয়ের মাত্রা জানতে আমরা এক রিপোর্ট তৈরি করেছিলাম৷ দেখা গেল, ৮ লক্ষ ইউরোর বেশি ব্যয় হবে৷ শহর কর্তৃপক্ষ তার ২০ শতাংশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩০ শতাংশ দেবে৷ বাকি ৫০ শতাংশের জন্য আমাদের দাতা খুঁজতে হবে৷''

কয়েক সপ্তাহ আগে মোবাইল ফোনে তোলা একটি ভিডিও দেখলে বন্যার নাটকীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়৷ বন্যার ফলে অনেক সেতু ধ্বংস হয়ে যায়৷ স্থানীয় কর্তৃপক্ষর সামর্থ্য না থাকলে তার মেরামতি হয় না৷ তখন তাজা ফল ও সবজির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে৷ এমন সমস্যার সমাধানে তড়িঘড়ি এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে চলে না, যা আবার বৃষ্টি হলে অর্থহীন হয়ে পড়বে৷ মাক্সিম সুভিনিয়ে বলেন, ‘‘তারুদঁ শহরে কোনো সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপাদন এবং এইত মেলোউল শহরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে৷ ফলে গোটা শৃঙ্খলের ক্ষতি হবে৷ তারুদঁ শহরে একটি সেতুর ক্ষতির কুফল গোটা অঞ্চলকে ভোগ করতে হবে৷'' এইত মেলোউল শহরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি গোটা এলাকার তাজা ফলমূল ও শাকসবজি সংগ্রহ করে রপ্তানি করে৷ জোগানদাররা তাদের পণ্য সরবরাহ না করতে পারলে অর্থনীতির ক্ষতি হয়৷ মরক্কোর কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানির ৯০ শতাংশ এখান থেকেই চালিত হয়৷

সুভিনিয়ে-র জলবায়ু বিমা স্কিমের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে৷ নির্দিষ্ট মাত্রায় বৃষ্টি হলে বিমা কোম্পানি টাকা দেবে৷ তাতে ক্ষতির মাত্রাও নথিভূক্ত করতে হবে না৷ এইত মেলোউল শহরের ৪০০ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কথা ভেবে এই স্কিম ভাবা হয়েছে৷ মাক্সিম সুভিনিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সরাসরি কোম্পানিগুলির সঙ্গে কাজ করি না৷ তাদের নাগাল পাওয়া কঠিন৷ আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ ও সংগঠনের সাহায্য ছাড়া নতুন প্রস্তাব দেওয়া বেশ জটিল৷ সে কারণে আমরা আঞ্চলিক বিনিয়োগ কেন্দ্রের মতো সহযোগীর সঙ্গে কাজ করি৷''

স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন৷ একটি কোম্পানি নিজস্ব প্লান্টেশনে উৎপাদিত ফল বাক্সবন্দি করে৷ কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে তাপপ্রবাহ কমলালেবু গাছের জন্য ভালো নয়৷ আবার বন্যা হলে গাছে ছত্রাকের সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে৷ কোম্পানির প্রধান মনে করেন, বর্তমান বিমা স্কিমগুলি সঠিক দিশায় পদক্ষেপ হলেও এখনো ঘাটতি রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘অনেক বিষয় এখনো বিমার আওতায় আসেনি৷ আর লাল ফিতের ফাঁস তো আছেই৷ বিমা থাকলে ক্ষতির কারণ হিসেবে যদি জলবায়ু পরিবর্তন প্রমাণিত হয়, তাহলে কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না৷ কিছু হতে অনেক সময় লাগে৷''

নতুন জলবায়ু বিমা এই পরিস্থিতির উন্নতি করবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ বাণিজ্য চেম্বারে এক কর্মশালায় বিমা কোম্পানি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংঘের প্রতিনিধিরা একত্র হয়েছেন৷ প্রকল্পের সমন্বয়ক মাক্সিম সুভিনিয়ে অবশ্যই রয়েছেন৷ শুধু নতুন বিমা স্কিম সৃষ্টি করাই লক্ষ্য নয়, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে৷

মাবেল গুন্ডলাখ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন