জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাসায়নিক ছাড়াই ফলনশীল বীজ | অন্বেষণ | DW | 08.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাসায়নিক ছাড়াই ফলনশীল বীজ

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে৷ জার্মানির দুই বিজ্ঞানী অরগ্যানিক ভিত্তিতে চাষবাসের নতুন এক পদ্ধতি সৃষ্টি করে এক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখছেন৷

দেখলে সাধারণ খেত মনে হতে পারে বটে, কিন্তু এখানে যে শস্যের ফলন হচ্ছে তা সত্যি বিস্ময়ের কারণ৷সিডফরোয়ার্ড নামের স্টার্টআপকোম্পানির প্রতিষ্ঠাতারা কাজে অগ্রগতি দেখতে এসেছেন৷ বপনের আগে বীজগুলির উপর পরিবেশবান্ধব এক বিশেষ আস্তরণ লাগানো হয়৷ স্বাধীন এক কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে৷ এখনো পর্যন্ত সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে৷ কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়াকব বুসমান বলেন, ‘‘যেমনটা দেখছেন, আমি একটি গোছা তুলে নিলে শিকড়ে অনেক বেশি মাটি লেগে থাকে৷ সেগুলি আলাদা করাও কঠিন৷ আরও ভালোভাবে দেখলে অনেক সূক্ষ্ম শিকড় চোখে পড়বে, যা মাটি ধরে রাখে৷ সঙ্গে বড় মজবুত শিকড়ও রয়েছে৷ মরসুমের এত প্রাথমিক পর্যায়ে এমনটা হলে বিষয়টি সত্যি অভিনব৷''

গবেষণাগারে দীর্ঘ পরীক্ষানিরীক্ষার সুফল মাঠ পর্যায়ে এই সাফল্য এনে দিয়েছে৷ কয়েক বছর ধরে এলকে হাসে জীববিজ্ঞানী হিসেবে সিডফরোয়ার্ড কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন৷ প্রাকৃতিক পুষ্টি ও ‘বায়োলজিকাল্স' নামে পরিচিত মাটির ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করার কাজে তিনিও যুক্ত৷ এর ফলে উদ্ভিদ রাসায়নিক পদার্থ ছাড়াই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে৷ বিজ্ঞানীরা লাইলাক বুশ থেকে শুরু করে আলু পর্যন্ত প্রায় সবরকম বীজ নিয়ে কাজ করেছেন৷ সিডফরোয়ার্ড কোম্পানির কৃষিবিজ্ঞানী ইয়ান রিটার মনে করেন, ‘‘বিষয়টি খুবই কঠিন৷ কোনো নির্দিষ্ট স্তরে অথবা আপনার ব্যবহৃত কোনো উদ্ভিদ বা মাইক্রো অরগ্যানিজমের মধ্যে ঠিক কত পরিমাণ সক্রিয় উপাদান রয়েছে, তার পূর্বাভাষ দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়৷ বিষয়টি অনেকটা প্রাকৃতিক ঔষধির মতো৷''

বীজে রাসায়নিক প্রয়োগ করা অনেক সহজ হলেও বায়োলজিকাল প্রক্রিয়ায় তার তুলনায় অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়৷ উদ্ভিদ অনেক বেশি সবুজ ও স্থিতিশীল হয়, শিকড় আরও মজবুত হয়৷ জীববিজ্ঞানী হিসেবে এলকে হাসে বলেন, ‘‘আমি এত বড় পার্থক্য আশা করিনি৷ ভেবেছিলাম বড়জোর অভ্যন্তরীণ কিছু মানের উন্নতি হবে, যার ফলে পরে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে৷ মোটকথা সামগ্রিক প্রবণতার আশা করেছিলাম৷ কিন্তু কিছু বিষয়ে অভাবনীয় ফল পাওয়া গেছে, যা কখনো ভাবতে পারিনি৷''

ইয়ান রিটার বীজের উপর আবরণের ফর্মুলা সৃষ্টি করেছিলেন৷ তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী ইয়াকব বুসমান-ও তার কম্পোজিশন সম্পর্কে জানেন না৷ গবেষণাগার ও গ্রিনহাউসে পরীক্ষানিরীক্ষার ভিত্তিতে তাঁরা প্রথম পণ্য বাজারে আনেন৷ অরগ্যানিক পদার্থ দিয়ে তৈরি নীল রঙের আস্তরণ শুকনা জলবায়ু সত্ত্বেও ভুট্টার ফলনে উন্নতি আনে৷

এই কোম্পানি এমন কয়েকজন চাষির খোঁজ পেয়েছেন, যাঁরা ভুট্টার নতুন বীজ বপন করতে প্রস্তুত ছিলেন৷ ক্লাউস হিনরিশ্স তাঁদেরই একজন৷ এ বছর তাঁর জমির মাটি আবার বড় শুকনা হয়ে গেছে৷ নতুন ‘ব্লু কর্ন' শুষ্ক পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে, এটাই তাঁর আশা৷ প্রচলিত ভুট্টার তুলনায় এ ক্ষেত্রে কম পানির প্রয়োজন হয়৷ কোনো বিশেষ প্রক্রিয়ারও প্রয়োজন হয় না৷

৬ থেকে ৮ সপ্তাহের পর আস্তরণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই লোপ পায়৷ তার মধ্যেই বীজ এই আস্তরণের সুফল পেয়ে যায়৷ চাষি হিসেবে ক্লাউস হিনরিশ্স এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট৷ তিনি বলেন, ‘‘এখনই ভালো অনুভূতি হচ্ছে, যার মূল্য কম নয়৷ শেষে ফলনও অনেক বেশি হবে৷ তাই বসন্তে বিনিয়োগের ফল হেমন্তকালে পাওয়া যাবে৷''

ইয়ান রিটার ও ইয়াকব বুসমান আফ্রিকায় অনেক সময় কাটিয়েছেন৷ সেখানেই তাঁদের প্রথম আলাপ৷ কঠিন জলবায়ুর পরিবেশে শস্যের ফলন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে তাঁদের গভীর আগ্রহ রয়েছে৷ এই মুহূর্তে তাঁদের পণ্য ইউরোপের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত৷ কিন্তু আফ্রিকার দেশ মালাউই-তে এক সাহায্যকারী সংস্থা তাঁদের ‘ব্লু সিড' পরীক্ষা করছে৷ সবকিছু ঠিকমতো চললে সিডফরোয়ার্ড কোম্পানি আফ্রিকার পরিবেশের জন্য উপযুক্ত বীজ সৃষ্টির কাজে হাত দেবে৷ সিডফরোয়ার্ড কোম্পানির ইয়াকব বুসমান বলেন, ‘‘আমরা তখন স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী রদবদল ঘটাতে পারবো, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সেটি মজুত রাখা যায় এবং তার পানি ধারণের ক্ষমতা বাড়ানো যায়৷ সেই লক্ষ্যে বীজে আরও পদার্থ ঢোকাতে হবে৷ একমাত্র এক্ষেত্রেই রদবদল ঘটাবো৷ আমরা স্থানীয় পর্যায়ে সেটি উৎপাদন করবো এবং মোটেই রপ্তানি করবো না৷''

দুই উদ্যোগপতি বলছেন, ভুট্টা দিয়েই এই যাত্রা সবে শুরু হলো৷ তাঁরা আরও কিছু শস্যের প্রতি নজর দিচ্ছেন৷ বিভিন্ন শাকসবজির বীজের ক্ষেত্রেও তাঁরা বায়োলজিক্যাল্স প্রয়োগ করতে চান৷ তাঁদের সম্পূর্ণ অরগ্যানিক প্রক্রিয়া শুধু মাটির জন্যই ভালো নয়, বিজ্ঞানীদের মতে এর মাধ্যমে চরম শুষ্ক এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি ঘটবে৷

ক্রিস্টিনা ব়্যোডার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন