জলবায়ু পরিবর্তন কিরিবাটির জীবনযাত্রা বদলে দিচ্ছে | বিশ্ব | DW | 18.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জলবায়ু পরিবর্তন কিরিবাটির জীবনযাত্রা বদলে দিচ্ছে

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে কিরিবাটি দ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ উপার্জনের আশায় তরুণ প্রজন্ম বিকল্পের খোঁজ করতে বাধ্য হচ্ছে৷ এক জার্মান জাহাজ কোম্পানি তাদের আশার আলো দেখাচ্ছে৷

বেটিও দ্বীপে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রথম ডাক এলো৷ প্রাতরাশেরও আগে ভোর ৬টায় আধ ঘণ্টা ধরে খেলাধুলা করতে হয়৷ ৫০ বছরেরেও বেশি সময় ধরে তথাকথিত ‘এমটিসি’ চালু রয়েছে৷ এক জার্মান জাহাজ কোম্পানি তার সহ প্রতিষ্ঠাতা৷ রুবেয়াউয়া টাবেলা বলেন, গভীর সমুদ্রে কাজ করতে চান বলেই তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন৷ তিনি প্রথম সারিতেই দাঁড়িয়ে আছেন৷ তবে বাকি শিক্ষানবিসদের মতো তিনি এখানে শুধু একটা সংখ্যা৷ তাঁর পরিচয় ‘এফ ইলেভেন’৷

অ্যাডভেঞ্চারই আসল বিষয়৷ শিক্ষানবিসদের এর আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয় নি৷ তাঁদের আশা, এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কোনো মাছ ধরার জাহাজে কাজ করতে পারবেন৷ অনেকেই এর আগে বিদেশ ভ্রমণ করেন নি৷ কেউ কেউ জার্মান কার্গো বা অন্য জাহাজে কাজের আশা করছেন৷

নাবিকের জীবন নিয়মে বাঁধা৷ প্রশিক্ষণের সময়ও জাহাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়৷ অনেকেরই সেই নিয়ম বেশ কড়া বলে মনে হয়৷ ৬টি জার্মান কোম্পানি মিলে এসপিএমএস নামের যে সংস্থা চালু করেছে, বেশিরভাগ শিক্ষানবিসই সেখানে কাজ করতে চান৷

ক্যাপ্টেন অ্যান্ড্রু হাইনৎসেন সেই সংস্থার কর্ণধার৷ তাঁর মতে, এখানকার ছেলেরা যেহেতু পানির মধ্যেই বড় হয়েছে, এই শিল্পক্ষেত্র তাদের বেশ কদর করবে৷ তবে ভবিষ্যতে মোটা বেতনের চাকুরির পথে প্রায়ই কিছু বাধা থেকে যায়৷ অ্যান্ড্রু বলেন, ‘‘নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলাবোধ একটা বড় সমস্যা৷ নাবিকদের সময় ও ঘড়ির গুরুত্ব বোঝানোও কঠিন কাজ৷ ইউরোপে অথবা সমুদ্রে জাহাজের মধ্যে সময়ের চরিত্র ও ছন্দ একেবারে আলাদা৷ শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যতের নাবিকদের সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে৷’’

শিক্ষানবিস হিসেবে রুবেয়াউয়া ৬ মাস প্রশিক্ষণের পরেই টুনা মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করতে পারেন৷ জাপান এই প্রশিক্ষণে সহায়তা করে৷ ১৮ মাস ধরে সেই শিক্ষাক্রম শেষ করলে নাবিক হওয়া সম্ভব৷ কিন্তু রুবেয়াউয়ার জন্য সেই সময় অত্যন্ত দীর্ঘ৷ ২০ বছর বয়স হলেই তাঁকে পরিবারের ৩টি প্রজন্মের জন্য উপার্জন করতে হবে৷ রুবেয়াউয়া বলেন, ‘‘পরিবারের সঙ্গে আর দেখা না হলে খুবই দুঃখ পাবো৷ কিন্তু এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাবা-মাকে বাঁচানোর সুযোগ পাবো৷ একমাত্র এভাবেই নিজেকে ও বাকিদের সাহায্য করতে পারবো৷’’

এর আগে কখনো আয়ের এই উৎস এত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক মানুষের জীবনের ভিত্তি হুমকির মুখে পড়েছে৷ একমাত্র সমস্যা হলো, শুধু রবিবারই ছুটি পাওয়া যায়৷

রুবেয়াউয়া দক্ষিণ তারাওয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন৷ তাবোনিবারা দ্বীপে নৌকায় করে নিজের বাড়ি যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগে৷ সমুদ্রের দিকে ঢেউ দ্বীপের ভিত্তিতে ধাক্কা দিয়ে চলেছে৷ শুধু লেগুন এখনো হ্রদের মতোই রয়েছে৷ প্রশিক্ষকরাই রুবেয়াউয়া-কে দ্বীপে নামিয়ে দিয়ে গেলেন৷

রুবেয়াউয়া-র পরিবার উপার্জনের জন্য প্রকৃতির উপরই নির্ভর করে৷ রাষ্ট্র শুকনা নারিকেল কিনে নেয় বটে, কিন্তু প্রতি বছর তা থেকে আয় কমে চলেছে৷ পানির তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে চলায় মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে৷ তাঁর বাবা প্রায়ই শুধু সামুদ্রিক ঘাস নিয়ে বাড়ি ফেরেন৷ রুবেয়াউয়ার বাবা বলেন, ‘‘সব বদলে যাচ্ছে৷ কোনো মাছই বেশি ধরতে পারছি না৷ সি ওয়ার্মসও উধাও হয়ে যাচ্ছে৷ চারিদিকে ভূমিক্ষয় চলছে৷ কুয়ার পানি লবণাক্ত হয়ে যাচ্ছে৷ গাছেও খুব কম নারিকেল গজাচ্ছে৷’’

রুবেয়াউয়া বলেন, ‘‘আমার অনুপস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সত্যি দুশ্চিন্তা হচ্ছে৷ সব কিছু বদলে যাবে বলে মনে আশঙ্কা রয়েছে৷’’

কিরিবাটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির অন্যতম৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দারিদ্র্য আরও বাড়ছে৷ পরিবারকে সাহায্য করতে রুবেয়াউয়া শীঘ্রই একটি চাকুরি পাচ্ছেন, যা অন্যদের নেই৷ কিন্তু তার মূল্য কম নয়৷

উভে শ্ভেয়ারিং/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন