জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছেন মালির এক মেয়র | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 01.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছেন মালির এক মেয়র

জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব নিয়ে আর কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই৷ মালির এক জনপদের মেয়র প্রশিক্ষণের পর কার্যত একাই মানুষকে বুঝিয়ে তাদের আচরণ বদলে পরিবেশ সংরক্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ এরই মধ্যে কিছু সাফল্যও পেয়েছেন তিনি৷

বালুর মধ্যে একমাত্র প্রজাপতির চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট আর্দ্রতা রয়েছে৷ তাও আবার মালিতে বর্ষাকাল সবে শেষ হবার পর এই অবস্থা৷ আবদুলায়ে কুলিবালি দেশের দক্ষিণে ফানা জনপদের মেয়র৷ তিনি বলেন, ‘‘দশ বছর আগেও জায়গাটা এমন শুকনো ছিল না৷ সে সময় মানুষ এখানে ধান চাষ করতো৷ আজ তা একেবারেই সম্ভব নয়৷ আর গাছ কাটাও উচিত নয়৷ তাহলে আর কখনো বৃষ্টিও হবে না৷''

কয়েক মাস আগে মেয়র কুলিবালির টেলিফোন বেজে উঠেছিল৷ রাজধানী বামাকো থেকে কেউ একজন তাঁকে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷ তিনি অবশ্যই রাজি হয়েছিলেন৷ কুলিবালি এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেন, ‘‘প্রশিক্ষণের আগেই বহুকাল ধরে আমি জঙ্গল ধ্বংস করার বিপক্ষে ছিলাম৷# তবে প্রশিক্ষণের কল্যাণে এই ধ্বংসলীলার পরিণাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি৷# সেইসঙ্গে প্রকৃতির সুরক্ষার জন্য আরও উদ্যোগ-উদ্দীপনার খোরাক পেয়েছি৷''

মালিতে যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, আবদুলায়ে কুলিবালি তাঁদেরই একজন৷ আজকাল পৌর পরিষদের যে কোনো সভায় জলবায়ু সংরক্ষণের বিষয়টি উঠে আসে৷

ভিডিও দেখুন 06:01

মালির এক মেয়রের গল্প

পানির অভাব

সমস্যার মাত্রা সত্যি বিশাল৷ ফানা জনপদের প্রায় ৩০,০০০ মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই গরিব৷ জমি থেকেই তাদের সামান্য কিছু উপার্জন হয়৷ কার্পাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য৷ কিন্তু তার জন্য অনেক পানির প্রয়োজন৷

প্রতিবেশী দেশ নাইজারের উপর মালি অনেকটাই নির্ভর করে৷ সারা বছর ধরে সেখান থেকে পানি সরবরাহ করা হয়৷ কিন্তু ফানা অঞ্চলের চাষিদের জন্য সেই উৎস অনেক দূরে অবস্থিত৷ ফলে তাঁদের বৃষ্টির উপর নির্ভর করতে হয়৷ কিন্তু বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়ে পড়ার কারণে অনেকে চাষবাস ছেড়ে কাঠকয়লা বিক্রি করছেন৷ আস্ত জঙ্গল কেটে পথের ধারে সাদা বস্তায় পুরে ফেলা হচ্ছে৷ অনেকে রাজপথের ধারে ছোট ছোট স্টল তৈরি করেছেন৷ ফাউলে ফানে তাঁদেরই একজন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা মোটেই মজা করতে কাঠকয়লা বিক্রি করি না৷ জলবায়ু পরিবর্তন যে বাস্তব হয়ে উঠেছে, আমরা তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি৷ কিন্তু কী করবো, আমাদের জমি থেকে কিছুই তো আর পাচ্ছি না৷ # বিকল্প থাকলে এখনি কাঠকয়লার ব্যবসা বন্ধ করে দিতাম৷''

উপার্জনের বিকল্প পথ

মেয়রের প্রশিক্ষণের কল্যাণে অবশ্যই উপার্জনের কিছু বিকল্প পথ খুলে যাচ্ছে৷ তিনি নিজে শেখ মামাদু কুলিবালিকে বোঝাতে পেরেছেন৷ মামাদু সপরিবারে ছোট পরিসরে চাষবাষ করেন৷ পরিবারের হাতে মাত্র দুই হেক্টর জমি রয়েছে৷ গত কয়েক বছরে কম ফসল উঠেছে৷ কিছুকাল আগে শেখ মামাদু চাষের ধরন বদলে ফেলেন৷ এখন তিনি জঙ্গল ধ্বংস না করেই পরিবারের জন্য অন্নসংস্থান করতে পারছেন৷ শেখ মামাদু কুলিবালি বলেন, ‘‘মেয়র আমাদের বুঝিয়েছিলেন, যে কম গাছ মানেই কম বৃষ্টি হবে৷ তাই আমি কাঠকয়লা সংগ্রহের বদলে বরং গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম৷ তাতে আমার ভালই চলে যাচ্ছে৷ আমি আমার নার্সারি থেকে গাছ বিক্রি করছি৷ সেইসঙ্গে ইউক্যালিপটাস গাছ বড় হতে দিচ্ছি, যা পরে নির্মাণের কাঠ হিসেবে বিক্রি করবো৷''

তিনি এরই মধ্যে দশ হাজারেরও বেশি চারাগাছ বিক্রি করেছেন৷ মেয়র নিজে বার বার জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বুঝিয়ে বলায় ফানায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বেড়ে চলেছে৷ আবদুলায়ে কুলিবালি বলেন, ‘‘এখানে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়৷ কারণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি৷''

আশার আলো

মামাদু ফোম্বাও সব ছেড়ে চলে যাবার কথা ভেবেছিলেন৷ তাঁর জমিতে ফসল কমে আসছিল৷ জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের সঙ্গে সঙ্গে বামাকো থেকে বাজরার বীজও এসেছে৷ মাত্র একবার ভালো বৃষ্টি হলেই সেগুলি বেড়ে ওঠে৷ এর ফলে সব কিছু বদলে গেছে৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মামাদু বলেন, ‘‘আগে আমি হেক্টরপ্রতি মাত্র দেড় টন বাজরার ফসল তুলতে পারতাম৷ আজ নতুন বীজের দৌলতে হেক্টরপ্রতি তিন টন উৎপাদন হচ্ছে৷''

তবে মেয়র জানেন, সবে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে৷ সবাইকেই যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে কিছু একটা করতে হবে, ফানার মানুষকে তা বোঝাতে হবে৷ আবদুলায়ে কুলিবালি বলেন, ‘‘অনেক গাছপালা ও অনেক বৃষ্টি ফিরে পেতে সমাজে আরও অনেক মানুষকে জলবায়ুর সুরক্ষার জন্য কাজ করতে হবে৷ আগামী প্রজন্মের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা আমাদের পিতামহদের মতো বাঁচতে পারে৷ আগে গ্রামের প্রান্তেই বন্য জন্তু দেখা যেত৷ ঝোপঝাড় লোপ পাওয়ায় আজ তারা উধাও হয়ে গেছে৷''

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে ফানার মানুষের জীবন আরও দূর্বিষহ হয়ে উঠবে৷ কারণ তখন মরুভূমির থাবা এগিয়ে আসবে৷ মেয়র কুলিবালি তাঁর প্রশিক্ষণের সময় এই হুমকির কথা জানতে পেরেছেন৷

ইয়ুর্গেন শ্নাইডার/এসবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন