জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে কৃষি সমবায় | অন্বেষণ | DW | 23.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে কৃষি সমবায়

কৃষিকাজের উপরেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে৷ জার্মানির এক সমবায় পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নানা রকম পরীক্ষানিরীক্ষা করছে৷ টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷

বিকল্প ধারার কৃষিকাজ

পাখিগুলি জার্মানির রিটার ভ্যার্ডার দ্বীপে আবার ফিরে এসেছে৷ এই সংরক্ষিত এলাকার এমন মাত্রাতিরিক্ত বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, যে অনেক পাখি সেখানে আর বাসা বাঁধে না৷ পক্ষীবিজ্ঞানী টোবিয়াস কাইয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করেন৷ তিনি প্রতিদিন সেই দ্বীপে গিয়ে পাখি ও প্রায় ৬০টি গরুর ভালমন্দ দেখে আসেন৷ টোবিয়াস বলেন, ‘‘আসলে এখানে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও চাষাবাদের নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটছে৷ দ্বীপে গবাদি পশু পালন করা হচ্ছে৷ কিন্তু মাঠে গরু চরতে দিয়ে আমরা প্রকৃতি সংরক্ষণও করছি৷ ফলে পাখিরাও এখানে বংশবৃদ্ধি করে এবং নানা প্রজাতির প্রাণী নিরাপদে থাকতে পারে৷''

গরু চরার কারণে সেই দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার কালো মাথার সামুদ্রিক পাখি ও অন্য অনেক পাখি বংশবৃদ্ধি করে৷ ওয়ার্ডেন হিসেবে ফ্রাংক ইয়ইস্টেন বলেন, ‘‘গরুর গোবরের স্তূপ খুবই কার্যকর, কারণ গরু তার চারিদিকে ঘোরাফেরা করে৷ ফলে গাস আরও ভালোভাবে গজায়৷ তখন গোবরের স্তূপের উপর ঘাসের ঘন গালিচা সৃষ্টি হয়৷ রেডশ্যাংক পাখির প্রজননের জায়গা হয়ে ওঠে৷''

জার্মানির উত্তর-পূর্বের তিনটি খামারের এক সমবায় সেই গবাদি পশুর মালিক৷ এই সমবায় জার্মানির বিভিন্ন প্রান্তে কৃষিজমি কিনে নেয়৷ সমবায়ের সদস্যরা নিজেদের শেয়ারের জন্য এক হাজার ইউরো চাঁদা দেন৷ পক্ষী বিজ্ঞানী টোবিয়াস কাইয়ে জানান, ‘‘সদস্যদের চাঁদা পেয়ে সমবায় হিসেবে আমরা আর্থিক নিরাপত্তার ভরসায় এমন খামার চালাতে পারি৷ বাজার থেকে সেটিকে সরিয়ে নিয়ে এমন চাষিদের দিতে পারি যাঁরা দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে টেকসই পদ্ধতিতে চাষ করতে চান৷''

অরগ্যানিক ও টেকসই পদ্ধতি

মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাষিরা কীটনাশক ও কৃত্রিম সার ব্যবহার করেন না৷ শরৎকালে ফসল তোলার পর ভূমিক্ষয় রুখতে তাঁরা কিছু বিশেষ সবজি চাষ করেন৷ ফলে মাটি আরও উর্বর হয়ে ওঠে৷

প্রচলিত কৃষিকাজে হাইব্রিড বা দোআঁশলা বীজ ব্যবহার করা হয়৷ প্রতি বছর সেই বীজ কিনতে হয়৷ স্টেফান ডেকে এমন ফসল চাষ করেন, যা তার নিজস্ব উর্বর বীজ সৃষ্টি করে৷ সমবায়ের চাষি স্টেফান ডেকে বলেন, ‘‘অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেড়ে ওঠে, এমন ফসল চাই৷ জলবায়ু আরও শুষ্ক ও উষ্ণ হয়ে উঠছে৷ আমরা বড় কোম্পানিগুলির উপর নির্ভরশীল হতে চাই না৷ আমরা নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাই৷''

অরগ্যানিক চাষিরা স্থানীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করেন৷ সেখানে যে আলু চাষ হয়, তা খামারের নিজস্ব দোকান ও কাছের ফুড স্টার্টআপ কোম্পানিগুলিতে বিক্রি হয়৷

স্থানীয় চাহিদার প্রতি মনোযোগ

কাছের একটি শহরে লাঞ্চভেগাস নামের এক স্টার্টআপ কোম্পানি সেই আলু কাজে লাগায়৷ সেখানে কিন্ডারগার্টেন, স্কুল ও সুপারমার্কেটের জন্য ভেগান বা খাঁটি নিরামিষ খাদ্য তৈরি হয়৷ অরগ্যানিক খামারের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে সব পক্ষেরই আখেরে লাভ হচ্ছে৷ কোম্পানির সহ প্রতিষ্ঠাতা গোবিন্দ টালার বলেন, ‘‘আমরা আলুসহ সুকিনি ও কুমড়ার মতো অনেক শাকসবজি কিনতে পারি৷ আমাদের কাছে ব্যবসা আর মুনাফাই সবকিছু নয়৷ টেকসই পদ্ধতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা স্থানীয় পর্যায়ে কেনাকাটা করি, অঞ্চলে কিছু গড়ে তুলতে সাহায্য করি৷''

ট্লাক্সকালি এমফোর নামের এক স্টার্টআপ কোম্পানিগুলি অরগ্যানিক চাষিদেরও নতুন ফসল ফলানোর আইডিয়া দেয়৷ যেমন মেক্সিকোর নীল ভুট্টা৷ ডানিয়েল ম্যোলার অরগ্যানিক ভুট্টার তর্তিয়া তৈরি করেন৷ কোম্পানির সহ প্রতিষ্ঠাতা ডানিয়েল ম্যোলার বলেন, ‘‘নীল তর্তিয়ার বিশাল চাহিদা রয়েছে৷ অবশ্যই আমরা ময়দা কিনতে বা বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে ভুট্টা আনতে চাই না৷ আদর্শগতভাবে এখানেই তা উৎপাদন করতে চাই৷''

পক্ষী বিজ্ঞানী টোবিয়াস কাইয়ে জানান, ‘‘বর্তমানে আমরা দুই হেক্টর জমিতে চাষ করছি৷ সীমিত এক পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে৷ ছোট, বড় পরীক্ষায় ভালো ফসল হয়েছে৷ শুষ্ক বছর সত্ত্বেও শীঘ্রই কিছু ফসল ফলাতে পারবো বলে আশা করছি৷''

উষ্ণতার কারণে নতুন কৃষিপণ্যের চাষ

জার্মানিতে সাধারণত অন্য দেশ থেকে তরমুজ আমদানি করা হয়৷ কিন্তু অরগ্যানিক চাষিরা জার্মানির উত্তর-পূর্বে এক পরীক্ষামূলক খেতে তরমুজ চাষ করছেন৷ বাড়তি সেচ প্রণালীর প্রয়োজন ছাড়াই আগামী কয়েক বছরেও সেই গাছ টিকে থাকলে বড় আকারে উৎপাদন শুরু হবে৷ টোবিয়াস কাইয়ে বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে আমরা আরও শুষ্ক জলবায়ু ও তীব্র গ্রীষ্মের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি৷ এতকাল শুধু দক্ষিণে অনেক ফসলের ফলন হতো৷ এখন আমরাই এখানে তা উৎপাদন করছি৷''

পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে৷ তবে এই চাষিরা একদিন সম্ভবত জার্মানির মাটিতে উৎপাদিত সয়াবিন ও তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন৷

ইওয়ানা গটশাল্ক/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন