জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব সামলাতে অভিনব বিমা | অন্বেষণ | DW | 04.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব সামলাতে অভিনব বিমা

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট লুসিয়া দ্বীপের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পান৷ কৃষক ও জেলেদের সাহায্য করতে জার্মানির সহায়তায় সেখানে এক অভিনব বিমা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে৷

ওয়াল্টার এডউইনের জীবনে মৌমাছিই সবকিছু৷ তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৌমাছি পালন করছেন৷ ভালো মধু উৎপাদন হলে তিনি সস্ত্রীক সংসার চালাতে পারেন৷ কিন্তু সেন্ট লুসিয়া দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় এলে তাঁর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে৷ তাই তিনি জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকির জন্য এক বিমা করিয়েছেন৷ ওয়াল্টার বলেন, ‘‘শেষবার বড় ঝড়ের ২৪ ঘণ্টা পর বিমা কোম্পানি আমাকে ফোন করে ক্ষতিপূরণের খবর জানিয়েছিল৷ সেই টাকা আমার খুব কাজে লেগেছে৷ তা দিয়ে মৌমাছি ও নিজের দেখাশোনা করতে পেরেছি৷''

মধু উৎপাদনকারী হিসেবে তিনি প্রায় ৩০ ইউরো অঙ্কের ন্যূনতম মাসুল দেন৷ ফলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৩০০ ইউরো পর্যন্ত পেতে পারেন৷ সেই টাকা দিয়ে ওয়াল্টার বিশেষ সিরাপ কিনে বিপর্যয়ের পর মৌমাছিদের আবার চাঙ্গা করতে চান৷ তবে ঘনঘন দেখা দিলেও শুধু ক্রান্তীয় অঞ্চলের ঝড় তাঁর একমাত্র সমস্যা নয়৷ আবহাওয়া খামখেয়ালি হয়ে পড়ায় মৌমাছিদের পক্ষে নেকটার বা মৌ-রস সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে৷

ভিডিও দেখুন 05:42

জার্মানির সহায়তায় ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে বিমা ব্যবস্থা

এই মুহূর্তে সেন্ট লুসিয়া দ্বীপে শুকনা মরসুম চলছে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও ঘনঘন বৃষ্টি হচ্ছে৷ ফলে মধু উৎপাদনও কমে গেছে৷ দ্বীপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হলো কলা৷ কিন্তু সেই প্লান্টেশনও বার বার খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হচ্ছে৷ ভিনসেন্ট নর্বার্ট প্রবল বৃষ্টিপাতকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান, কারণ তাঁর খেত এর ফলে একবার বানে ভেসে গিয়েছিল৷ সব কলা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল৷ তাই তিনি চাষি হিসেবে ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ অঙ্কের বিমা করিয়েছেন৷ প্রায় ৩,০০০ ইউরোর ক্ষতিপূরণ পেতে তাঁকে বছরে প্রায় ৩০০ ইউরো মাসুল দিতে হয়৷ ভিনসেন্ট বলেন, ‘‘যে অঙ্কই হাতে পাই না কেন, নতুন করে শুরু করতে সুবিধা হয়৷ আবহাওয়া বিপর্যয়ের পর নতুন করে খেত সাজাতে হয়৷ এই বিমা না থাকলে ব্যাংকে গিয়ে মোটা টাকার ঋণ নিতে হতো৷ কিন্তু ব্যাংক সাধারণত এই কাজে টাকা দেয় না৷ কৃষিকাজ ঝুঁকিপূর্ণ বলে ব্যাংক তা পছন্দ করে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

জার্মানির সরকার সেন্ট লুসিয়া দ্বীপে পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের অর্থায়ন করছে৷ আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংরক্ষণ উদ্যোগ তহবিল থেকে সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞদের এক দল পরিদর্শন করতে এসে চাষিদের অভিজ্ঞতা ও পরিষেবা আরও উন্নতির লক্ষ্যে তাঁদের পরামর্শ শুনছে৷

এই বিমা কাঠামোর অভিনব বৈশিষ্ট্য হলো, শুধুমাত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক স্থির করা হয়৷ মিউনিখ জলবায়ু বিমা উদ্যোগের প্রতিনিধি জেনিফার ফিলিপ্স বলেন, ‘‘বাড়িতে এসে কেউ ক্ষতির পরিমাণ পরখ করে দেখে না৷ প্রবল বৃষ্টিপাত বা ঝড় হলে আপনার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে৷ আমরা চাই ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত মানুষের হাতে পৌঁছে যাক৷ ফলে ঝড় শেষ হলেই তারা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে পারে৷''

এক বিমা এজেন্ট নতুন গ্রাহক খুঁজছেন৷ তিনি জোর দিয়ে বলছেন, যে কোনো পেশার মানুষ বিমা করাতে পারেন৷ প্রবল বৃষ্টিপাত বা ঝড় হলেই ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে আসবে৷ অনেকের মনে সংশয় রয়েছে৷ খারাপ আবহাওয়া হলেই টাকা! শুনে বিশ্বাস করতে মন চায় না৷

প্রচারের অনুষ্ঠানের পর জেলেরা আবার কাজে ফিরছেন৷ তাঁরা প্রতিদিনই জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব হাতেনাতে টের পান৷ কারণ তাঁদের জালে মাছের পরিমাণ কমে চলেছে৷ তার জন্য সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড় দায়ী৷ তাঁদেরই একজন অ্যালফ্রেড গেনচারেস৷ তিনি বলেন, ‘‘কখনো কখনো আমাদের মারাত্মক ক্ষতি হয়৷ একটি ঘূর্ণিঝড়ে আমার নৌকো বেঁকে গেছে এবং মাছ ধরার জাল নষ্ট হয়ে গেছে৷ সরকার আর আমাদের সাহায্য করে না৷ নিজের কিছু সঞ্চয় থাকলে তবেই বিনিয়োগ করা যায়৷ কিন্তু প্রায়ই হাতে টাকা থাকে না৷''

বিমা থাক বা না থাক – তারপরেও কিছু থেমে থাকে না৷ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ঝুঁকিতে ভরা৷ কিন্তু একটি বিষয় সম্পর্কে সবাই নিশ্চিত৷ পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় অবশ্যই আসছে৷

মিশায়েল আল্টেনহেনে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন