জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড: ইউরোপে কৃষ্ণাঙ্গ জীবন | বিশ্ব | DW | 02.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বর্ণবাদ

জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড: ইউরোপে কৃষ্ণাঙ্গ জীবন

জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড ঘিরে অ্যামেরিকা বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে৷ ইউরোপে কেমন আছে কৃষ্ণাঙ্গরা৷ অ্যামেরিকা থেকে ভালো, নাকি এখানেও তাদের বর্ণবাদের শিকার হতে হচ্ছে৷

ডয়চে ভেলের সংবাদকর্মী শিপন্দে চিম্বালু নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে ইউরোপে জীবনযাপনে চিত্র তুলে ধরেছেন৷

‘‘আমি জার্মানিতে বসবাস করি মানে এই নয় যে আমি শান্তিতে আছি,’’ বলেন চিম্বালু৷

গত ২৫ মে যুক্তরাজ্যের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে পুলিশি নির্যাতনে মারা যান ৪৬ বছরের জর্জ ফ্লয়েড৷ যিনি হিউস্টনে একটি বারে বাউন্সার হিসেবে কাজ করতেন৷ কিন্তু করোনা সংকটে বারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছিলেন ফ্লয়েড৷

ঘটনার সূত্রপাত একটি খাবারের দোকান থেকে৷ দোকানের কর্মচারীরা ৯১১ এ কল করে অভিযোগ করেন, এক ক্রেতা সিগারেট কেনার পর জাল নোট দিয়েছে৷ পুলিশ এসে ওই অভিযোগে ৪৬ বছর বয়সি জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করে৷

ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর অনেক বন্ধু ও পরিচিত জন বর্ণবিদ্বেষের কারণে হত্যা নিয়ে চিম্বালুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের ক্ষোভের কথা জানান৷

চিম্বালু বলেন, তারা তাদের অনুভূতির কথা আমাকে জানায়৷ কেউ কেউ জানায় তারা আমার পাশে আছে৷ তবে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ম্যাসেজে আমার চোখ আটকে যায়৷ এক জার্মান বন্ধু আমাকে লিখেছে৷ ‘এই মুহূর্তে তুমি অ্যামেরিকায় নেই, সেজন্য কি তুমি খুশি? সেখানে এখন যা হচ্ছে সেটা সত্যি দুঃখজনক৷’

‘‘আমি পুরো একদিন ভেবে তার ম্যাসেজের উত্তর দেই৷ জার্মানিতে আছি বলেই স্বস্তিতে আছি, বিষয়টা এমন নয়৷ আমি হতাশ, আমি বিধ্বস্ত৷ বছরের পর বছর ধরে কৃষ্ণাঙ্গরা অ্যামেরিকা ও ইউরোপে সহিংসতার শিকার হচ্ছে৷  এমনকি পুলিশের কাছেও তারা নিরাপদ নয় এর একমাত্র কারণ তারা কালো৷ তাই আমাদের জন্য জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড বড় সতর্কবার্তা- বর্ণবিদ্বেষ কখনো কখনো মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়৷’’

পশ্চিমা দেশগুলোতেও আছে বিরোধী বর্ণবিদ্বেষ:

২০১১ সালে পুলিশের গুলিতে মার্ক ডুগান নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় লন্ডন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল৷

২০০৫ সালে বুনা তাওহে ও জিয়েঁদ বিনা নামের দুই কিশোর পুলিশের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে একটি সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা পড়ে৷ যে ঘটনার জেরে পুরো ফ্রান্সে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল৷ ওই বছরই জার্মানির ডেসাউয়ে পুলিশ সেলে গুলিতে সিয়েরা লিওনের শরণার্থী ওউরি জালহ মারা যায়৷

অ্যামেরিকার গত কয়েক বছরে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে অনেক ইউরোপীয় হয়তো সহজেই ভেবে নিচ্ছে, এখানে কৃষ্ণাঙ্গরা ভালো আছে৷ কিন্তু সত্যি হচ্ছে, এই বিলাসিতা এখানেও নেই৷ এখানেও তাদের বর্ণবাদের শিকার হতে হয়৷ হয়তো অ্যামেরিকার মত পুলিশি নির্যাতনের খবর এখানে সংবাদের শিরোনাম হয় না৷ কিন্তু ইউরোপের বেশিরভাগ মানুষের কৃষ্ণাঙ্গ সম্পর্ক ধারণা দাসত্ব ও উপনিবেশবাদের আমলেই আটকে আছে৷

ইউরোপকে বর্ণবিদ্বেষ স্বীকার করতে হবে:

শুধু জার্মানিকে দিয়ে পুরো ইউরোপ বিচার করলে হবে না৷  ইউরোপের অন্যান্য দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে সচেতনতার অভাব আছে৷ শুধু গায়ের রঙের কারণে কিভাবে মানুষকে প্রতিদিন বৈষম্যের শিকার হতে হয় তার কোনো তথ্য যদিও জমা হয় না৷ তাই এ সম্পর্ক স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব না৷

তাই অ্যামেরিকায় এখন যেটা চলছে সেটা দেখে ইউরোপীয়দের ভাবার অবকাশ নেই যে এখানে কৃষ্ণাঙ্গরা ভালো আছে৷ শুধু গ্রিসের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়৷ তার শরণার্থীদের সঙ্গে কতটা অমানবিক আচরণ করছে৷

কালো রঙের কারণে বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ এবং আফ্রিকানদের সব জায়গায় কর্তৃপক্ষের হাতে ও সমাজে প্রতিপদে প্রতিনিয়ত ভুগতে হয়৷

শিপন্দে চিম্বালু/এসএনএল

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়