জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ প্রত্যাহারের দাবি, চলছে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 04.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ প্রত্যাহারের দাবি, চলছে বিতর্ক

বিজয়া দশমীর ভাষণে মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ আরএসএসের প্রধান জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের ‘বিশেষ মর্যাদা’ রদ করতে সংবিধান সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন৷ এ নিয়ে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক৷

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত

বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে বিজেপির তাত্ত্বিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত মোদী সরকারের তিন বছরের কাজের মূল্যায়নের পাশাপাশি দু-একটি স্পর্শকাতর ইস্যু তুলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, অবশিষ্ট ভারতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ সংহতির জন্য অবিলম্বে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন জরুরি৷ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে আর সংবিধানের ৩৫(এ) অনুচ্ছেদে রাজ্যের স্থায়ী নাগরিকদের বিশেষ সুবিধা দেবার কথা বলা হয়েছে৷ এসব সংস্থান রদ করে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের বাকি অংশের মতো একই সুযোগ-সুবিধা দেবার জন্য মোদী সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে সংঘ-পরিবার৷ মোহন ভাগবতের মতে, এটা করতে পারলেই জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে মিলে- মিশে যাবে সহজেই৷ আরএসএস প্রধানের কথায়, ১৯৪৭ সালে পাক-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে চলে আসা উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমনি ৯০-এর দশকে বাধ্য হয়ে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে চলে আসা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সমস্যাও রয়েছে৷ তাঁদের পুনর্বাসনের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ৷ রাজ্যের তিনটি অ়ঞ্চল জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখের জন্য একই মাপের উন্নয়ন৷ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংঘ পরিবার মোদী সরকারের সঙ্গে গলা মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়েছে৷ আরএসএস মনে করে, রোহিঙ্গারা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বিপদের কারণ৷ কাজেই তাঁদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো দরকার৷ মানবিকতার খাতিরে দেশের মানুষের বিপদ ডেকে আনা কাজের কথা নয়৷

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার বিষয়ে আরএসএসের নীতি অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল ন্যাশনাল কনফারেন্স৷ তাদের মতে, বিজেপি রাজ্যের শাসকদল পিডিপির জোটসঙ্গী হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এখনও চুপচাপ আছেন৷ ন্যাশনাল কনফারেন্সের রাজ্য মুখপাত্র জুনেদ আজিম মাট্টু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাই বাকি ভারতের সঙ্গে একমাত্র সাংবিধানিক সেতুবন্ধ৷ আরএসএস প্রধানের উচিত হবে দেশের আর্থিক মন্থরতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত না করা এবং জনগণের আবেগে সুড়সুড়ি না দেওয়া৷ রাজ্যে যখন পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার গঠন করা হয়, তখন পরিষ্কার সমঝোতা হয়েছিল যে, সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫(এ) অনুচ্ছেদে হাত লাগানো হবে না৷ এখন সেই পিডিপি মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির এই আত্মসমর্পণ বিশেষ উদ্বেগের কারণ৷ রাজ্যকে এভাবে বিজেপির হাতে বিকিয়ে দেওয়ার পরিণাম হবে মারাত্মক এবং সুদূরপ্রসারী৷ জুনেদ আজিম মাট্টুর মতে, মেহবুবা মুফতির উচিত এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো৷ জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা আলোচনাযোগ্য নয়৷

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে বললেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করতে সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫(এ) ধারা পরিবর্তনের দাবি বিজেপি-আরএসএসের পুরানো অ্যাজেন্ডা৷ এখন তো আএসএস আরো আগ্রাসী হতে চায়, কারণ, বিজেপি এখন বেকায়দায়৷ অর্থনৈতিক সংকটের সন্মুখীন৷ তাই আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের হালের কয়েকটি নির্বাচনে বেহাল অবস্থা৷

অডিও শুনুন 02:32

‘আরএসএস পরিবারের একটাই অ্যাজেন্ডা, কিভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তাপ ছড়ানো যায়’

এখন আরএসএস বা সংঘ পরিবারের একটাই অ্যাজেন্ডা, কিভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তাপ ছড়ানো যায়, যেটা ওদের মূল নীতির ভিত্তি৷ কথা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের চেষ্টা করলে রাজ্যে বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার ভেঙে যাবে৷ বিজেপি অবশ্যই বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে এই রকম একটা ঝটকা লাগুক সেটা চাইবে না৷ কাজেই এই অ্যাজেন্ডা থেকে যাবে অ্যাজেন্ডাতেই৷ কার্যকর হবে না৷ এটা শুধু উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য আরএসএসের কৌশলমাত্র৷ সমর্থনের মূল ভিত্তি ধরে রাখতে মুসলিমবিরোধিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য৷ যেমন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপির সঙ্গে একই মেরুতে দাঁড়িয়েছে সংঘপরিবার৷  রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলী ডয়চে ভেলেকে আরো বললেন, আরএসএস চায়, ইসরায়েলের ভূখন্ডে ফিলিস্তিনিদের বসতি স্থাপনের মতো কাশ্মীরে ঘরছাড়া হিন্দু পণ্ডিতদের জন্য অনরূপ একটা ব্যবস্থা৷ সেটা এখানে হবে না৷ কাশ্মিরী পণ্ডিতরাই সেটা চাইবে না৷ ঘরছাড়া কাশ্মিরী পণ্ডিতরা চাইবে আগের মতো স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে মিলেমিশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে৷ আরএসএস চায় একটা আলাদা জায়গা৷ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া, পুলিশের পাহারা দেওয়া একটা আলাদা জায়গা৷ সেটা সম্ভব নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন