জন্মনিয়ন্ত্রণে রোল মডেল বাংলাদেশ: জার্মান মন্ত্রী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

জন্মনিয়ন্ত্রণে রোল মডেল বাংলাদেশ: জার্মান মন্ত্রী

জন্মনিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন জার্মান উন্নয়নমন্ত্রী গ্যার্ড ম্যুলার৷ এই সাফল্য থেকে আফ্রিকা শিক্ষা নিতে পারে বলেও মনে করেন তিনি৷ কিন্তু কিভাবে এলো এ সাফল্য?

জার্মান রেডিও ডয়েচলান্ডফুঙ্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আফ্রিকায় জনসংখ্যার বিস্ফোরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ম্যুলার৷ এসময় নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশু স্বাস্থ্যে জোর দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি৷

জন্মহার কমিয়ে আনায় বাংলাদেশের দুর্দান্ত সাফল্যের কথা এসময় উল্লেখ করেন তিনি৷ গত পাঁচ দশক ধরে ১৬ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি৷

ম্যুলার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ৫০ বছরে নারীদের সন্তান জন্মদানের হার মাথাপিছু সাত থেকে দুই দশমিক একে নামিয়ে এনেছে৷ এই হার প্রায় ইউরোপের সমান৷ নারীর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সম অধিকার এবং নারীশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিশাল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে৷''

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যায় লাগাম টানতে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনার নানা প্রকল্প হাতে নেয়৷ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিটি মানুষের সচেতনতা বাড়াতে কাজ শুরু করে সরকার৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনমিতি বিভাগের অধ্যাপক আমিনুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পরিবার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাপক হারে বিনিয়োগ করেছে৷ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে যেকোনো দম্পতি পরিবার পরিকল্পনার তথ্য পেতে পারেন৷''

বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশে নারীদের সন্তান জন্মদানের হার ১৯৭১ সালে ছয় দশমিক নয় থেকে ২০১৭ সালে দুই দশমিক শূন্য ছয়ে নেমে এসেছে৷

অসাধ্য সাধন

১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ৯০ শতাংশেরও বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বী৷ রক্ষণশীল এ দেশে ১৯৭০ এবং ৮০ এর দশকে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিবাহিত নারীদের সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলা খুবই দুরুহ কাজ ছিল৷ কিশোরগঞ্জে মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের তখন ধর্মীয় নেতাদের বাধার সম্মুখীন হতে হতো৷ পরিবারের পুরুষেরা আমাদের কাছ থেকে নারীদের দূরে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করতেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু এরপর সরকার হিন্দু, মুসলিম এবং অন্য ধর্মের নেতাদেরও পরিবার পরিকল্পনায় শিক্ষা দেয়া শুরু করলো, তাদেরকেও এই ক্যাম্পেইনে যুক্ত করা শুরু করলো৷ এক পর্যায়ে তারাও ছোট পরিবারের ভালো দিকগুলো বুঝতে শুরু করলেন৷'' শিক্ষার প্রসারকেও এক্ষেত্রে বড় সহায়ক বলে মনে করেন সাইদুর৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেল এক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রেখেছে৷ যেসব জায়গায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরাও পৌঁছাতে পারেননি, সেখানেও নানা ধরনের প্রচার চালিয়ে কম সন্তান নেয়ার ভালো দিকগুলো তুলে ধরেছে গণমাধ্যম৷

পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতির ফলে ধীরে ধীরে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে৷ এর ফলে, নানা রোগে সন্তানের মৃত্যুর আশঙ্কা কমে যাওয়ায় কম সন্তান নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছে পরিবারগুলো৷

বিনামূল্যে জন্মনিরোধক

দশকের পর দশক ধরে নারীদের বিনামূল্যে জন্মনিরোধক দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার৷ নিয়মিত জন্ম নিরোধক বড়ি বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে৷ তবে পুরুষদের মধ্যে এখনও জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণে বেশ অনাগ্রহ রয়েছে৷

সাইদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘৪০ শতাংশেরও বেশি নারী নিয়মিত বড়ি সেবন করেন৷ অন্য প্রক্রিয়ার চেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকায় এটিই নারীরা বেশি পছন্দ করেন৷''

নারীদের আরো উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের নানা ধরনের সহযোগিতার কথাও জানান সাইদুর৷ ‘‘যারা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা নিতে চান, তাদের নিরোধক ও স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি বিনামূল্যেই দেয়া হয়৷ পাশাপাশি আমরা প্রয়োজনে তাদের অর্থ সহায়তা ও উপহারও দিয়ে থাকি৷

গ্রামের নারীদের সচেতনতাও এখন অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে সাইদুর জানান, ‘‘অনেক রক্ষণশীল পরিবারের নারী তাদের স্বামীকে না জানিয়েই জন্ম নিরোধক বড়ি সেবন করে থাকেন৷''

পরবর্তী পরিকল্পনা

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ জার্মান মন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ বাংলাদেশ যেকোনো দেশকে এ বিষয়ে সহায়তা করতে রাজী বলেও জানান তিনি৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে জন্মহার দুইয়ে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের৷

কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলছেন, গত কয়েক বছরে এই প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর লয়ে চলছে৷ তিনি বলেন, ‘‘বিশাল সাফল্যের পর আমরা আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগছি৷ আমাদের সার্বিক কার্যক্রমের গতি কমে গেছে৷ ২০২১ সালের লক্ষ্যে পৌঁছুতে আমাদের কাজে গতি বাড়াতে হবে৷''

আরাফাতুল ইসলাম/এডিকে/কেএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন