জঞ্জাল যখন আয়ের উৎস | অন্বেষণ | DW | 04.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জঞ্জাল যখন আয়ের উৎস

ইন্দোনেশিয়ার বান্ডুং শহরে জঞ্জাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অভিনব এক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷ জঞ্জাল সংগ্রহের জন্য মাসুল দেবার বদলে সাধারণ মানুষ বরং জঞ্জাল বিক্রি করে কিছু অর্থ আয় করতে পারছেন৷

ইন্দোনেশিয়ায় জঞ্জালের সমস্যা সত্যি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার পরিণতি গোটা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক৷ আশি শতাংশেরও বেশি আবর্জনা নির্বিচারে হয় খোলা আকাশের নীচে ইনসিনারেটর বা চুল্লিতে পোড়ানো হয় অথবা উপচে পড়া স্তূপ, খাল বা নদীতে জমা হয়৷

ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৩২ লক্ষ টন জঞ্জাল ভারত মহাসাগরে ফেলা হয়৷ গোটা বিশ্বে একমাত্র চীন আরো বেশি পরিমাণ জঞ্জাল সমুদ্রে ফেলে৷ তার উপর অস্ট্রেলিয়া, উত্তর অ্যামেরিকা ও ইউরোপ থেকে বেআইনি জঞ্জাল রপ্তানি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে৷ ২০১৯ সালে ইন্দোনেশিয়ায় প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব ছিল অতি সামান্য৷

কার্যত জঞ্জাল সংগ্রহের কোনো অবকাঠামো না থাকার কারণে সাধারণ মানুষকেই এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়৷ জঞ্জাল কুড়ানিরা আবর্জনার স্তূপে গিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পদার্থের খোঁজ করে৷ সামান্য আয়ের তাগিদে তারাই কিছুটা রিসাইক্লিং করতে পারে, যে দায়িত্ব আসলে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেওয়া উচিত ছিল৷

ভিডিও দেখুন 04:01

ইন্দোনেশিয়ায় আবর্জনা সংগ্রহের ব্যাংক

রিসাইক্লিং-এর ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷ ২০১৪ সাল থেকে বান্ডুং শহরে ‘বাংক সাম্পা বেরসিনার' নামের প্রতিষ্ঠান এক রিসাইক্লিং ব্যাংক চালু করেছে৷ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাসার জঞ্জাল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ নির্দিষ্ট সময়ে এক গাড়ি এসে জঞ্জালের ওজন মেপে সঙ্গে সঙ্গে রসিদ কেটে সেই জঞ্জাল মূল সংগ্রহের জায়গায় নিয়ে যায়৷

শহরের অনেক বাসিন্দার জন্য এই উদ্যোগ শুধু জঞ্জাল দূর করা পরিচ্ছন্ন উপায় নয়, সেইসঙ্গে জঞ্জাল বিক্রি করে পকেটে কিছু বাড়তি পয়সাও আসে৷

বাংক সাম্পা বেরসিনার সব মানুষের দোরগড়া থেকে জঞ্জাল তুলে নেবার ব্রত নিয়েছে৷ বিশেষ এক পয়েন্ট প্রণালীর ভিত্তিতে জঞ্জালের বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়া হয়৷ একশ'রও বেশি ধরনের জঞ্জাল এভাবে গ্রহণ করা হয়৷ তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই সব উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হয়৷ জন সামুয়েল এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা৷ সমাজের উপর এই কোম্পানির প্রভাব সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত গর্বিত৷ জন বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এমন জঞ্জাল সংগ্রহ করি৷ এই আবর্জনা ব্যাংকের জন্য প্রচারের সময় তারা গোষ্ঠী তৈরি করেছিল৷ তাদের আমরা নির্দিষ্ট ধরনের জঞ্জাল সংগ্রহ করতে বলেছিলাম৷ আমরা তাদের প্লাস্টিক, কাগজ, ধাতু – এমনকি কাচের মতো জঞ্জাল সংগ্রহ করতে বলেছিলাম৷''

প্লাস্টিকের বোতল দুমড়ে মুচড়ে স্থানীয় কাপড়ের কারখানায় পলিয়েস্টার তৈরির কাজে লাগানো হয়৷ দশ কিলো প্লাস্টিকের বোতল বস্তার মধ্যে থাকলে দেড় ঘন মিটার জায়গা দখল করতো৷ সেই পরিমাণ জঞ্জাল প্রায় নিশ্চিতভাবে সমুদ্রে গিয়ে পড়তো৷ জন সামুয়েল মনে করেন, ‘‘কখনো মানুষের সামনে জঞ্জাল দূর করার পথ থাকে না৷ তখন তারা জানে না কী করা উচিত৷ এমন অবস্থায় কাছে নদী থাকলে সেখানেই তারা জঞ্জাল ফেলে দেয়৷''

বাংক সাম্পা বেরসিনার-এর সাফল্য দেখে কিছুকাল পরে একই রকম আরো উদ্যোগ শুরু হয়৷ শুধু বান্ডুং শহরেই আরো প্রায় এক ডজন এমন প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে৷ এখনো তার ফলে বিশাল পরিবর্তন না এলেও জঞ্জালের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রত্যেক প্রচেষ্টাই কিছু পরিবর্তন আনতে পারে বৈকি৷ 

টোমাস কুলিক/এসবি

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন