জঙ্গি আস্তানা থেকে সাত দগ্ধ মরদেহের খুলি উদ্ধার | বিশ্ব | DW | 06.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

জঙ্গি আস্তানা থেকে সাত দগ্ধ মরদেহের খুলি উদ্ধার

মিরপুরের মাজার রোডে ঘিরে রাখা জঙ্গি আস্তানা থেকে সাত জনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া গেছে৷ বিস্ফোরণের ঘটনার পর সকাল থেকে তল্লাশি চালিয়ে এই মরদেহগুলো পাওয়া যায় বলে র‍্যাব জানিয়েছে৷

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বিকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘ছয়তলা ভবনটির নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্চম তলা পর্যন্ত পৌঁছেছেন র‌্যাব সদস্যরা৷’’

তিনি বলেন, জঙ্গি আবদুল্লাহ যে বাসায় ছিল, সেখানে মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে৷ সাতটি স্কাল (খুলি) দেখে আমরা মনে করছি, সাত জনের লাশ রয়েছে সেখানে৷ এর মধ্যে সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহও আছেন৷’’

এর আগে দুপুরে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান তিনটি দগ্ধ মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন৷ সেই সময় তিনি জানান, ভবনটির পঞ্চম তলার একটি কক্ষে তিনটি মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ তবে দেহগুলো খুব বেশি দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে গতকাল রাতের বিস্ফোরণে তারা মারা গেছে৷ আমাদের অভিযান চলছে৷’’

‘‘আমরা ছয়তলা ভবনটির নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্চম তলায় পৌঁছেছি৷ জঙ্গি আবদুল্লাহ যে বাসায় ছিল তার একটি কক্ষ আমরা খুলেছি৷ সেখানে তিনটি পোড়া মরদেহ দেখা গেছে৷ নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না৷’’

আবদুল্লাহ নামের সন্দেহভাজন ওই জঙ্গির সঙ্গে পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজন পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটে ছিল বলে আগের দিনই র‌্যাবের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল৷

দৈনিক প্রথম আলো র‍্যাব-৪-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আউয়ালের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জঙ্গি আবদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়৷ তার বাবা ইউসুফ আলী অনেক আগেই মারা গেছেন৷ ওই আস্তানায় আবদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর দুই স্ত্রী ফাতেমা ও নাসরিন ছিলেন৷ ছিল দুই শিশু ওসামা ও ওমর৷ সঙ্গে আবদুল্লাহর দুই সহযোগীও ছিলেন৷ তিনি জানান, আবদুল্লাহর চুয়াডাঙ্গার বাড়ি থেকে তার বোন মেহেরুন্নেসা মেরিনাকে আটক করে র‍্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে৷

আগের দিনের মতো বুধবার সকালেও ওই আস্তানার আশপাশে কড়া অবস্থান নেয় র‍্যাব৷ অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে গাবতলীর দিক থেকে ওই এলাকায় যাওয়ার পথও বন্ধ রাখা হয়৷ সকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ও র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ওই এলাকা পরিদর্শন করেন৷

সকালে ওই ভবনে তল্লাশি শুরু করে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা৷ মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙা দেয়ালের গলিতে এক প্রবাসীর মালিকানাধীন ছয় তলা ওই ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে নেয় র‌্যাব৷ মঙ্গলবার ভোরেই ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷

র‌্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জঙ্গিবাদে জড়িত৷ মিরপুর মাজার রোডের দীর্ঘদিনের এই বাসিন্দা ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করতেন৷ মঙ্গলবার দিনভর র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা চলে৷ সন্ধ্যায় জানানো হয়, আবদুল্লাহ রাজি হয়েছেন এবং তিনি রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন৷ কিন্তু সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি র‌্যাব সদস্যদের আরও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখেন এবং রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে৷ ফ্ল্যাটে আগুনও ধরে যায়৷

পরে র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন৷

এর আগে, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন রাতে মিরপুরে ‘কমল প্রভা’ নামের বাড়িটি ঘেরাও করে র‍্যাব৷ 

এএম/এসিবি

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন