জঙ্গিরা কি আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে? | বিষয় | DW | 27.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

জঙ্গিরা কি আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

সম্প্রতি পুলিশ সদর থেকে সারাদেশে পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি দিয়ে জঙ্গি হামলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি হামলাকারীদের বয়স, হামলার সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এই চিঠির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে জঙ্গিরা কি আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এতো তৎপরতার মধ্যেও কিভাবে জঙ্গিরা সঞ্চয় করলো এত শক্তি?

পুলিশ সদর থেকে পাঠানো চিঠিতে দেশের যে কোনো স্থানে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত' ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী সাধারণত কোনো সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই উলায়াত ঘোষণা করা হয়। তাই আইএস সংগঠনগুলোর সদস্যরা বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। 

অডিও শুনুন 03:16

‘‘আমাদের তৎপরতা অব্যহত আছে’’

পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বেঙ্গল উলায়াত বলতে সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখা বোঝানো হয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি, গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের সদস্যদের উজ্জীবিত করতে তারা এ ধরনের শাখা ঘোষণা করে থাকে। আরবি জিলহজ মাসে হামলা করাকে জঙ্গিরা বিশ্বব্যাপী অধিকতর পুণ্যের কাজ বলে মনে করে। তাই এই মাসে সব সময়ই হামলার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। মাসটি ঘিরে তাই সব সময়ই পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এই চিঠির অর্থ এই নয় যে, এখনই হামলা হবে? এটা একটা নিয়মিত কার্যক্রম। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের তৎপরতা অব্যহত আছে।”

গত ১৯ জুলাই পুলিশ সদর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সকাল ৬টা থেকে ৮টা বা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে হামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পুলিশ সদস্য, পুলিশের স্থাপনা ও যানবাহন, বিমানবন্দর, দূতাবাস, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও মিয়ানমার বা এসব দেশের স্থাপনা ও ব্যক্তি এবং শিয়া ও আহমদিয়া মসজিদ, মাজারকেন্দ্রিক মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও প্যাগোডাকে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীর সম্ভাব্য বয়স হবে ১৫ থেকে ৩০ বছর। হাতে তৈরি সময় নিয়ন্ত্রিত কিংবা দূরনিয়ন্ত্রিত গ্রেনেড, বোমা, ক্ষুদ্রাস্ত্র কিংবা ছুরি-চাপাতি দিয়ে হামলা হতে পারে। জঙ্গিরা পুলিশের পোশাক পরে তাদের স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারে। তাই পোশাক পরা থাকলেও পুলিশ সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, "সদর দফতর থেকে যে চিঠি এসেছে, সেটা না এলেও আমরা সব সময়ই সতর্ক থাকি। আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম থাকে। এখন পুলিশ সদর দফতর থেকে বিষয়টি আমাদের অবহিত করায় কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "পুলিশ সদর থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেটা আমার মনে হয় নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। নিশ্চয়ই তাদের কাছে কোন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। আবার এমনও হতে পারে, বিশ্লেষণে যেটা দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু সময়ে জঙ্গিরা হামলা করে। সেই প্রেক্ষাপটেও এমন চিঠি হতে পারে। তবে এখন বাংলাদেশে জঙ্গিরা খুব ভালো অবস্থানে নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু কার্যক্রম চললেও বড় ধরনের হামলার তেমন কোন সক্ষমতা নেই। ফলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু আমি দেখি না।”

গুলশানে জঙ্গিহামলার সময় ২০১৬ সালে পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন এ কে এম শহীদুল হক। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "জঙ্গি বিরোধী অভিযান ঢাক-ঢোল পিটিয়ে হয় না। এর জন্য শত শত কর্মকর্তাও লাগে না। নির্ধারিত কিছু কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ দিলেই হয়। আমি তখন একটার পর একটা অভিযান চালিয়েছি, বহু জঙ্গি মারা গেছে, কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছে। তখন কিন্তু এমন কোন নির্দেশনার চিঠি মিডিয়ায় যায়নি। মিডিয়ায় চিঠি গেলে যেটা হয়, জঙ্গিরাও সতর্ক হয়ে যায়। তারা হামলার সময় বদলাতে পারে। ফলে যে উদ্দেশ্যে সতর্ক করা হচ্ছে, সেটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল নাও হতে পারে।” 

অডিও শুনুন 03:11

‘‘নিশ্চয়ই তাদের কাছে কোন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে’’

তবে শহীদুল হকের সঙ্গে একমত নন, পুলিশের আরেকজন সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "এই ধরনের চিঠির উপকারিতাও আছে। বিষয়টি জঙ্গিরা জানতে পেরে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে। আর গ্রেফতার অভিযান, সেটা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হয়। সেই কাজ তো চলবে।”  

পুলিশ সদর দফতর থেকে চিঠি পাঠানোর পাঁচ দিনের মাথায় গত শুক্রবার রাত নয়টায় রাজধানীর পল্টন  মোড়ে পুলিশের একটি চেকপোস্টের পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলাও হয়েছে। এই বোমার সঙ্গে গত বছর ঢাকায় পুলিশের ওপর হওয়া হামলায় ব্যবহৃত বোমার মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ওই সময় হওয়া পাঁচটি বোমা হামলার চারটিই ছিল দূরনিয়ন্ত্রিত। পল্টনের বোমাটিও দূরনিয়ন্ত্রিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গ্রেনেডসদৃশ আরেকটি বস্তু। যদিও এতে কোন বিস্ফোরক ছিলো না। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এর ভেতর শুধু বালু পেয়েছে।

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজমের ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, উৎসবের সময়ে জঙ্গিরা আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তাই আমরা বাড়তি সতর্কতা নিয়ে রাখছি। এটা এমন কিছু নয়। নতুন করে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এমনটিও ভাবার কোন কারণ নেই।

সংশ্লিষ্ট বিষয়