‘জঙ্গিবাদ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন′ | বিশ্ব | DW | 01.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘জঙ্গিবাদ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন'

হোলি আর্টিজান বেকারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলা নিয়ে বই লিখেছেন অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিক নুরুজ্জামান লাবু৷

 ‘হোলি আর্টিজান: একটি জার্নালিস্টিক অনুসন্ধান' নামের বইটিতে সেই রাতের ঘটনা আর উদ্ধার অভিযান তুলে ধরেছেন সবিস্তারে৷

হোলি আর্টিজেনের ঘটনাটি এমন এক ঘটনা ছিল যে, সেদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছেন বলে মনে করেন নুরুজ্জামান লাবু৷ নৃশংস সেই হামলার তৃতীয় বছরে এসে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘জিম্মি ঘটনায় কিভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না৷ ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সারাদেশের মানুষকে রাতটি পার করতে হয়েছে৷''

জঙ্গিবাদের হুমকি

নুরুজ্জামান লাবু জানান, হোলি আর্টিজানের পর আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে নব্য জেএমবির অনেক শীর্ষ নেতা অভিযানে নিহত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন৷ কিন্তু এখনও তাদের সাংগঠনিক কাজের খবর পাওয়া যায়৷ কিছুদিন আগে ঢাকার দুটি জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে৷ আইএস ঘটনার দায় স্বীকার করলেও কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ৷

লাবু বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজস্ব সূত্রে জানতে পেরেছি, নব্য জেএমবি এখনো তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে৷''  লাবু মনে করেন, ‘‘তারা (নব্য জেএমবি) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে৷ তবে সুযোগ পেলে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াবে৷''

অডিও শুনুন 07:32

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বেড়েছে একই সঙ্গে, অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে: নুরুজ্জামান লাবু

নুরুজ্জামান লাবু বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামের আরেক জঙ্গি সংগঠন বেশ তৎপর ছিল৷ তারা বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার, লেখক আর প্রকাশকদের টার্গেট করে হত্যা করেছে৷ এই সংগঠনটি মূলত আল কায়েদা অনুসারী৷ তাদের শীর্ষ নেতা দেশের সামরিক বাহিনী থেকে বহিস্কৃত মেজর জিয়া৷ তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন৷ ফলে এই বিষয়টিকে আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন এই সাংবাদিক৷

তাঁর মতে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে৷  একই সঙ্গে, অপরাধের ধরন এখন পাল্টে যাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি৷

লাবু জানালেন, জঙ্গিবাদে জড়িতরা আগের মতো আস্তানা করে থাকেন না৷ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করছে৷ এ কারণে এই এনক্রিপ্টেড ডেটা থেকে তথ্য উদ্ধার করাটা পুলিশের পক্ষে মুশকিল বলে মনে করেন লাবু৷ তাই  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কৌশল পাল্টানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে বলেও অভিমত তাঁর৷

জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি' নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এছাড়াও, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি৷ এক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষাগুরুদের এগিয়ে আসারও অনুরোধ জানিয়েছেন সরকারপ্রধান৷

সরকারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে লাবু বলেন, ‘‘আমাদের দেশের একটা প্রবণতা হচ্ছে, কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সরকার কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে৷ কিন্তু কিছুদিন অতিক্রান্ত হলেই সেটা ঝিমিয়ে পড়ে৷''

জঙ্গিবাদ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন এই লেখক৷ তাঁর মতে, ‘‘জঙ্গিবাদ একটি মতাদর্শ৷ ভ্রান্ত মতাদর্শ হলেও সেটি বিশ্বাস করে জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে থাকে৷ এর ফলে মতাদর্শকে মতাদর্শ দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে৷''

গত সপ্তাহে সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক সপ্তাহ পালন করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট৷ এমন আয়োজন আরো বড় আকারে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া দরকার বলেও মনে করেন নুরুজ্জামান লাবু৷ প্রতিটি মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব৷

লাবু বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েই জঙ্গিরা তরুণদের ভুল পথে পা ফেলতে বাধ্য করছে৷ ফলে এই অপব্যাখ্যার বিপরীতে সঠিক ব্যাখ্যাটি অনেক বেশি প্রচার করা দরকার৷ এজন্য ইমাম-আলেমদের এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি৷

জুম্মার নামাজের খুৎবায় জঙ্গিবাদের খারাপ দিক সম্পর্কে বর্ণনার একটা উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার৷ কিন্তু সেটা আকারে ক্ষুদ্র বলে মনে করেন এই অনুসন্ধানী সাংবাদিক৷ তিনি জানান, অন্য উদ্যোগগুলোর মতো এটাও কিছুদিন পর ঝিমিয়ে পড়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন