জঙ্গলে মাশরুমের ছবি তুলে বেড়ান যে আলোকচিত্রী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জঙ্গলে মাশরুমের ছবি তুলে বেড়ান যে আলোকচিত্রী

আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততার মাঝে অনেকেই প্রকৃতির কোলে কিছুটা জিরিয়ে নিয়ে প্রাণশক্তি ফিরে পাবার সুযোগ পায় না৷ বার্লিনের এক আলোকচিত্রী জঙ্গলে গিয়ে মাশরুম সংগ্রহ করে ও তার ছবি তুলে আমাদের সেই জগতে হাতছানি দিচ্ছেন৷

আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততার মাঝে অনেকেই প্রকৃতির কোলে কিছুটা জিরিয়ে নিয়ে প্রাণশক্তি ফিরে পাবার সুযোগ পায় না৷ বার্লিনের এক আলোকচিত্রী জঙ্গলে গিয়ে মাশরুম সংগ্রহ করে ও তার ছবি তুলে আমাদের সেই জগতে হাতছানি দিচ্ছেন৷

শান্ত ও মনোরম পরিবেশ, প্রাণশক্তিতে ভরপূর৷ জঙ্গলের এই রূপের স্বাদ চুটিয়ে উপভোগ করেন মোরিৎস স্মিড৷ বিজ্ঞাপন জগতের ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি হেমন্তকালে যতক্ষণ সম্ভব জঙ্গলে গিয়ে মাশরুম বা ছত্রাক সংগ্রহ করেন৷ তাঁর কাছে জীবনযাত্রার গতি কমানোর এটাই সেরা উপায়৷ মোরিৎস বলেন, ‘‘এগুলি সত্যি বড় সুন্দর৷ প্রায়ই শুধু ব্যাংয়ের ছাতার উপরের সামান্য অংশ দেখা যায়৷ বোলেটাস মাশরুমের ক্ষেত্রে নীচে বিশাল এক ছত্রাক লুকানো থাকে৷ পাইনের পাতা বা ঘাসের আড়ালে মাশরুম প্রায়ই ঢাকা পড়ে যায়৷ আবিষ্কার করলেই মনে বিস্ময় জাগে৷''

অরণ্যই আনন্দের উৎস৷ মোরিৎস বাকিদের সঙ্গেও সেই অনুভূতি ভাগ করে নিতে চান৷ তিনি প্রায়ই মাশরুমের ছবি তোলেন, সঠিক প্রেক্ষাপটে সেগুলির সৌন্দর্য ধরে রাখতে চান৷ ‘ইনটু দ্য উডস' নামের বইয়ের মাধ্যমে তিনি পাঠকদের অরণ্যের জগত ও মাশরুমের রাজত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন৷ মোরিৎস স্মিড মনে করিয়ে দেন, ‘‘আলোকচিত্রী হিসেবে আমি অবশ্যই শুধু মাশরুমের স্বাদ নয়, সেগুলির আকার-আয়তন নিয়েও আগ্রহী৷ এই জগতের সীমাহীন বৈচিত্র্য রয়েছে৷ জঙ্গলে হাঁটতে গেলে প্রত্যেক বার কোনো না কোনো নতুন প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়৷ সেগুলির আকার আর রং আমাকে কখনোই ক্লান্ত করে না৷''

২০০৯ সাল থেকে মোরিৎস স্মিড বার্লিনে নিজের স্টুডিওতে আলোকচিত্রী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন৷ তবে সেখানে তাঁর দেখা পাওয়া কঠিন৷ বেশিরভাগ কাজের জন্য তাঁকে বিদেশে যেতে হয়৷ আন্তর্জাতিক মঞ্চে জমকালো ছবির শুটিং করার জন্য কম ঝক্কি পোয়াতে হয় না৷ তাঁর মতে, ‘‘আমাকে সত্যি খুব ঘোরাঘুরি করতে হয়৷ অনেক বিমানযাত্রা করতে হয়৷ বিশ্বভ্রমণের কারণে অনেক পরিমাণ কার্বন নির্গমনের জন্য আমি দায়ী৷ অসংখ্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়৷ সারাদিন সংগীত চলে৷ সবাইকে খুশি রাখতে আমাকে ক্লাউনের মতো মুখে হাসি রাখতে হয়৷ খুশিমনেই সে সব করি৷ কিন্তু মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে জঙ্গলে এই শান্ত পরিবেশেরও প্রয়োজন হয়৷''

বিজ্ঞাপনের ছবির নন্দনতত্ত্বের প্রভাব তাঁর বইয়ের ছবিগুলির মধ্যেও দেখা যায়৷ সব ছবিতেই জঙ্গল ও মাশরুমের প্রতি তাঁর উৎসাহের ছাপ দেখা যায়৷ মোরিৎস স্মিড যেন খুশির চাবিকাঠি বাতলে দিতে পরামর্শ দেন৷ মোরিৎস জানান, ‘‘বইয়ের বিষয় শুধু মাশরুম নয়৷ জীবনদর্শন, লাইফস্টাইল, বাইরের জগতে বেরিয়ে জঙ্গলের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাবার প্রেরণা জোগায়৷ সে কারণেই বইয়ের নাম ‘ইনটু দ্য উডস'৷ মাশুরুমের সন্ধানের মাধ্যমে আনন্দের অনুভূতি৷''

ভিডিও দেখুন 03:30

আলোকচিত্রের বিষয় যখন মাশরুম

কয়েক দিন বৃষ্টির পর সামান্য একটু রোদের ছোঁয়া পেলে মাশরুম মাটি ফুঁড়ে গজিয়ে ওঠে৷ অনেক মাশরুম খাবার উপযোগী৷ অনেকগুলি আবার চরম বিষাক্ত৷ আনাড়িদের জন্য মোরিৎস-এর খুব সহজ পরামর্শ রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে বোলেটাস জাতীয় মাশরুম সংগ্রহ করাই ভালো৷ নীচেটা চোঙার মতো, ছোট ছোট বিন্দু ও মাছের কানকোর মতো ডোরাকাটা অংশ রয়েছে৷ বোলেটাস গোত্রের মধ্যে কোনো বিষাক্ত ছত্রাক নেই৷ অন্য জাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার কারণ নেই বললেই চলে৷ অতএব ভুলত্রুটির অবকাশ খুবই কম৷''

ঝুড়ি ভর্তি সুস্বাদু মাশরুম নিয়ে ঘরে ফিরে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সেগুলি পরিষ্কার করে ঠিকমতো কাটার আনন্দই আলাদা! স্যাফ্রন মিল্ক ক্যাপ জাতের মাশুরুম ও বোলেটাস ভাজলে অসাধারণ ও অতুলনীয় স্বাদ পাওয়া যায়৷ তাহলে আর দেরি কেন! কাজের শেষে সবাই মিলে খাবার পালা৷

পিয়ের প্রেচ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন