ছেলে শিশু ধর্ষণ: আইন কী বলে? | বিশ্ব | DW | 28.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ছেলে শিশু ধর্ষণ: আইন কী বলে?

বাংলাদেশে এখন ছেলে শিশু ধর্ষণ (বলাৎকার) উদ্বেগজনক হারে বড়ে গেছে৷ সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় একাধিক ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে৷ কিন্তু আইনে এর প্রতিকার কী? এক্ষেত্রেও কি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা যাবে?

নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ৯(১)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ১[ষোল বছরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করে, অথবা ২[ষোল বছরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন৷

তবে এই আইনের ধারা ২(ট) সংজ্ঞায় বলা হয়েছে - ‘‘শিশু’’ অর্থ অনধিক ১৬ বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি৷  
শিশুদের কোনো লিঙ্গ ভাগ এখানে করা হয়নি৷ কিন্তু ধর্ষণের যে সংজ্ঞা আছে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধরায়৷ তাতে ধর্ষণের শিকার কেবল যেকোনো বয়সী নারীই হতে পারেন৷

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘‘একটা ভুল ধারণা চলে আসছিলো যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শুধু নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হলেই বিচার করা যাবে৷ কিন্তু এই আইনের সংজ্ঞায় শিশু বলতে ছেলে বা মেয়ে আলাদা করা হয়নি৷ ১৬ বছর পর্যন্ত সব শিশুকেই বুঝানো হয়েছে৷ শিশু আইনেও শিশুদের কোনো লিঙ্গ ভাগ করা হয়নি৷ তাই ১৬ বছর পর্যন্ত কোনো ছেলে শিশু যদি ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে ধর্ষণ মামলাই হবে৷ যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড৷’’

অডিও শুনুন 05:34

১৬ বছর পর্যন্ত কোনো ছেলে শিশু যদি ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে ধর্ষণ মামলাই হবে: ইশরাত হাসান

দণ্ডবিধিতে ধর্ষণের সংজ্ঞায় ধর্ষণের শিকার বলতে শুধু যেকোনো বয়সের নারীকেই বুঝানো হয়েছে তার সমাধান কী? এর জবাবে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ‘‘দণ্ডবিধিতে যাই থাকুক না কেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনই প্রাধান্য পাবে৷’’

দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় অস্বাভাবিক অপরাধের কথা বলা হয়েছে৷ সেই ধারা অনুযায়ী প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে যৌন সহবাসকে অপরাধ হিসেব গণ্য করা হয়েছে৷ এখানে স্বেচ্ছায় বা জোর করে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সাথে প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে যৌন সম্পর্কের অপরাধের সর্বনিম্ন ১০ এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে৷
ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দণ্ডবিধির এই আইনে মামলা করার একটি প্রবণতা ছিলো৷ কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে ১৬ বছর পর্যন্ত যেকোনো লিঙ্গের শিশু ধর্ষণ বা বলাৎকারে শিকার হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা করতে হবে৷ ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘‘আইনে শিশু বলতে সব ধরনের শিশুর কথা বলা হয়েছে৷ তাই ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হলেও এখন আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলাই করছি৷ এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নাই৷’’

অডিও শুনুন 00:39

আইনে শিশু বলতে সব ধরনের শিশুর কথা বলা হয়েছে: পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন

চট্টগ্রামের মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেল এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন৷ তিনি জানান, ‘‘১৬ বছর পর্যন্ত মেয়ে বা ছেলে শিশু যেই ধর্ষণের শিকার হোক ধর্ষণ মামলা হবে৷ কিন্তু ছেলের বয়স ১৬ বছরের বেশি হলে ধর্ষণ মামলার সুযোগ নাই৷’’

আইনজীবীরা বলেন, ছেলের বয়স ১৬ বছরের বেশি হলে দন্ডবিধির ৩৭৭ ধরায় অস্বাভাবিক অপরাধের ধারায় মামলা হয়৷ এই ধারায় স্বেচ্ছায় না হয়ে জোরপূর্বক হলেও একই অপরাধ৷ কিন্তু এটা আইনের একটা দুর্বলতা বলে মনে করেন তারা৷ তারা বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষও  ধর্ষণের শিকার হতে পারেন৷ ধর্ষণের শিকার শুধু নারী নয়, পুরুষও হতে পারেন৷ ঢাকা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তুহিন হাওলাদার মনে করেন, ‘‘সেজন্য নতুন আইন করা যেতে পারে৷ অথবা দণ্ডবিধিতে ধর্ষণের সংজ্ঞায় নারীর সঙ্গে পুরুষ শব্দটি যুক্ত করে আইন সংশোধন করা যায়৷ তবে এটা করতে হলে আইনজ্ঞদের বিস্তারিত আলাপ আলোচনা ও মতামত নেয়া প্রয়োজন৷’’

আইনজীবী ইশরাত হাসানও মনে করেন, ধর্ষণের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা দরকার৷ তার মতে, নারী-পুরুষ উভয়ই ধর্ষণের শিকার হতে পারেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন