‘ছাপাখানা' থেকে বাইসাইকেল?
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮থ্রিডি-প্রিন্টার থেকে বাইসাইকেল? সায়েন্স ফিকশন নাকি? না, কল্পবিজ্ঞান নয়, প্রায় বাস্তব...৷
সাইকেল ইঞ্জিনিয়ার ফ্রানৎস হ্যোশ্টল দাবি করলেন, ‘‘আমরা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, সিটে বসে চড়ার মতো একটা সাইকেল তৈরি করা যায়, যদিও তা চালানোর মতো নয়৷''
সাইকেলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা আজই আন্দাজ করা যাচ্ছে৷ থ্রিডি-প্রিন্টার দিয়ে তৈরি সাইকেল রেডিমেড নয়, টেলর মেড, রীতিমতো অর্ডার দিয়ে তৈরি৷ থ্রিডি-স্ক্যানার দিয়ে প্রথমে সাইকেলের ভবিষ্যৎ আরোহীর মাপ নেওয়া হবে৷ সাইকেল তৈরিতে থ্রিডি-প্রিন্টার নিখুঁতভাবে এই সব মাপজোক ব্যবহার করতে পারবে৷ দরজির তৈরি প্যান্ট-শার্টের মতো সাইকেলও আরোহীকে ফিট করবে৷
ফ্রানৎস হ্যোশ্টল বললেন, ‘‘প্রিন্টার দিয়ে তৈরি সাইকেলের সবচেয়ে বড় সুবিধে হল, এখন বাজারে মাত্র কয়েক সাইজের সাইকেল পাওয়া যায় – অথচ মানুষজনের পা কিংবা দেহের সাইজের মধ্যে বিরাট পার্থক্য থাকে৷ কাজেই আমরা প্রত্যেকের জন্য তার দেহের মাপ অনুযায়ী সাইকেল তৈরি করতে পারি৷''
সাইকেল নির্মাতা সাইকেলের ফ্রেমটাকে এমনভাবে বদলে নিতে পারেন, যাতে সেটা আরোহীর দেহের সঙ্গে পুরোপুরি ফিট করে৷
এবার সাইকেল নির্মাতা গেলেন থ্রিডি-প্রিন্টিং বিশেষজ্ঞের কাছে৷ প্রিন্টারের জন্য ডাটা প্রস্তুত করতেই অনেক কাজ করতে হবে – তবে সময় যে খুব বেশি লাগছে, এমন নয়৷
থ্রিডি-প্রিন্টিং-এর বিকাশ
থ্রিডি প্রিন্ট কোম্পানিরমালিক পেটার নুইফেনেগার জানালেন, ‘‘থ্রিডি-প্রিন্টিং-এ চারটি পৃথক দিকে বিপুল বিকাশ ঘটেছে৷ প্রথমত, যে সব পদার্থ ব্যবহার করা যায়, তাদের সংখ্যা বাড়ছে৷ দ্বিতীয়ত, আরো বড় বড় জিনিস প্রিন্ট করা যাচ্ছে৷ প্রিন্টিং-এর গতিও বাড়ছে – আগে যা সময় লাগত, তা কমে অর্ধেক, এমনকি এক-তৃতীয়াংশ হয়ে গেছে৷ এছাড়া নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে চলেছে, যদিও তা এখনো থ্রিডি-প্রিন্টিং-এ কাজে লাগানো হয়নি৷''
থ্রিডি-প্রিন্টারে এখনও প্লাস্টিক দিয়ে সাইকেলের ফ্রেম তৈরি হচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে তা কার্বন দিয়ে তৈরি হবে, এমন আশা আছে৷
সাইকেল ‘ছাপা' শুরু হল৷ এখানে শূন্য দশমিক ১২ মিলিমিটার ব্যাসের পলিয়ামিড গুঁড়ো ঝরে পড়ছে ও লেজারের উত্তাপে গলে শক্ত হয়ে গিয়ে সাইকেলের ফ্রেমের নির্দিষ্ট অংশগুলির আকার ধারণ করছে৷ এ কাজে দু'দিন লাগবে – প্লাস্টিকের অংশগুলো ঠান্ডা হতে আরো দু'দিন৷ তবে দেখা যাবে, ‘ছাপার কাজ' ঠিক হয়েছে কিনা৷ আপাতত সাইকেলের গোটা ফ্রেমটা একবারে ‘ছাপার' মতো বড় কোনো থ্রিডি-প্রিন্টার নেই, কাজেই ফ্রেমটাকে সাতভাগে ভাগ করে ‘ছাপতে' হয়েছে – পরে অংশগুলোকে আঠা দিয়ে জোড়া দেওয়া হবে৷ ভবিষ্যতের সাইকেলের ধাঁচাটা অন্তত তৈরি!
রং করার পরে ‘ছাপা' ফ্রেমটিতে সর্বাধুনিক ব্রেক, গিয়ার ইত্যাদি লাগানো হবে৷
একটা ‘ছাপাখানার' বাইসাইকেল তৈরি হতে আজ লাগে সাকুল্যে ১০ দিন – ভবিষ্যতে সেটা কমানোর ব্যবস্থা করা হবে প্রথম ও প্রধান কাজ৷
সিমন ইয়লার/এসি