‘ছাত্র রাজনীতিতে এখন ভোগের ধারাই প্রধান’ | আলাপ | DW | 18.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘ছাত্র রাজনীতিতে এখন ভোগের ধারাই প্রধান’

ছাত্র রাজনীতির দু’টি ধারা৷ একটা ত্যাগের, আর একটি ভোগের৷ এখন ত্যাগের ধারা নয়, ভোগের ধারাই প্রধান হয়ে গেছে বলে মনে করেন ডাকসুর দুইবারের সাধারণ সম্পাদক ও একবারের সহ সভাপতি আখতারুজ্জামান৷

বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান৷ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ডাকসুতে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি৷

ডয়চে ভেলে : হঠাৎ করেতো ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি উঠেছে? আপনি কিভাবে দেখেন?
আখতারুজ্জামান : আমি মনে করি, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে ছাত্র রাজনীতির পরিশীলিত ধারা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়৷ ছাত্র রাজনীতি সচল রেখেই এটার মধ্যে যে অপসংস্কৃতি, অপরাজনীতি প্রবেশ করেছে সেটা থেকে মুক্ত করতে হবে৷ এগুলো বন্ধ করে আগের ধারায় বা ত্যাগের ধারায় ফিরিয়ে আনা গেলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই বলেই আমি মনে করি৷ 

অডিও শুনুন 07:48

‘‘ছাত্র রাজনীতি দু'টি ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছে’’

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার পেছনে কি ছাত্র রাজনীতি দায়ী?
আমি তো বলেছি, ছাত্র রাজনীতি দু'টি ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছে৷ এর একটা ত্যাগ-আদর্শভিত্তিক ধারা আর আরেকটা হল অপরিশিলীত ধারা৷ এই হত্যাকাণ্ড সেই ধারারই বহিঃপ্রকাশ৷

ক্যাম্পাসে ছাত্র নির্যাতন বা হত্যাকাণ্ড তো থামানো দরকার৷
ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ড থেমে যাবে এর গ্যারান্টি কে দেবে?

আপনাদের সময় থেকে এখনকার ছাত্র রাজনীতির গুণগত পার্থক্যটা কি?  
আমাদের সময় ছাত্র রাজনীতিতে ত্যাগের ধারা প্রধান ছিল, পরিশিলীত ধারা প্রধান ছিল৷ আর এখন ভোগের ধারা প্রধান হয়েছে, অপরিশিলীত ধারা প্রধান হয়ে গেছে৷

অর্থই কি ছাত্ররাজনীতি নষ্টের মূল কারণ? আপনি কী মনে করেন?
এটা সামগ্রিক বিষয়৷ এখানে অর্থ বা গাড়ি-বাড়ি এগুলো বিষয় না৷ একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, সরকারি দলের ছাত্র রাজনীতির যদি অবক্ষয় হয়ে থাকে তাহলেতো বিরোধী দলের রাজনীতি খুব ভালো থাকার কথা ছিল৷ সেক্ষেত্রে আমরা বিরোধী দলের ছাত্র রাজনীতিতে কি খুব আদর্শবান, মেধাবী, ত্যাগী ছাত্রদের দেখছি? না৷ সেখানেও অছাত্র, সন্ত্রাসীদের বিচরণ আমরা দেখি৷ কাজেই পক্ষে-বিপক্ষে বিষয় না, এই ধারাটাকেই ঢেলে সাজাতে হবে৷  

ছাত্ররাজনীতি কলুষিত হওয়ার দায় কি ছাত্রনেতাদের নাকি রাজনীতিকদের?
কেউ আসলে দায়িত্ব এড়াতে পারেন না৷ অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন, শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসন, ছাত্রনেতা, জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব সামগ্রিকভাবেই এই বিষয়টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট৷

ছাত্ররাজনীতিকে কি দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে বের করা সম্ভব?
প্রথমত, ছাত্র রাজনীতিকে নিজস্ব গণ্ডিতে চলার সুযোগ দিতে হবে৷ আর দ্বিতীয়ত হল কোন সময়ই ছাত্র রাজনীতি দলীয় প্রভাবের বাইরে ছিল না৷ প্রভাব বলতে আমি দলীয় আদর্শ বা আদর্শের আলো সব সময়ই ছাত্রদের উপর বর্তিয়েছে৷ সেটা কিন্তু লেজুড়বৃত্তি নয়৷ সেই আলোয় ছাত্র নেতৃত্ব বিকোশিত হয়৷ সেটা ছিল ভালো সমন্বয়৷

 

ছাত্ররাজনীতির মূল সমস্যা আসলে কোথায়?
মূল কথা হল, ছাত্রদের হাতেই দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে৷ জাতীয় রাজনীতির আদর্শগত ছায়া এবং কর্তৃত্ব সেখানে থাকবে৷ সেটা ফরমাল বা ইনফরমাল হতে পারে৷ তাহলে ছাত্রদের রাজনীতি ক্যাম্পাস ভিত্তিক হবে৷ জাতীয়ভাবে তারা কী ভূমিকা রাখতে পারে সেটা তারা আলোচনা করে ঠিক করবে৷ কিভাবে বেকার সমস্যার সমাধান করা যায়, কিভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে এবং ছাত্ররা কিভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে সেই কাজটা তারা তখন করতে পারবে৷ এখন অনেক কাজের জায়গা হয়েছে, কিন্তু ভালো কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না৷ উন্নয়নের ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখে শিক্ষাঙ্গনকে সাজাতে হবে৷ যেন তারা অপরাজনীতির দিকে চলে না যায়৷

এখনকার ছাত্রনেতারা কি ছাত্রদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেন?
দেখেন রাজনীতির নাম না দিয়েও ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে৷ বুয়েটের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করল সেখানেতো কোন রাজনীতিক দলের পরিচয় ছিল না৷ তারা রাজনীতি সচেতন হিসেবে আন্দোলনটা করেছে৷ রাজনীতি করলে তারা যতটুকু পরিপক্ক হতো তার চেয়ে তাদের একটুও কম মনে হয়নি৷ সংগঠনের নাম না থাকলেও ছাত্রদের রাজনৈতিক জ্ঞান কিন্তু বাড়ছে৷ 

ছাত্র রাজনীতি কি আসলে ছাত্রদের হাতে আছে?
এই যে ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল৷ সেখানে কিন্তু ছাত্ররাই ছাত্রদের কাছে গেছে৷ তারাই ভোট চেয়েছে৷ তারা ইশতেহার ঘোষণা করেছে৷ এখানে জাতীয় রাজনীতির সহযোগিতা থাকতে পারে, দিক নির্দেশনা থাকতে পারে৷ জাতীয় রাজনীতির আদর্শগত প্রভাব থাকতে পারে৷

কিভাবে ছাত্ররাজনীতির সুসময় ফিরে আনা সম্ভব?
এখন যে আলোচনা হচ্ছে, সেখান থেকেই ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ সবাই মিলে যদি মনে করি, ছাত্র রাজনীতির আদর্শগত ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই তাহলেই সম্ভব৷

রাজনীতিবিদদের ভূমিকা এখানে কতটুকু?
তারা যেভাবে দেশের মঙ্গল চান, গণতন্ত্র চান সেভাবেই ছাত্র নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে ভালো ধারায় ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারেন৷

সরকারি দল এক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে?
সরকারি দল বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে৷ গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন রক্তপাত হয়নি৷ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়নি৷ পাশাপাশি অনেক বাধা বিঘ্ন উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে৷ তাই আমি মনে করি, সরকারি দল এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাই রেখেছে৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন