ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক বোরকা নিয়ে পাকিস্তানে বিতর্ক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান

ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক বোরকা নিয়ে পাকিস্তানে বিতর্ক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দুটি শহরে স্কুলছাত্রীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছিল প্রদেশটির কর্তৃপক্ষ৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ায় মাত্র একদিন পরই প্রত্যাহার করতে হয়েছে সিদ্ধান্ত৷

দেশটির উত্তর-পশ্চিমের দুই বড় শহর খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ার এবং হরিপুরের সব স্কুলে এ পোশাক বাধ্যতামূলক করা হয়৷ ‘অনৈতিক দুর্ঘটনা' এড়ানোকে দেখানো হয় কারণ হিসেবে৷

সোমবার জারি করা এ নির্দেশে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া৷ পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী অধিকার আরো সংকুচিত করার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সমালোচনায় মুখর হন নারীবাদিরা৷

প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী জিয়াউল্লাহ বাংগাশ জানানা, যৌন হয়রানি থেকে ‘নারীদের রক্ষা' এবং তাদের যাতে ‘ভালো দেখা যায়' সে কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই যাতে মেয়েরা নিজেদের নিরাপদ মনে করে এবং অভিভাবকরাও নিশ্চিন্ত থাকেন৷'' অবশ্য মঙ্গলবারই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রাদেশিক সরকার৷

মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তালিবান শাসনের তুলনা করেছেন৷ প্রদেশটি আফগানিস্তান সীমান্তে অবস্থিত৷ বেশ কয়েক বছর প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণে ছিল পাকিস্তান তালিবান৷ সে সময় মেয়েদের অনেক স্কুল বোমা মেরে ধ্বংসও করেছিল তারা৷

শান্তিতে নোবেলজয়ী স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজায়িকে এই প্রদেশেই গুলি চালিয়ে আহত করে তালিবান জঙ্গিরা৷ এখন অবশ্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলই রয়েছে প্রদেশটির শাসনে৷

মানবাধিকার কর্মী তৈমুর কামাল এমন নির্দেশ প্রত্যাহারে সন্তোষ জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এমন নির্যাতনমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে আমি খুশি হয়েছি৷ শিশুদের জোর করে হিজাব পরালো হলে সেটা খুব ভয়ানক হতো৷'' নারী অধিকারকর্মী তাহিরা আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘এর ফলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি মোটেও উজ্জ্বল হলো না৷ বাকি বিশ্ব যখন শিশুদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় দ্রুত এগিয়ে চলেছে, পাকিস্তান চলছে উল্টো পথে৷''

তবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও এ নিয়ে বিতর্ক এখনই থামছে না৷ প্রাদেশিক সরকারের আইনপ্রণেতা সিরাজউদ্দিন খান জানিয়েছেন, তার দল জামায়াত-ই-ইসলামি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে এবং ‘পুরো প্রদেশ জুড়ে এই নির্দেশ চালু করার জন্য সরকারকে বাধ্য করবে৷'

পাকিস্তানে এমন বিতর্ক নতুন নয়৷ কদিন আগেই দেশটির নৌবাহিনী পরিচালিত এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ও ক্লাসরুমে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা বসার ও চলাফেরার নির্দেশ জারি করা হয়৷ এ নিয়েও চলছে ব্যাপক সমালোচনা৷

এডিকে/ (এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন