ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাই আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে | বিশ্ব | DW | 07.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাই আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে৷ যারা হত্যা করেছে তারা ছাত্রলীগের বলে স্বীকার করেছেন বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি৷

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এরইমধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ৷ সন্দেহ করা হচ্ছে একটি ফেসবুক পোস্টের জেরে তাকে হত্যা করা হয়৷

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আবরারের লাশ উদ্ধার করা হয় বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে৷ এই হলের ১০১১ নাম্বার কক্ষে থাকত আবরার৷ তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন৷

 রাত আটটার পর তাঁকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়া হয়৷ তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন৷ বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি জামিউস সানি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে যখন হলে যাই ততক্ষণে সে মারা গেছে৷ গিয়ে দেখি লাশ পড়ে আছে৷ তখন হলের প্রভোস্ট, ছাত্র কল্যাণ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকসহ আরো অনেকেই ছিলেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘তাঁকে ২০১১ নাম্বার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে আছেন৷ পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও ঘটনা তদন্ত করছে৷ যারা জড়িত তারা সবাই আইনের আওতায় আসবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন,‘‘ছাত্রলীগতো হত্যা করেনা৷ হত্যা করতে বলেও না৷ এটা ব্যক্তির দায়৷ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং হত্যাকাণ্ডের সব আলমাত পাওয়া গেছে৷ যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 01:51

‘অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে আছেন’

নিহত আবরারের মামাতো ভাই আবু তালহা বলেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি ছাত্রলীগের লোকজনই তাকে হত্যা করেছে৷ আমাদের পরিবারের একজনকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হয়েছে৷ তাতে কমপক্ষে ৮-১০ জন তালহা হত্যায় জড়িত৷ এর মধ্যে ছয়জন আবরারকে ২০১১ নাম্বার কক্ষে নিয়ে যায়৷ দুই জন পরে আবার আবরারের জামা কাপড় নিতে আসে ১০১১ নাম্বার কক্ষে৷ কিন্তু রুমের ভেতরে সিসি ক্যামেরা নাই৷ তাই ২০১১ নাম্বার কক্ষে কতজন ছিলো তা এখনো নিশ্চিত নয়৷''

তিনি জানান,‘‘অত্যন্ত মেধাবী আবরার ধর্মপরায়ণ ছিলেন৷ আর সর্বশেষ ৫ অক্টোবর তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন৷ তাতে ভারতের সঙ্গে পানিবন্টন ও চুক্তি নিয়ে ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা উল্লেখ করে তিনি একটি লেখা লেখেন৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘ওই পোস্ট দেয়ার জেরে তাকে নিয়ে গিয়ে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপাটপ তারা নিয়ে নেয়৷ এরপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়৷ ভোর রাত পাঁচটার দিকে আমরা ফোনে খবর পাই৷''

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এক প্রেস ব্রিফিং-এ জানিয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরইমধ্যে ছয় জনকে আটক করা হয়েছে৷ যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাউল ইসলাম জিওন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার৷ কৃষ্ণপদ রায় জানান, ‘‘আবরারকে যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি৷ আমাদের কাছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে৷''

অডিও শুনুন 00:40

‘হাত, পা, বুক, পিঠ, পেট সবখানেই গভীর আঘাতের চিহ্ন আছে৷’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আবাররকে প্রথমে ২০১১ এবং পরে ২০০৫ নাম্বার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়৷ ওই দু'টি কক্ষে ছাত্রলীগ নেতারা থাকেন৷ নির্যাতনের পর শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিড়ির পাশে তাঁকে ফেলে রাখা হয়৷

সোমবার দুপুরের পর  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে আবরারের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে৷ ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন আছে৷ মাথা ছাড়া তারা হাত, পা, বুক, পিঠ, পেট সবখানেই গভীর আঘাতের চিহ্ন আছে৷ এটাকে আমরা বলি ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত৷ এটা রড, লাঠি, ক্রিকেট ব্যাট, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, হকি স্টিক, শক্ত কাঠ বা শক্ত অন্য কিছুর আঘাত হতে পারে৷ এই আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷ আঘাতের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘অনেক, তাই সুনির্দিষ্ট করে সংখ্যা বলতে পরছিনা৷''

আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে৷ তাঁর বাবা বরকতউল্লাহ একটি এনজিওতে চাকরি করেন৷ মামা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক৷ দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার বড়৷ তাঁর গ্রামের বাড়িতে এখন বিলাপ আর আহাজারি৷ মা রোকেয়া খাতুন এর মধ্যেই জানান,‘‘রোববারই আমার ছেলে ঢাকা যায়৷ ১০ দিন আমার কাছে ছিলো৷ এভাবে যে আমার বুক খালি হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি৷ যারা তাঁকে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই৷ মায়ের বুক খালি হওয়ার কষ্ট তারাও বুঝুক৷''

এদিকে এই ঘটনার পর বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছে৷ সাধারণ শিক্ষার্থী এবং আবরারের সহপাঠীরা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবীতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন