ছাগল যখন সহপাঠী | বিশ্ব | DW | 16.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

ছাগল যখন সহপাঠী

বার্লিনের হাগেনবেক স্কুল শিক্ষার এক নতুন পদ্ধতি চালু করেছে৷ বিভিন্ন প্রজাতি এবং ইকোসিস্টেম সম্পর্কে ধারণা দিতে পাঠ্যসূচির সব বিষয়ের সাথেই জুড়ে দেয়া হয়েছে জীববৈচিত্র্যের পাঠ৷

কেবল সকাল আটটা বাজে৷ উঠতি বয়সিদের স্বাভাবিক চপলতা, মোবাইল ফোনে ডুবে থাকা বাদ দিয়ে কিছু টিনএজারকে দেখা গেল ওরিও, আগ্রো এবং ভিলমার কাণ্ডকারখানা মনোযোগ দিয়ে দেখতে৷ এই তিন ছাগলের মধ্যে কিছু একটা তাঁরা খুঁজে পেয়েছে, যা তাঁদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে৷

শুধু ছাগল নয়, বার্লিনের এই স্কুলে হাঁস, মুরগি, শূকর এবং আরো নানা ধরনের পশুপাখি আছে৷ প্রতিদিনই জার্মানির অন্য সব স্কুলের মতো হাগেনবেক স্কুলেও সকালে দল বেঁধে প্রবেশ করে প্রায় ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী৷ কিন্তু তবুও অন্যদের চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা এই স্কুল৷

১২ বছরের ইয়ারা বলছে, ‘‘আমি এই স্কুলেই পড়তে চাই, কারণ, আমি পশু-পাখি এবং বাগান পছন্দ করি৷'' ইয়ারা তখন তাঁর বন্ধুদের সাথে মিলে স্কুলের বাগান থেকে তুলে আনা আপেল কাটছিল৷ এই আপেল একটু পরে তারা ছাগলকে খাওয়াবে৷

এলোডি নামের আরেক শিক্ষার্থী বলছে, ‘‘এদের একজন একজন করে যত্ন করে খাওয়াতে হয়৷ নাহলে একজন কম খাবার পেলেই মারামারি শুরু করে দেয়৷''

ক্লাসরুমে বসে পড়াশোনা করার চেয়ে এটা কি বেশি মজার? এক মুহূর্ত দেরি না করে উত্তর এলো, ‘‘হ্যাঁ, অবশ্যই৷''

পশুর চেয়েও বেশি কিছু

তাই বলে এই স্কুলে যে কোনো ক্লাসরুম নেই, তা কিন্তু না৷ হাগেনবেকেও অন্য সব স্কুলের মতো গণিত, জার্মান ভাষা, খেলাধুলা, পদার্থবিজ্ঞান এবং ভাষাবিজ্ঞান শেখানো হয়৷ কিন্তু সবকিছুতেই থাকে জীববৈচিত্র্যের ছোঁয়া৷

স্কুলের উপপ্রধান ক্লাউডিয়া ক্র্যোটেনহ্যার্ড্ট ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিক্ষকরা সবাই একসাথে আলোচনা করেই ঠিক করেন, কিভাবে পড়ালে শিক্ষার্থীদের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা দেয়া যাবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমি যতদূর জানি, জার্মানিতে আমরাই একমাত্র স্কুল, যারা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়৷''

২০০৭ সালে জার্মান সরকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই চালু হয় এই প্রকল্প৷ তবে এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ক্র্যোটেনহ্যার্ড্ট ও তাঁর সহযোদ্ধাদের৷

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কিভাবে শস্য বুনতে হয়, কিভাবে তাদের যত্ন নিতে হয় এবং সবশেষে কিভাবে ফসল তুলতে হয়, সে বিষয়েও হাতেকলমে শিক্ষা পেয়ে থাকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা৷

আরো নানা ধরনের পরিকল্পনা থাকলেও সীমিত বাজেটের কারণে সবসময় সবকিছু করা হয়ে ওঠে না৷ কিন্তু অর্থের অভাব যাতে ব্যতিক্রমী এ চলার পথ রুদ্ধ না করতে পারে, সে ব্যাপারে শিক্ষকদের পাশাপাশি সচেতন অভিভাবকরাও৷

কেমন লাগলো প্রতিবেদনটি লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

মাবেল গুন্ডলাখ/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন