চ্যাম্পিয়নস লিগে জার্মান কোচদের ইতিহাস | বিশ্ব | DW | 17.08.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ফুটবল

চ্যাম্পিয়নস লিগে জার্মান কোচদের ইতিহাস

ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এর আগে কখনও সেমিফাইনালে খেলা চার দলের মধ্যে তিনটি দলের কোচ একই দেশের নাগরিক হননি৷ এবার তা হতে যাচ্ছে৷

(বাম থেকে) পিএসজির টুখেল, লাইপজিগের নাগেলসমান, বায়ার্নের ফ্লিক

(বাম থেকে) পিএসজির টুখেল, লাইপজিগের নাগেলসমান, বায়ার্নের ফ্লিক

মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়া লাইপজিগ ও পিএসজির কোচ যথাক্রমে ইউলিয়ান নাগেলসমান ও টোমাস টুখেল৷ পরদিন বুধবার হানসি ফ্লিকের অধীনে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ খেলবে লিওঁর সঙ্গে৷

ফ্লিক, টুখেল, নাগেলসমান- তিনজনই জার্মান কোচ৷ তাদের মধ্যে আরও দুটি মিল রয়েছে৷ এক, আহত হওয়ার কারণে তাদের তিনজনেরই পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবন সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে৷ দুই, তারা তিনজনই জার্মানির ফুটবল ফেডারেশনের দশ মাসব্যাপী ‘ফুটবল শিক্ষক’ কোর্স করেছেন৷

তিনজনের মধ্যে বায়ার্ন কোচ হানসি ফ্লিকের বয়স সবচেয়ে বেশি৷ এছাড়া তিনজনের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে পেশাদার ফুটবল খেলেছেন৷ ২৯ বছর বয়সে (বর্তমান বয়স ৫৫) ইনজুরির কারণে পেশাদার ফুটবল ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগে বুন্ডেসলিগায় প্রায় দুশটি ম্যাচে খেলেন ফ্লিক৷ এই সময় বায়ার্নের হয়ে চারবার লিগ শিরোপাও জেতেন৷

পিএসজি কোচ টোমাস টুখেল (৪৬) পেশাদার ফুটবল খেলতে পেরেছেন ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত৷ এরপর হাঁটুর ইনজুরির কারণে খেলা ছাড়তে বাধ্য হন৷

টুখেলের মতোই হাঁটুর ইনজুরি ভুগিয়েছে লাইপজিগ কোচ নাগেলসমানকেও৷ ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের বেশি খেলতে পারেননি তিনি৷

লিওনেল মেসির চেয়ে বয়সে ২৯ দিনের ছোট নাগেলসমান৷ অর্থাৎ লাইপজিগ কোচের বয়স এখন মাত্র ৩৩! ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলা কোনো দলের সবচেয়ে কমবয়সি কোচ হতে যাচ্ছেন তিনি৷

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইনজুরির কারণে খেলা ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় মন খারাপ হয়েছিল নাগেলসমানের৷ ‘‘মনে হয়েছিল আমি আমার পুরো বাল্যকালটা অপচয় করে ফেলেছি৷ খুবই খারাপ লেগেছিল৷’’

খেলা ছেড়ে ব্যবসায় প্রশাসন আর ক্রীড়াবিজ্ঞানে পড়ালেখা করেন নাগেলসমান৷ এরপর ২০০৭ সালে তাকে আবার খেলায় ফিরিয়ে আনেন টোমাস টুখেল, যার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মাঠে নামবেন নাগেলসমান৷ ২০০৭ সালে জার্মানির আউগসবুর্গের রিজার্ভ দলের কোচ ছিলেন টুখেল৷ তখন স্কাউটিংয়ের দায়িত্বে নাগেলসমানকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি৷

‘ফুটবল শিক্ষক' কোর্স
ফ্লিক, টুখেল, নাগেলসমান- তিনজনই জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের দশ মাসব্যাপী ‘ফুসবাল লেরার' বা ফুটবল শিক্ষক কোর্সটি করেছেন৷ জার্মানির শীর্ষ তিন বিভাগে কাজ করতে আগ্রহীদের এই কোর্সটি করা থাকতে হয়৷ অংশগ্রহণকারীদের লিখিত, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা, মক ট্রেনিং সেশনসহ আটশর বেশি কোর্স-ঘণ্টায় অংশ নিতে হয়৷ উল্লেখ্য, উয়েফার কোচিং লাইসেন্স পেতে প্রয়োজন ২৪০ কোর্স-ঘণ্টা৷

সহমর্মিতা
লাইপজিগ কোচ নাগেলসমান একবার বলেছিলেন, ভালো কোচ হতে হলে খেলোয়াড়দের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে৷ যারা সেরা একাদশে খেলার সুযোগ পায় না তাদেরকেও গুরুত্ব দিতে হবে৷

বায়ার্ন কোচ ফ্লিকের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যের দেখা পেয়েছেন বায়ার্ন ডিফেন্ডার জেরোম বোয়াটেং৷ বায়ার্নের সাবেক কোচ নিকো কোভাচের অধীনে প্রায় মলিন হয়ে গিয়েছিলেন তিনি ও টোমাস ম্যুলার৷ এরপর গত নভেম্বরে ফ্লিক দায়িত্ব নেয়ার পর দুজনই আবার আগের দক্ষতায় ফিরে গেছেন৷

বোয়াটেং বলেন, ‘‘যারা খেলার সুযোগ পায়, আর যারা পায় না, সবার সঙ্গেই সম্মানজনক আচরণ করেন হানসি (ফ্লিক)৷ তিনি তার ব্যবহার দিয়ে সবাইকে এমন একটা অনুভূতি দেন যেন সবাই দলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ৷’’

পিএসজি কোচ টোমাস টুখেলও এমন আচরণের জন্য পরিচিত৷ ২০১৭ সালে ডর্টমুন্ডের বাসে বোমার হামলার সময় কোচ ছিলেন টুখেল৷ সেই সময় খেলোয়াড়রা কোচের ‘এমপ্যাথি' গুনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন৷

মাট পিয়ারসন/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন