চোরের মার টুঁটি চেপে ধরতেই হবে | আলাপ | DW | 19.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

চোরের মার টুঁটি চেপে ধরতেই হবে

ভেজাল যখন লেখার বিষয়, মনে পড়ছে রম্য লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘বাঁশবন'-এর কথা৷ মুরব্বিদের কাছে জেনেছিলেন শূকরের মাংসের ইংরেজি পর্ক৷ তাই পর্ক না খেয়ে পাপ করেননি, রক্ষা পেল ধর্মটাও৷

তার কিছুদিন পরের কথা৷ তিনি জানতে পারলেন, হ্যাম কিংবা বেকনের মানে শূকরের মাংস৷ ওই মাংস দিয়ে কাটলেট, সসেজও হয়৷ তার আগেই যা ঘটার ঘটে গেছে৷ জানতে পারার পর সারারাত আর পানিও খাননি বেচারা৷ তওবা করতে সোজা হাজির হন মোল্লাবাড়িতে৷  ‘‘মোল্লা সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন ‘অজান্তে খেলে পাপ হয় না'। কিন্তু আমার পাপিষ্ঠ মন চিন্তা করে দেখলে, অজান্তে খেলেও স্বাদে ভালো লাগতে পারে।''

ভাষা দুর্বলতার সংকট তুলে ধরেছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী৷ কিন্তু সময় পাল্টেছে৷ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অচেনা ভাষাতেও নিজের দখলদারিত্ব প্রমাণ করেছে মানুষ৷ তাতেও রক্ষে নেই! খাদ্য নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, মুরগী দেখিয়ে আলু তো দূরের কথা, আপনার হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে ঝোল৷ ঝোলটা ভালো হলেও, নীরবে মুখ বোঝে মেনে নেয়া যেত৷ কিন্তু সেখানেও নানা সংকট৷ হয় মসলা মেয়াদ উত্তীর্ণ, নতুবা রান্না করা হচ্ছে নোংরা পরিবেশে৷ কিংবা ঝোলের পানিটা দূষিত৷

দুনিয়ায় সম্ভবত বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যে দেশে খাদ্যেও ভেজাল দেয়া হয়৷ শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ, যার জন্যই খাবার কেনেন ভেজালের বাইরে কিছু নেই৷  আর ভেজালের মাত্রাটা কোন স্তরে গেছে, রমজানে চলা অভিযানের খবরগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিলেই বোঝা যায়৷ এ বছরের জুন পর্যন্ত সারাদেশে ছয় হাজার ৭০০ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর৷ ভেজালের দৌড় জানতে বোধয় আর কোনো তথ্যের প্রয়োজন পড়ে না৷

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) খোলা বাজার থেকে ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে৷  মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, তার মধ্যে ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজালে ভরা৷

ভেজালের প্রমাণ পাওয়ার পরেও, বাজার থেকে পণ্যগুলো সরিয়ে নিতে গড়িমসি ছিলো উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর৷ শেষ ঠিকানা, উচ্চ আদালত৷ অভিযুক্ত খাদ্যপণ্য সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন আদালত৷ কিন্তু সেখানেই শেষ নয়! এর মধ্যে আদালতের রায় নিয়ে কয়েকটি পণ্য পুনরায় বাজারে এসেছে৷ সরকারি সংস্থাগুলোর অভিযান পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি৷ পদ্ধতি বিজ্ঞানভিত্তিক নয় বলেই অভিযানে যে পণ্য ভেজাল বলে চিহ্নিত হয়েছে, তা আবার আদালত থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের৷

পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি জানান দিয়ে নিজেই বিপাকে পড়েছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক৷ অবস্থাটা হয়েছে, চোর চুরি করবে, তাঁকে চোর বলাটা মহাপাপ৷

কদিন পরেই আসছে কোরবানির ঈদ৷ চোরে না শুনে ধর্মের কথা! সেখানেও আছে ভেজালের থাবা৷  গরুকে মোটাতাজা করলেই মিলবে বাড়তি মুনাফা৷ তাই বাজার বসার আগেই গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে স্টেরয়েড গোত্রের নানা ওষুধ আর ইউরিয়া৷

Tanjir Mohammad Mehedi Chowdhury DW Praktikant aus Bangladesch

তানজির মেহেদী, ডয়চে ভেলে

ফার্মের মুরগির খাবারে মেশানো হচ্ছে আর্সেনিক। মাছের খাবারে দেয়া হচ্ছে মুরগির বিষ্ঠা ও আবর্জনা। প্রয়োগ করা হয় অ্যান্টিবায়োটিক। খাদ্যশৃঙ্খলের চক্রে এসব ওষুধ আসছে মানব শরীরে৷ গবেষকরা বলছেন এগুলোর কারণে আক্রান্ত হচ্ছে কিডনি, ফুসফুস,যকৃত৷ জীবন পড়ছে ঝুঁকির মুখে৷

এসব ভেজালের কারণ খুঁজতে গিয়ে অর্থলোভ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না৷ কিন্তু অর্থের লোভে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী খাদ্যকে বিষাক্ত করছে, সেই বিষক্রিয়া থেকে কি তিনি নিজে মুক্ত? নিজেদের কাছে এই প্রশ্নটা কি রেখেছে তাঁরা?

এভাবে চলতে থাকলে, রোগাক্রান্ত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ৷ যাঁর মাশুল হয়তো নিশ্চিহ্ন হওয়ার মধ্য দিয়েই গুণতে হবে৷

চোরের মার বড় গলার টুঁটি চেপে ধরার এখনই সময়৷ আমদানি পণ্যগুলোকে প্রবেশ মুখে পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ শাখাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমন্বিত তদারকি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি৷

বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত নানা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা থাকার পরেও প্রধানমন্ত্রীকেই সব বিষয়ে এগিয়ে আসতে হয়, ভূমিকা রাখতে হয়৷ খাদ্যে ভেজালে ঠেকাতেও কঠোর হবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ আমরা, সাধারণ মানুষ তাতে আশাবাদি হই৷ এবার দায়িত্বপ্রাপ্তরা আন্তরিক হলেই বন্ধ হতে পারে এই দুরাবস্থা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন