চোখের সামনে রুমমেটের মৃত্যু | বিশ্ব | DW | 05.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

চোখের সামনে রুমমেটের মৃত্যু

লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণে দুই জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন৷ আর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ জন সদস্যসহ ৯৯ জন বাংলাদেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷

যে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন তারা হলেন, মেহিদ হাসান রনি ও মিজানুর রহমান৷ মিজানের গ্রামের বাড়ি মাদারিপুর আর মেহেদির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া৷

মেহেদি হাসান বৈরুতের আশরাফিয়া এলাকার একটি আট তলা ভবনের নিচ তলায় থাকতেন৷ কাজ করতে সেখানকারই একটি স্পেনিস সুপার শপে৷ তার সঙ্গে থাকতেন আরেক বাংলাদেশি সুজন হোসেন৷ তিনিও ওই এলাকার একটি জুস কারখানার শোরুমে কাজ করেন৷ সুজন জানান, তাদের বাসা থেকে বিস্ফোরণের স্থল বৈরুত পোর্ট তিন কিলোমিটার দূরে৷ ‘‘আমি বাসা থেকে বের হয়ে আমার কর্মস্থলে যাচ্ছিলাম৷ আমার রুমমেট তখন কর্মস্থলে ছিলো৷ আমি হেঁটেই যাচ্ছিলাম৷ সন্ধ্যা ছয়টার একটু বেশি হবে৷ ঠিক তখনই বিস্ফোরণের শব্দ৷ দূরে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা৷ আমার চারপাশের ভবনের কাঁচ, জানালা সব ভেঙে পড়ছিল৷ আমি দ্রুত একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেই,’’ বললেন সুজন৷

অডিও শুনুন 06:50

আমি সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভুলতে পারছি না: সুজন

এর কিছুক্ষণ পর বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেলে তিনি শোরুমে যান৷ গিয়ে দেখেন শোরুমটি ধংসস্তুপে পরিণত হয়েছে৷ তিনি তার রুমমেট মেহেদির আহত হওয়া ও হাসপাতালে নেয়ার খবর পান৷ পরে মেহেদি মারা যান৷ তার অফিস থেকে মেহেদির অফিস দুই মিনিটের হাঁটা পথ৷ সুজন বলেন, ‘‘ওই ভবনে আরো অনেকে ছিলেন ৷ তাদের অধিকাংশ বের হতে পারলেও মেহেদি বের হতে পারেনি৷ সম্ভবত কাঁচ ভেঙে পড়ায় তার আঘাতে সে মারা যায়৷’’

মেহেদির লাশ এখন মাউন্ট লেভেন হসপিটালে আছে৷ সুজন বলেন, ‘‘আমি এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছি৷ আমি বেঁচে আছি৷ কিন্তু আমার রুমমেট ভাইতো মারা গেল৷ আমি সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভুলতে পারছি না৷’’

নিহত দুই জন, আহত ৯৯ জন
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান. এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত দুই জন বাংলাদেশি নিহত ও ৯৯ জন আহত হয়েছেন৷ আহতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য৷ নিহত দুই জনের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে৷ যত দ্রুত সম্ভব তাদের লাশ দেশে ফেরত পাঠানো হবে৷

তিনি জানান, বাংলাদেশের বেসামরিক নাগরিক যারা আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৫৭ জনকে রফিক হায়দারি হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিলো৷ এখন আটজন ভর্তি আছেন৷ বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন৷ যারা হাসপাতালে আছেন তারা শঙ্কামুক্ত৷ আর নৌবাহিনীর আহত সদস্যদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷

আইএসপিআর জানিয়েছে, বৈরুত বন্দরের বিষ্ফোরণে জাতিসংঘ শন্তিরক্ষা কার্যক্রমে মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে কর্মরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’- এর যে ২১ জন সদস্য আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তাঁকে অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত মডিকেল সেন্টার (এইউবিএমসি)-এ ভর্তি করা হয়েছে৷ অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হামুদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

আইএসপিআর জানায়, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করে আসছে৷ ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে যুদ্ধজাহাজ ‘বিজয়’ ইউনিফিলে বিশ্ব শন্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছে৷ বিস্ফোরণে জাহাজটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে৷

বিজ্ঞাপন