চোখের মণি কি রোগের লক্ষণ চিনিয়ে দেয়? | অন্বেষণ | DW | 19.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

চোখের মণি কি রোগের লক্ষণ চিনিয়ে দেয়?

অনেক কঠিন রোগের ক্ষেত্রে মানুষ মরিয়া হয়ে প্রচলিত চিকিৎসাবিদ্যার গণ্ডির বাইরেও সমাধান খোঁজে৷ আইরিডোলজি রোগ নির্ণয়ের এমনই এক বিতর্কিত প্রক্রিয়া৷ বৈজ্ঞানিক ছাড়পত্র না পেলেও এর মাধ্যমে রোগের ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব৷

চোখের জন্যই তিনি বেঁচে গেছেন বলে বিশ্বাস করেন মার্গারেটে ল্যোফেলমান৷ আজ তাঁর বয়স ৭২৷ ১২ বছর আগে তাঁর স্তনে ক্যানসার হয়েছিল৷ তবে ম্যামোগ্রাফির মতো সাধারণ পরীক্ষায় টিউমার ধরা পড়ে নি৷ চোখ পরীক্ষা করে তাঁর ডাক্তার নেচারোপ্যাথির এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রোগ শনাক্ত করেছিলেন৷ মার্গারেটে বলেন, ‘‘আইরিডোলজি পরীক্ষার পর তাঁর মনে হয়েছিল, কোথাও গোলমাল রয়েছে৷ তিনি আমাকে সাবধান হতে বলেছিলেন৷ আমি তাঁর কথা শুনেছিলাম৷ কিছুদিন পর জানা গেল, আমার সত্যি ব্রেস্ট ক্যানসার হয়েছে৷’’

এটা কি নিছক কাকতালীয় ঘটনা? কথায় আছে, চোখ মানুষের আত্মার প্রতিফলন ঘটায়৷ কিন্তু চোখ কি স্বাস্থ্যের আয়না হতে পারে? ঘটনা হল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ডাইস্লিপিডিমিয়ার মতো অনেক রোগের লক্ষণ চোখের মধ্যে শনাক্ত করা যায়৷ নেচারোপ্যাথির ডাক্তাররা আরও এক ধাপ এগিয়ে যান৷ নেচারোপ্যাথিস্ট আনা স্টিকলার বলেন, ‘‘আইরিডোলজি পরীক্ষার সময় আমরা মানুষের জেনেটিক প্রবণতা দেখার সুযোগ পাই৷ জন্মের সময় সে কী কী সঙ্গে এনেছে, তার লক্ষণ বুঝতে পারি৷’’

আইরিস কি সত্যি জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে? তা থেকে কি রোগ নির্ণয় সম্ভব? আইরিস ডায়াগনোসিস বিতর্কিত এক প্রক্রিয়া৷ এর কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত হয় নি৷ কিন্তু যে প্রক্রিয়া মার্গারেটে ল্যোফেলমান-এর জীবন বাঁচিয়েছে, সেটিকে কি এসোটেরিক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়?

আইরিস ডায়াগনস্টিক বিশেষজ্ঞরা আইরিসের রং ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন৷ তথাকথিত আইরিস চার্টের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস বা অন্ত্রের অবস্থা বুঝতে পারেন তাঁরা৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইরিস চার্ট কি রোগের অস্তিত্বেরও ইঙ্গিত দিতে পারে? এর উত্তর খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রোফেসর ও চক্ষু বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়েছে৷ প্রো. স্টেফান টুরাউ বলেন, ‘‘কানেকটিভ টিস্যুর দুর্বলতা, অর্থাৎ মারফান সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে দেখা যায়,  যে আইরিসের কাঠামো শিথিল হয়ে যায়৷’’

তবে মারফান সিন্ড্রোম অত্যন্ত বিরল এক রোগ৷ এটি ব্যতিক্রম হিসেবেই বিবেচিত হয়৷ আইরিডোলজি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বাম ও ডান চোখ আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করতে হয়৷ কিন্তু এই প্রক্রিয়ার কি আদৌ প্রয়োজন রয়েছে? সম্পূরক চিকিৎসাবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রো. ড. ডিটার মেলশার মনে করেন, ‘‘চরিত্রগতভাবে মানুষের মধ্যে ভারসাম্য কাজ করে বটে, কিন্তু সবকিছু সমান থাকে না৷ সে কারণেই নেচারোপ্যাথির ক্ষেত্রে বাম ও ডানের মধ্যে পার্থক্যের দিকে নজর দেওয়া হয়৷’’

আইরিডোলজিস্টদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ যেমন তাঁরা বামদিকের ফুসফুস বাঁ চোখ দিয়ে দেখেন৷ সাধারণ চিকিৎসকরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সন্দিহান৷ প্রো. স্টেফান টুরাউ বলেন, ‘‘আইরিসের অংশগুলি নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতিনিধি – এমনটা ভাবা চলে না৷ এমন কোনো যোগসূত্র নেই৷’’

আইরিসকতটা পরিবর্তনশীল? আঙুলের ছাপের মতো আইরিসও কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট পরিচয়ের প্রমাণ দেয়৷ তবে আইরিডোলজিস্টদের দাবি, রোগের কারণে আইরিসে পরিবর্তন ঘটে৷ প্রচলিত চিকিৎসাবিদ্যাও আইরিসে পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে৷ প্রো. টুরাউ বলেন, ‘‘আইরিসের পর্দা পাতলা হয়ে যেতে পারে৷ পেশি চলাচলের গতি কমে যায়৷ তখন চোখের মণির সঞ্চালন বদলে যায়৷ এমনকি কখনো কখনো আইরিসের রংও কিছুটা বদলে যায়৷’’

কিন্তু তার ফলে কি নির্ভরযোগ্যভাবে রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়? প্রো. স্টেফান টুরাউ মনে করেন, আইরিডোলজি বর্তমানে কাকতালীয় হারের উপর নির্ভরশীল৷ তবে প্রো. ড. ডিটার মেলশার-এর মত হলো, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা নেই৷

তবে ডাক্তার ও নেচারোপ্যাথিস্ট হিসেবে আনা স্টিকলার অবিচল রয়েছেন৷ তিনি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তা পেতে আইরিডোলজি প্রয়োগ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে রোগের ইঙ্গিত পেলেও রোগ নির্ণয়ের অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে৷’’

অর্থাৎ যারা আইরিডোলজিতে বিশ্বাস রাখেন, তাদেরও শুধু একটি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করতে চলবে না৷

আন্দ্রেয়া লাউটারবাখ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন