চেয়ারের অভিনব ইতিহাস ও বিবর্তন | অন্বেষণ | DW | 26.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

চেয়ারের অভিনব ইতিহাস ও বিবর্তন

চেয়ারে বসার সময় আমরা এই আসবাবের ইতিহাস, ডিজাইন, গুণাগুণ নিয়ে কতটা ভাবি? এক প্রদর্শনীতে প্রায় ২০০ বছর ধরে চেয়ারের বিবর্তন সম্পর্কে অনেক দিক তুলে ধরা হয়েছে৷ ভবিষ্যতের চেয়ার সম্পর্কেও পূর্বাভাষ পাওয়া যাচ্ছে৷

১৮৩৬ সালের চেয়ারের ডিজাইন৷ সঙ্গে ২০১৮ সালের এক ডিজাইন৷ মিউনিখের পিনাকোটেক গ্যালারিতে ‘টনেট অ্যান্ড ডিজাইন' নামের প্রদর্শনীতে প্রায় ২০০ বছর ধরে চেয়ারের ডিজাইনের বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে৷

শেনিয়া রিমান-ট্যুরোলার এই প্রদর্শনী আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন৷ ১৮৫৯ সালের একটি চেয়ার সেই প্রদর্শনীর অন্যতম ‘তারকা'৷ এই চেয়ারের পাঁচ কোটিরও বেশি সংস্করণ বিক্রি হয়েছে৷ মজবুত অথচ বাঁকানো কাঠের তৈরি এই চেয়ার সে যুগে ছিল একেবারে নতুন এক চমক৷ শেনিয়া বলেন, ‘‘এটা আসলে ডিজাইনের আইকন বা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত৷ কফি হাউস চেয়ার নামে পরিচিত এই চেয়ার ‘চোদ্দ নম্বর’ নামেও পরিচিত৷ এক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও ডিজাইন একই সূত্রে বাঁধা৷ নির্ভেজাল এই চেয়ারের ছ'টি অংশ, দশটি স্ক্রু ও দু'টি নাটবলটু রয়েছে৷’’

এই প্রদর্শনীতে শুধু অতীতের দিকে ফিরে তাকানো হচ্ছে না, সেইসঙ্গে ভবিষ্যতের দিকেও উঁকি মারা হচ্ছে৷ মিউনিখের ডিজাইনার স্টেফেন কেয়ারলে এই প্রদর্শনীর বিন্যাস করেছেন এবং নতুন এক চেয়ার ও চৌকি নিয়ে গবেষণা তুলে ধরেছেন৷ স্টেফেন বলেন, ‘‘এটি হলো নতুন সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ এক চেয়ারের প্রাথমিক খসড়া৷ বসার জায়গার কেন্দ্রস্থলের রেখা এখানে স্পষ্ট৷ এটি আসলে তার পরীক্ষামূলক মডেল৷ গবেষণার সর্বশেষ অবস্থা এখানে ফুটে উঠছে৷’’ 

ভিডিও দেখুন 03:49

চেয়ারের বিবর্তন

২০১৮ সাল থেকে ডিজাইনার হিসেবে স্টেফেন কেয়ারলে তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছেন৷ ‘ডিএনএস চেয়ার' নামের গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বড় আকারে উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ চলছে৷ স্টেফেন কেয়ারলে আরও বলেন, ‘‘চেয়ার নিয়ে কাজ করার সময় বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যায়৷ কারণ এটি মানুষের খুব কাছের বস্তু৷ অনেক সময় সেটির উপর বসে থাকতে হয়৷ প্রায় যেন আবরণ হয়ে ওঠে৷’’

ইস্পাতের পাইপের মতো নতুন উপকরণের কারণে গত শতাব্দীর বিশের দশক থেকেই আসবাবপত্রের ডিজাইনে মৌলিক রদবদল ঘটেছে৷ বাউহাউস শৈলির মার্সেল ব্রয়ার-এর মতো বড় মাপের ডিজাইনার একেবারে নতুন ধরনের আকার-আকৃতি চালু করেছেন৷

গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে আবার এক পরিবর্তন দেখা গেল৷ ঢেউ খেলানো আকৃতি ও চড়া রঙের ব্যবহার শুরু হলো৷ ডেনমার্কের ভ্যার্নার পান্টন-এর মতো ডিজাইনাররা বসার ঘরেও পপ আর্ট নিয়ে এলেন৷ শেনিয়া রিমান-ট্যুরোলার মনে করেন, ‘‘ভ্যার্নার পান্টন নতুন ডিজাইন যুগের পথিকৃৎ৷ সে যুগের মূলত ব্যবহারিক ধারা ছেড়ে তাঁর উদ্যোগে আবেগের ভাষার প্রয়োগ শুরু হয়েছিল৷ আকার-আকৃতির মধ্যে বিনয়ের ছাপ দেখা গেল৷’’

নতুন ধরনের উপাদান ও উৎপাদনের প্রক্রিয়ার দৌলতে লর্ড নর্মান ফস্টারের মতো ডিজাইনার আজও চেয়ারের বিষয়ে নতুন কোনো ভাবনা চালু করছেন৷

অনেকের কাছে চেয়ার শুধু বসার জায়গা৷ তবে ২০০ বছর ধরে চেয়ারের ডিজাইনের বিবর্তন এই আসবাবের আরও গুণাগুণ তুলে ধরছে৷

ইয়েন্স ফন লার্খার/এসবি 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন