চুপিসারে ব্রেক্সিটের সমাধানসূত্রের সন্ধানে জনসন | বিশ্ব | DW | 19.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন

চুপিসারে ব্রেক্সিটের সমাধানসূত্রের সন্ধানে জনসন

জার্মানির এক সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইইউ-র সঙ্গে বোঝাপড়ার লক্ষ্যে গোপনে এক সমাধানসূত্র প্রস্তুত করছেন৷ এদিকে ইইউ পার্লামেন্ট ব্যাকস্টপ ছাড়া ব্রেক্সিট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে৷

ব্রেক্সিটকে ঘিরে অচলাবস্থা কাটার কোনো আশার আলো দেখছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক ভাষণে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন৷ সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, বোঝাপড়ার জন্য হাতে বেশি সময় নেই৷ তাই চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি অত্যন্ত বাস্তব৷ তবে ব্রাসেলস এমন পরিস্থিতি এড়াতে যাবতীয় চেষ্টা করবে, বলেন ইয়ুংকার৷ তবে সাফল্যের আশা কম বলে তিনি মনে করেন৷ জনসনের সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গে ইয়ুংকার বলেন, আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর কোনো আবেগের সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু সেই ব্যবস্থার আসল লক্ষ্য পূরণের প্রশ্নে তিনি গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন৷ তিনি আবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট, কার্যকর ও লিখিত বিকল্প প্রস্তাব পেশ করার ডাক দেন৷

ব্যাকস্টপ বা তার গ্রহণযোগ্য বিকল্প ছাড়া কোনো ব্রেক্সিট চুক্তি যাতে সম্ভব না হয়, সেই লক্ষ্যে বুধবার ইইউ পার্লামেন্ট এক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে৷ ইইউ-র প্রধান ব্রেক্সিট মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন৷ ইইউ পার্লামেন্টে ব্রিটেনের ব্রেক্সিটপন্থি সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা বলতে চান না বটে, কিন্তু এর পরিণতি আরও অনেক বেশি গুরুতর ও সংখ্যায় আরও হতে চলেছে৷'' সেইসঙ্গে আলোচনার ভান না করে দৃঢ়তার সঙ্গে আন্তরিকভাবে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবার ডাক দেন বার্নিয়ে৷

জনসন বার বার বিকল্পের ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা বললেও এখনো পর্যন্ত ব্রাসেলসে কোনো প্রস্তাব পেশ করেন নি৷ তবে জার্মানির ‘স্যুডডয়চে সাইটুং' সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার গোপনে এক সমাধানসূত্র প্রস্তুত করেছে৷ এর আওতায় ব্রেক্সিটের পরেও শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশে ইইউ-র অনেক নিয়ম কার্যকর থাকবে৷ গোটা আয়ারল্যান্ড দ্বীপের জন্য এক অর্থনৈতিক এলাকার ব্যবস্থা করে আইরিশ সীমান্তে অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব হবে৷ কিন্তু এই মুহূর্তে কৌশলগত কারণে জনসনের পক্ষে সেই প্রস্তাব প্রকাশ্যে পেশ করা সম্ভব নয়, কারণ সে ক্ষেত্রে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা প্রবল বিরোধিতা শুরু করতে পারে৷ ১০ দিন পর টোরি দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে৷ তার আগে এই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী৷ সরকারের জোটসঙ্গী উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি দলও প্রবল আপত্তি জানাতে পারে৷

ডিইউপি দলের নেতা আর্লেন ফস্টার বুধবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন সফর করেন৷ তিনি বলেন, সমাধানসূত্র পেতে হলে দুই পক্ষকেই নমনীয় হতে হবে৷ উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি ফেরাতে ১৯৯৮ সালে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটির মধ্যেও প্রয়োজনীয় রদবদল করতে হবে৷ ইউরোপীয় একক বাজার অটুট রাখতে ফস্টার এমনকি শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশের জন্য আলাদা সমাধানসূত্রের প্রস্তাব উড়িয়ে দেন নি৷ তবে ব্রিটেনের নিজস্ব একক বাজার অটুট রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি৷ ফস্টার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গেও আলোচনা করেন৷

এসবি/কেএম (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন