চীন-রাশিয়ার কড়া সমালোচনায় বাইডেন | বিশ্ব | DW | 03.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জলবায়ু সম্মেলন

চীন-রাশিয়ার কড়া সমালোচনায় বাইডেন

গ্লাসগোয় জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেননি চীন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান। মঙ্গলবার দুইজনকেই আক্রমণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

১২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান গ্লাসগোয় জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। চীন এবং রাশিয়া তাদের প্রতিনিধি পাঠালেও দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সম্মেলনে যোগ দেননি। যা নিয়ে প্রথম দিন থেকেই উষ্মা প্রকাশ করছেন সম্মেলনে যোগ দেয়া প্রতিনিধিরা। তবে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন।

মঙ্গলবারের বক্তৃতায় জো বাইডেন বলেছেন, ''বেশ কিছুদিন ধরেই চীন বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে চাইছে। অথচ তার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত! কী আশ্চর্য!'' এখানেই শেষ করেননি বাইডেন, তার বক্তব্য, আইসল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়া-- গোটা পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় এখন পরিবেশ এবং জলবায়ু। অথচ সেই সম্মেলনেই এলেন না চীনের প্রধান। এর থেকেই বোঝা যায়, চীন কেমন নেতৃত্ব দেবে।

শুধু চীন নয়, রাশিয়াকেও এদিন এক হাত নিয়েছেন বাইডেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনও সম্মেলনে যোগ দেননি। বাইডেন বলেছেন, ''রাশিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল জ্বলছে। রাশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়ংকরভাবে পড়তে শুরু করেছে। অথচ প্রেসিডেন্ট কিছু করছেন না। চুপ করে বসে আছেন।''

চীন এবং রাশিয়া কোনো দেশের তরফেই বাইডেনের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়া হয়নি। বস্তুত, কোভিডের পর থেকে এখনো পর্যন্ত দেশ ছাড়েননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যেক'টি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন, সবক'টিই ভারচুয়াল। গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনে কেন তিনি যোগ দিচ্ছেন না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কারণও জানাননি তিনি। তবে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনও সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করে জানাননি। তবে গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ায় কোভিডের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সে কারণেই পুটিন আসেননি কি না, তা স্পষ্ট নয়।

শি জিনপিংয়ের বার্তা

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ওই সম্মেলনে অ্যামেরিকাকে কার্যত তুলোধোনা করে চীন বলেছিল, অ্যামেরিকাই সবচেয়ে বেশি দূষণ ছড়াচ্ছে। এর কয়েকবছর পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস চুক্তি থেকে অ্যামেরিকাকে বিযুক্ত করেন। যা নিয়ে বিপুল সমালোচনা হয়েছিল। নিজে না এলেও, প্রতিনিধিদের হাতে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন শি জিনপিং। সেখানে তিনি বলেছেন, ''পাঁচ বছর নষ্ট হয়েছে। এবার আলোচনা কমিয়ে কাজের কাজ করতে হবে।'' ট্রাম্পের প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়াকেই কটাক্ষ করেছেন শি। তবে গ্লাসগো সম্মেলনে চীনের প্রতিনিধিদের যথেষ্ট প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই মুহূর্তে চীনই সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে।

পুটিনের বার্তা

পুটিনও প্রতিনিধি দলের হাতে একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বিশাল বনভূমি বিশ্বকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করবে। ওই বনভূমির উপর নির্ভর করেই রাশিয়া ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বনমুক্ত দেশ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়া পরিবেশবিদদের প্রশ্ন, প্রেসিডেন্ট কি আদৌ জানেন, রাশিয়ার বনভূমি রাশিয়ায় তৈরি হওয়া দূষণের কতটা শোষণ করতে পারে? রাশিয়ার প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

বাইডেনের আশ্বাস

রাশিয়া এবং চীনকে আক্রমণ করে বাইডেন অ্যামেরিকা কী করতে চায়, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট দিশা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মিথেন গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করতে অ্যামেরিকা উদ্যোগী। দ্রুত এই গ্যাসের নিঃসরণ বন্ধ করা হবে। মিথেন গ্যাসও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমানো হবে বলে আগেই জানিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্য কিছু দেশ। সম্মেলনে উপস্থিত প্রায় প্রতিটি দেশই শপথ নিয়েছে যে, বন রক্ষা করা হবে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, বন আছে এমন ৮৫ শতাংশ দেশ এই শপথে অংশ নিয়েছে।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)