চীনে স্কুলের মধ্যে নজরদারি নিয়ে বিতর্ক | অন্বেষণ | DW | 24.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

চীনে স্কুলের মধ্যে নজরদারি নিয়ে বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ও নজরদারির সমন্বয়ে মানুষের সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে৷ স্কুল পড়ুয়াদের কল্যাণেই চীনের এক স্কুলে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে৷

খাদ্যাভাসের উপর নজরদারি

১৬ বছর বয়সি মেং জিনইয়াং স্কুলে যখন মধ্যাহ্নভোজ করতে যায়, তখন শুধু নিজের মুখ দেখালেই চলে৷ সঙ্গে সঙ্গে মাংস, ডিম ও সবজিসহ পছন্দের পদ তার কাছে চলে আসে৷ বিশেষ এক প্রণালী স্কুল পড়ুয়াদের আগের অর্ডারের ভিত্তিতে পছন্দের খাবার বিতরণ করে৷ ক্যান্টিনের অ্যাকাউন্ট থেকে তখন সেই পদের দাম কেটে নেওয়া হয়৷

এতকাল তাদের একটি কার্ড দেখাতে হতো৷ এখনো সেই পদ্ধতি চালু আছে বটে, কিন্তু প্রায় কেউই আর সেই কার্ড ব্যবহার করে না৷ মুখচ্ছবি শনাক্ত করে দাম মেটানোর পদ্ধতি অনেক সহজ বলে মেং মনে করে৷ হাইস্কুলের ছাত্রী মেং জিনইয়াং বলে, ‘‘আমি প্রায়ই এই সিস্টেম ব্যবহার করেছি৷ আগের তুলনায় স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বেড়েছে৷ প্রত্যেককে নিজের কার্ড যন্ত্রের উপর রাখতে হতো বলে খাবার সংগ্রহ করতে লম্বা লাইন দেখা যেত৷ তাছাড়া রান্নাঘরের কর্মীদেরও এখন কোনো বোতাম টিপতে হয় না৷''

শিক্ষক-শিক্ষিকারা মনে করেন, দৈনন্দিন জীবন অনেক স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে৷ কারণ এখন সারা মাসের খাদ্য রিপোর্টে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর খাদ্যতালিকা দেখা যায়৷ কেউ শাকসবজি বাদ দিয়ে শুধু হ্যামবার্গার খেলে তা চোখে পড়ে৷ হাংজু হাইস্কুলের শিক্ষিকা জু জিয়াও এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘‘প্রত্যেক অর্ডারের পর তথ্য জমা হয়৷ কিছুকাল পর আমরা তা বিশ্লেষণ করতে পারি৷ বাবা-মায়েরাও সেই তথ্য হাতে পান৷ ছাত্রছাত্রীরা কত পরিমাণ প্রোটিন, শর্করা ও ভাজাভুজি খেয়েছে, তার পরিমাণ জানতে পারি৷'' 

নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্লেষণ – ১০০ বছরেরও বেশি পুরানো হাংজু শহরের ১১ নম্বর হাইস্কুল চীনে বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছে৷ দেশের অন্য অনেকে এই ব্যবস্থাকে আদর্শ মনে করে৷

ইন্টেলিজেন্টস্কুল'

হাংজু হাইস্কুলের প্রধান জাং গুয়ানচাও  ভবিষ্যতের ‘ইন্টেলিজেন্ট স্কুল' গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভেবে দেখলাম, প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা কীভাবে স্কুল পড়ুয়াদের জীবন আরও মনোরম করে তুলতে পারি এবং শিক্ষকদেরও দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারি৷ তখন আরও বড় মাত্রায় ‘বিগ ডেটা', ‘ইন্টারনেট অফ থিংস' ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা ভাবি৷''

প্রত্যেকেই তার কার্যকলাপের মাধ্যমে যে তথ্য সৃষ্টি করে, সেগুলি শুধু অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো হয় বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে৷ এমনকি লাইব্রেরি থেকে বই ধার নেবার সময়ও শুধু মুখ দেখালে চলে৷ স্কুলের লাইব্রেরির তুলনায় বই ভেন্ডিং মেশিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে৷ জু জিয়াও বলেন, ‘‘আমরা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানতে পারি, কে কবে কত বই ধার নিয়েছে৷ সেই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রন্থাগার স্কুল পড়ুয়াদের আগ্রহ অনুযায়ী আরও বই কিনতে পারে৷''

মেং চারিদিকে ক্যামেরা দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ তার মতে, ‘‘একদিকে অবশ্যই নজরদারি মনে হয়৷ অন্যদিকে আবার পড়াশোনার সুবিধা হয়৷ সেটাই তো আমাদের মূল দায়িত্ব৷ সব মিলিয়ে অসুবিধার তুলনায় সুবিধাই বেশি৷''

মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ?

প্রায় প্রত্যেক কোণেই মুখচ্ছবি শনাক্ত করার ক্যামেরা লাগানো রয়েছে৷ হোস্টেলের সব বাসিন্দা ঠিক সময়ে নিজেদের ঘরে ফিরেছে কিনা, মনিটরে একবার নজর দিলেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা তা জানতে পারেন৷

স্কুলে পড়ুয়ারা যাতে নিজেদের সেরা ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই সব প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে৷ যত বেশি তথ্য আসবে, তত ভালো করে প্রত্যেকের ক্ষমতা, দুর্বলতা ও আগ্রহ শনাক্ত করা যাবে৷

সব ক্লাসঘরে লাগানো ইন্টেলিজেন্ট ক্যামেরা মুখের অভিব্যক্তি বিশ্লেষণ করতে পারে৷ স্কুল পড়ুয়ারা কি মনোযোগ দিচ্ছে? নাকি সবকিছু একঘেয়ে লাগছে? তারা কি খুশি? তবে আপাতত সেই ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে৷ বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রশ্নে কিছু বাবা-মা, এমনকি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কাছেও বিষয়টি বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে৷ স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সংশয় দূর করার চেষ্টা করছে৷ কারণ তারা আবার সেই ক্যামেরা চালু করে আরও পরীক্ষা চালাতে চান৷ হাংজু হাইস্কুলের প্রধান জাং গুয়ানচাও মনে করেন, ‘‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি চোখের মণির সঞ্চালন, মস্তিষ্কের তরঙ্গ, মুখের অভিব্যক্তি, মনোযোগ ও আচরণ লক্ষ্য করে৷ কিন্তু স্কুলেও কি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সব প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে? দেখতে হবে, এই প্রযুক্তি আমাদের কতটা সাহায্য করতে পারে৷ তখন উপযুক্ত প্রযুক্তি বাছাই করে ক্যাম্পাসে আমরা তা প্রয়োগ করি৷''

১১ নম্বর হাইস্কুলে কার্যত কিছুই আর নজরদারি এড়িয়ে থাকতে পারে না৷ সদর দরজায়ও মুখচ্ছবি শনাক্ত করতে ক্যামেরা বসানো রয়েছে৷ স্কুল খোলার পর দরজা বন্ধ হয়ে যায়৷ সবাইকে ক্যামেরার সামনে দিয়ে যেতে হয়৷ যারা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে, তাদের ভাগ্য খারাপ৷ আজ কে দেরিতে এসেছে, সব শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের মোবাইল ফোনে তা দেখে নিতে পারেন৷

মারিও স্মিট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন