চীনে টিকা কার্যক্রমে ধীর গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

চীন

চীনে টিকা কার্যক্রমে ধীর গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ

শুরুতে ধীর গতি থাকলেও করোনার টিকাদানের হার দ্রুত বাড়াতে চায় চীন৷ কিন্তু টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে৷

১১ এপ্রিল পর্যন্ত চীন ১৬ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দিয়েছে৷ এই হার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ হলেও চীনের লক্ষ্যের তুলনায় এটি এখনও বেশ কম৷ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুনের মধ্যে ৫৬ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হবে, যা দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ৷

টিকাদানের ক্ষেত্রে একেক শহর ও প্রতিষ্ঠান এক এক ধরনের নিয়ম অনুসরণ করছে৷ কোথাও টিকা বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে, কোথাও শিক্ষকদের দিয়ে অভিভাবকদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্যতামূলকভাবে কর্মীদের টিকার আওতায় আনছে৷ এমন ক্ষেত্রে কোন কর্মী টিকা দিতে না চাইলে তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেয়া হচ্ছে৷

কোন প্রতিষ্ঠানের টিকা দেয়া হচ্ছে সেটিও টিকা গ্রহীতাকে বলা হচ্ছে না বলে কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত লি নামের এক নারী ডয়চে ভেলেকে জানান, বিশেষ শারীরিক অবস্থা ছাড়া টিকা নেয়া থেকে তারা ছাড় পাচ্ছেন না৷ তিনি জানান, কিছু বেসরকারি কোম্পানি টিকা না নিলে তাদের কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছে৷ ‘‘বেশিরভাগ মানুষ চীনের টিকা এড়াতে চাইলেও তাদের সামনে সে সুযোগ নেই, কেননা সরকারের চাপ সামলানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়,’’ বলেন তিনি৷

ভিডিও দেখুন 16:32

কী করছে করোনার সাউথ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট?

উহানে গত কয়েক সপ্তাহে মানুষ লাইন ধরে টিকা নিয়েছেন৷ এর মধ্যে অনেকে স্বেচ্ছায় টিকা নিয়েছেন৷ কিন্তু টিকা সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে গোপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে৷ লিন নামে এক ব্যক্তি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনেকে জানেন যে চীনের টিকা কিছু দেশ গ্রহণ করেছে, কিন্তু তারা কেউ জানেন না টিকা কার্যক্রম শুরুর পর তা সংক্রমণ ঠেকাতে কতটা কার্যকার হয়েছে৷ উহানে সবাই সিনোফার্ম এর টিকা নিচ্ছে, তবে প্রতিবেশি শহরগুলোর কোনো কোনোটিতে সিনোভ্যাক এর টিকা দেয়া হচ্ছে৷’’

টিকার কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ আছে৷ দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক গাও ফু বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতার হার বৃদ্ধির জন্য তারা কাজ করছেন৷ এক্ষেত্রে একটি উপায় হতে পারে বিভিন্ন টিকার মধ্যে মিশ্রণ ঘটনো৷ চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে পরে তিনি বলেছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে৷

এদিকে টিকা কার্যক্রমের গতি বাড়াতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া৷ গাও ফু এর বক্তব্য অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ থেকে আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ দেশটি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে৷ কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওতা বৃদ্ধি নয় বরং টিকার কার্যকারিতা কতটা তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পলিসি, আউটকামস অ্যান্ড প্রিভেনশন এর পরিচালক জ্যাসন ওয়াং মনে করেন এক্ষেত্রে একবার সীমান্ত উন্মুক্ত হলে বাইরে থেকে আসা মানুষের মাধ্যমে আবারো নাগরিকরা সংক্রমিত হতে পারেন, যা পরবর্তীতে পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে৷

উইলিয়াম ইয়াং/এফএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়