চীনে খনির বর্জ্যে নদী দূষণ বাড়ছে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.07.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

চীনে খনির বর্জ্যে নদী দূষণ বাড়ছে

চীনের বেইজিং শহরে ঢুকেই জেঁকে ধরলো গরম৷ প্রচণ্ড গরম৷ জনাকয়েক সাংবাদিকের সঙ্গে আমিও একজন৷ ‘জ্ঞান অর্জন করতে হলে প্রয়োজনে সুদূর চীনে যাও’, ছেলেবেলায় শুনেছিলাম এই গুণিবাক্য, আমাদের যাত্রাও এরকমই এক উদ্দেশ্যে৷

default

তামার খনির বর্জ্য চুইয়ে আসছে নদীতে (ফাইল ফটো)

চীনের নানা ধরণের খনি আছে৷ কয়লা, সোনা, তামা, কঠিন শিলা, তেল, গ্যাস আরও অনেক কিছু৷ এই সব দেখতেই আমাদের অভিযান৷

গরমে গা পুড়ে যাচ্ছে৷ গাইডকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চলে গেলাম নিজের হোটেলে৷ পরে আমরা যাবো অন্যতম বৃহৎ একটি সোনার খনি দেখতে৷ সোনার খনির কথা মনে হতেই চোখ চকচক করতে লাগলো৷

হোটেলে এসে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি৷ তারপর গভীর ঘুম৷ আহা এমন সুন্দর ঘুম অনেকদিন হয়নি৷ খুব সকালে ঘুম ভাঙলো৷ এরপর দ্রুতগামী ট্রেনে বেশ ঘণ্টা কয়েক পর সোনার খনিতে পৌঁছালাম৷ ঘুরে দেখলাম৷ তারপর আমাদের লক্ষ্য আরেক স্থান৷ ফুজিয়ান নামের একটি এলাকা৷ এখানেই আছে তামার খনি৷

পরদিন ফুজিয়ান'এর খনি দেখার পর পাশের সুন্দর পাহাড়ী নদী ডাকলো আমাদের৷ এই নদীর নাম ডিং৷ চাইছিলাম পা ছোঁয়াতে, কিন্তু বাধা আসলো, ‘‘সাবধান এই নদীর পানিতে পা ডোবাবেন না৷ তাহলেই হয়েছে৷'' কী কারণ? প্রশ্ন করলাম৷ উত্তর এলো, এই নদী দূষিত৷ এতো সুন্দর নদী দূষণের শিকার? কি করে হলো? এক কথায় জানিয়ে দেয়া হলো, তামার খনির বর্জ্য চুইয়ে আসছে এই নদীতে৷ বারবার বলা হচ্ছে, এই বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ করতে, কিন্তু তা করা হচ্ছে না৷ আর এই বিষের প্রভাবে ডিং নদীর মাছ মরে যাচ্ছে৷ মরে যাচ্ছে জলজ উদ্ভিদ৷ ইতিমধ্যে প্রায় শূন্যের কোটায় চলে এসেছে এই মাছ৷

মন খারাপ হয়ে গেলো এই বক্তব্য শুনে৷ কলকলিয়ে যে নদী বয়ে যাচ্ছে, যার দুই পাশে সবুজ পাহাড়, জনবসতি, সেই জলে বিষ! খুব আস্তে আস্তে এই ক্ষতিকারক প্রভাব এসে ভয়াবহ অবস্থায় রূপ নিয়েছে৷ এই তো চলতি মাসের শুরুতে বড় একটি লিকেজ ধরা পড়ে৷ দেখা যায় আগের ফুটোগুলো দিয়ে যে হারে এই ক্ষতিকারক বিষ বের হচ্ছিল, এবার আরও বেশি পরিমাণে বেরুচ্ছে তা৷

লাখ লাখ কিলোগ্রাম মাছ মরে গেছে এই নদী থেকে ইতিমধ্যেই৷ জানলাম, সরকার এই খনি কোম্পানিকে এখুনি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে৷ আর তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েও দিয়েছে৷

ঘুরতে ফিরতে, নানা জায়গায় কথা বলতে গিয়ে জানলাম, খনির বর্জ্যের কারণে দূষণের ঘটনা চীনে নাকি নতুন নয়৷ চীনের অনেক নদীর অবস্থা ভয়াবহ৷ বেইজিং এর ‘ইন্সটিটিউট অফ পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাফেয়ার্স'এর একজন পরিচালক আমাদের জানালেন, এ ধরণের নদীগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সরাসরি নদীর পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে৷

পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠনগুলো চীনের পানি দূষণের এই অবস্থা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন৷ তারা জানান, এমনিতেই চীনে প্রতিদিন ঘর-গেরস্থালি ও শিল্পকারখানা থেকে বিপুল পরিমাণে বর্জ্য পানি নদীতে এসে পড়ে৷ বড় কিছু শহর ছাড়া অন্য শহরগুলোয় বর্জ্য পানি বেরোনোর আগে তা ঠিকমতো শোধন করা হয় না৷ এ কারণে খাবার পানি সহ কৃষি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে৷ আর মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘায়ের মতো খনির বর্জ্য! পানি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সব বর্জ্য মিশ্রিত নদীর দূষিত পানিতে অনেক রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থ ও ধাতু থাকে৷ যা মানুষের জন্য, পশুপাখির জন্য, জীববৈচিত্র এবং পরিবেশ প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়