চীনের উইগুর নিয়ে মুসলিম দেশগুলো চুপ কেন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

চীন

চীনের উইগুর নিয়ে মুসলিম দেশগুলো চুপ কেন?

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো যাচ্ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের৷ কিন্তু তারপরও দেশটি উইগুর এথনিক প্রোটেকশন অ্যাক্ট পাস করেছে৷ অথচ জিনজিয়াং-এ ঘটতে থাকা মানবিক এ দুর্যোগের বিষয়ে চুপ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো৷

চীনের ‘পুনঃশিক্ষাদান' কেন্দ্রগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি উইগুর মুসলিমকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়৷ এই ক্যাম্পগুলোকে তুলনা করা হয় আধুনিক যুগের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হিসেবে৷ শুধু বসবাসের অযোগ্য স্থান নয়, উইগুরদের নিয়মিত নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে৷

যাদেরকে শেষ পর্যন্ত মুক্তি দেয়া হয়, পরিবারের ওপর কড়া নজরদারির কারণে তারা বাকি জীবনও বলতে গেলে বন্দি অবস্থাতেই কাটান৷ জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুজানে শ্র্যোটার মনে করেন, চীনের কমিউনিস্ট সরকার রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণে এমন করেই নির্যাতনের পথ বেছে নেয়৷ পড়ুন সাক্ষাৎকার৷

ডয়চে ভেলে: জিনজিয়াং-এ উইগুরদের ওপর নজরদারি ও পুনঃশিক্ষার নামে কেমন নির্যাতন চালানো হয়, তা কেবলই সবাই জানতে শুরু করেছে৷ চীনের এমন নীতিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

শ্র্যোটার: চীনের সরকার খুবই কর্তৃত্বপরায়ণ এবং বিরোধী মত যে-কোনো উপায়ে দমন করতে চায়৷ শুধু উইগুরদের ক্ষেত্রেই নয়, উদারপন্থা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদেরকেও একই উপায়ে দমন করা হয়৷ একসময় ফালুন গং নামে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, চরমভাবে তা দমন করা হয়৷ তিব্বতের দালাই লামার সমর্থকদের অবস্থাও আমরা জানি৷ ফলে উইগুরদের ক্ষেত্রে চীন সরকার যা করছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷

পুনঃশিক্ষা ক্যাম্প বিশ শতকেও নানা সময়েই ব্যবহার করেছে চীন৷ জনগণের ওপর মতো চাপিয়ে দেয়া এবং বিরোধীদের মনে ভয় ধরাতে কার্যকরভাবে নানা দমনমূলক পন্থা অবলম্বন করেছে দেশটির কমিউনিস্ট সরকার৷ এতে সব স্তরের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ যাদের বিরুদ্ধে চীনা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য৷

জিনজিয়াং-এ বেইজিং-এর এই নীতির কারণ কী?

উইগুররা স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল৷ চীনা সরকারের চোখে এটিই তাদের ওপর দমনপীড়ন চালানোর জন্য যথেষ্ট বলে মনে হয়েছিল৷ পাশাপাশি, জিনজিয়াং-এ এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মুসলিমদের ধর্মীয় একটি আন্দোলনও ছিল৷ পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলনকে এখন জাতিসংঘ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সন্ত্রাসী আন্দোলন বলে মনে করে৷ বেশ কয়েক বছর ধরে এই গোষ্ঠী জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়েছে৷ ২০১৪ সালে কুনমিং ট্রেন স্টেশনে বোমা হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান৷ উইগুরদের ব্যাপারে চীনা নীতি এসব ঘটনা দিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হয়৷

এই পদ্ধতিটি চীন সরকার বিভিন্ন বিরোধী গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে৷ নিপীড়ন, ভয়াবহ ভয় সৃষ্টি করা এবং বাধ্যতামূলক শ্রম শিবিরে কাজ করানো, এসব পদ্ধতির অন্যতম৷

এখন পর্যন্ত চীন বরাবরই এই পদ্ধতি প্রয়োগে সফল হয়েছে৷ কড়া নজরদারির কারণে উইঘুরদের কোথাও চলে যাওয়ার সুযোগ নেই৷ ফলে এইকাজে চীনা সরকার বেশ সফল৷ মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও, এ পদ্ধতিটি সকল ধরনের প্রতিরোধকে পরাস্ত করতে সফল হয়েছে এবং সরকার এটাই চায়৷

অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ আর সম্ভব না হলে কেবল বাহ্যিক চাপই এ পদ্ধতি থেকে চীনকে নড়াতে পারবে৷ মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে কি এই চাপ আশা করা যায়?

উইগুরদের বিরুদ্ধে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আওয়াজ উঠছিল পশ্চিমা দেশগুলো থেকেই৷ তবে কয়েক বছর আগে তুরস্ক উইগুরদের জাতিগত সংগ্রামকে সমর্থন করে৷ এমনকি ২০০৯ সালে রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ান জিনজিয়াং-এ চীনা নীতিকে 'গণহত্যা' হিসাবে অভিহিত করেছিলেন৷ অনেকদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদকে সমর্থন করেন এবং জিনজিয়াংয়ের শরণার্থীদের আশ্রয়ও দিয়েছিলেন৷ উইগুর নেতাদের কেবল রাজনৈতিক আশ্রয়ই দেয়া হয়নি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগও তাদের দেয়া হয়েছিল৷

কিন্তু আঙ্কারার এই নীতি পরিবর্তন হয়েছে৷ ২০১৭ সালে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসী উইগুরদের বিষয়ে কড়া নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন৷ তুরস্কে এখন আর উইগুর সংখ্যালঘুদের বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেয়া হয় না৷ এমনকি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়ে৷ ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে এর্দোয়ান তার সফরে চীন সরকারের সংখ্যালঘু নীতিগুলির প্রশংসাও করেন৷

এর্দোয়ানের এই নীতি হঠাৎ পালটে যাওয়ার কারণ কী?

এর দুটি কারণ রয়েছে৷ প্রথমত, পশ্চিমাদের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি৷ আঙ্কারা বিকল্প শক্তির সমর্থন চায় এবং চীনকে এক্ষেত্রে নতুন মিত্র মনে করে৷ দ্বিতীয় কারণটি বাণিজ্যিক৷ তুরস্ক এখন একটি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নতুন বাণিজ্য সম্পর্ক দরকার৷ পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে৷ কারণ, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে৷ অন্যদিকে, এর্দোয়ানবিরোধী দলকে দমন করেছেন কিনা, এ নিয়ে চীনের কোনো আগ্রহ নেই৷

এ বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কী?

ইরান চীনা নীতির সমালোচনা করে না৷ ইরান থেকে তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক চীন, ইরানের তেল ও গ্যাস খাতেও চীন প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করে৷ ইরানের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো প্রসারিত করছে দেশটি৷ অর্থনৈতিক কারণে চীনের সঙ্গে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্কও বেশ ভালো৷ যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান চীনা সংখ্যালঘু বিষয়ক নীতির প্রশংসাও করেছেন৷ অন্য আরব দেশগুলোরও অবস্থান একই রকম৷ এক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক একটি বড় কারণ৷

তাছাড়া, অনেক ইসলামী দেশ পরিচালিত হয় অগণতান্ত্রিক সরকার দ্বারা৷ ফলে তাদের প্রায়ই মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার মুখে পড়তে হয়৷ মিশর, উপসাগরীয় নানা দেশ, পাকিস্তান, ইরান এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য৷ অন্যদিকে, চীন মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়ে মোটেই আগ্রহী নয়৷ ফলে চীনের সঙ্গে যে কোনো দেশই একে অপরের অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে সমালোচনার ভয় না করেই ব্যবসা করতে পারে৷

(অধ্যাপক ড. সুজানে শ্র্যোটার জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ইয়োহান ভুল্ফগাং ফন গ্যোটে ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর গ্লোবাল ইসলামিক রিসার্চ এর পরিচালক৷ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডয়চে ভেলের রোডিয়ন এবিগহাউসেন৷)

এডিকে/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন