চীনকে ঠেকাতে একজোট চার দেশ | বিশ্ব | DW | 06.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

চীনকে ঠেকাতে একজোট চার দেশ

চীনের প্রভাব ঠেকাতে একজোট অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত। চার দেশের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন টোকিওতে।

চার দেশের জোটের নাম কোয়াড্রিল্যাটেরাল সিকিউরিটি ডায়লগ বা কোয়াড। মুখে না বললেও মূলত চীনের প্রভাবের মোকাবিলা করার জন্যই একজোট হয়েছে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যামেরিকা। চীন যে ভাবে ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করছে ও আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াবার চেষ্টা করছে, তা ঠেকানোর জন্যই চার দেশের বিদেশমন্ত্রী বৈঠক করছেন টোকিওয়। করোনাকালে ভার্চুয়াল বৈঠক না করে তারা যে একসঙ্গে বসে আলোচনা করলেন, তার থেকেই পরিষ্কার বিষয়টিকে তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে কোয়াডের বৈঠক হয়েছিল। তারপর আবার হচ্ছে টোকিওতে।

কোয়াডের বৈঠকের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আলাদা করে মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেওর সঙ্গে কথা বলেন। লাদাখে সংঘর্ষের পর এই প্রথম মুখোমুখি আলোচনায় বসলেন দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর টুইট করে বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। চার বিদেশমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের কথা থেকে পরিষ্কার, চীনকে ঠেকাতে অ্যামেরিকা ও ভারত একযোগে কাজ করবে। প্রবীণ সাংবাদিক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''জয়শঙ্কর ও পম্পেওর বৈঠক থেকে এই বার্তাই স্পষ্ট যে দুই দেশ চীনকে ঠেকাতে হাত মিলিয়ে চলবে। তাঁরা স্পষ্টভাবে এই কথাটা না বললেও বলা যেতে পারে, তাঁদের আসল উদ্দেশ্য বা সুপ্ত বাসনা হলো চীনের মোকাবিলা করা।''

জয়শঙ্কর তাঁর ভাষণে বলেছেন, ভারত আন্তর্জাতিক জলপথের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে দায়বদ্ধ। ভারত এখানে আইন, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের স্বাধীনতার পক্ষে। সেই সঙ্গে ভারত চায় সব দেশ যেন অন্যের সার্বভৌমত্ব মেনে চলে এবং সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ নেয়।

কোথাও চীনের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। কিন্তু কথাগুলো যে চীনকে উদ্দেশ্য করে বলা তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, বিশেষ করে সাউথ চায়না সি-তে চীনের দাদাগিরি থামানোর জন্য চার দেশ যে একজোট হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চীন যদি সংযত না হয়, তা হলে এই দেশগুলি বেজিং-এর বিরুদ্ধে আর্থিক ব্যবস্থা নেয়ার পথে হাঁটতে পারে।''

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হয়ে এলে চীনের বিরোধিতা সম্ভবত আরো তীব্র করবেন। কিন্তু বাইডেন জিতলে নতুন সমীকরণ, নতুন নীতি নিয়ে চলতে পারেন। তবে একটা কথা স্পষ্ট চীনকে চাপ ও বার্তা দিতে চাইছে চার দেশ।

চীন অবশ্য কোয়াডের তীব্র বিরোধী। তারা জানিয়েছিল, চার দেশ কখনোই পঞ্চম কোনো দেশকে নিয়ে এই ভাবে আলোচনা করতে পারে না। আগের বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, চীনের বিরোধিতা করার জন্য কোয়াড নয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য কোয়াড।

সম্প্রতি এই চার দেশের সঙ্গে চীনের হয় সরাসরি সংঘাত লেগেছে অথবা চীনের প্রভাব বাড়তে থাকায় দেশগুলি উদ্বিগ্ন। এই আবহে টোকিওতে বৈঠক করলেন চার বিদেশমন্ত্রী।  এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে চীনের সংঘাত রীতিমতো তুঙ্গে উঠেছে। লাদাখে দুই দেশের সেনা রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ভারতের ২০ জন সেনা মারা গেছেন। চীনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কতজন সেনা মারা গেছেন তা চীন জানায়নি। ভারতের অভিযোগ, চীন স্থিতাবস্থা ভেঙে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে। চীনের অভিযোগ, ভারত তাদের ভূখণ্ডে ঢুকেছে। লাদাখ ও অরুণাচলে বিপুল পরিমাণে সেনা মোতায়েন করেছে ভারত ও চীন।

অ্যামেরিকার সঙ্গে চীনের বিরোধ বেধেছে বাণিজ্য, হংকং, তাইওয়ান, মানবাধিকার ও প্রযুক্তি নিয়ে। পম্পেওর অভিযোগ, চীন বিশ্বের অর্থনীতি ও পরিবেশকে ধ্বংস করতে চাইছে। পূর্ব চীন সাগরে জাপানের অধিকারে থাকা একটি দ্বীপকে চীন তাদের এলাকা বলে দাবি করেছে। তা নিয়ে জাপানের সঙ্গে চীনের সংঘাত চলছে। তাছাড়া জাপানের ধারণা, চীন তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সমস্যাও বাণিজ্যে চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে। 

জিএইচ/এসজি(বিদেশ মন্ত্রকের টুইট, এএনআই)

 

বিজ্ঞাপন