চিড়িয়াখানার স্থাপত্য দর্শকদের মুগ্ধ করছে | বিশ্ব | DW | 15.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

চিড়িয়াখানার স্থাপত্য দর্শকদের মুগ্ধ করছে

চিড়িয়াখানার পরিবেশ দর্শকদের মনের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে৷ প্রাণীরা তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকলে তাদের দেখে মন ভালো হয়ে যায়৷ এর পেছনে রয়েছে স্থাপত্য সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা৷

বার্লিন চিড়িয়াখানায় এক পান্ডা দম্পতির জন্য আলাদা বাসা তৈরি করা হয়েছে৷ নাম  ‘পান্ডা গার্ডেন'৷ দর্শক ও তাদের মাঝে রয়েছে শুধু কাচের জানালা৷ মেং মেং ও জিয়াও চিং-এর ঘরে এমনকি চৈনিক বাতিও রয়েছে৷ স্থপতি নাতাশা ময়সার এই প্রাণীগুলি দেখে মুগ্ধ৷ প্রাণীগুলির জন্য যে সে এনক্লোজার তৈরি করা হয় নি, রীতিমতো অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে৷ চিড়িয়াখানার গাইড ক্রিস্টিয়ান টল জানালেন, ‘‘গোটা বাড়িটির তিনটি অংশ রয়েছে৷ অর্থাৎ শোবার ঘর, বসার ঘর ও এক বিশাল বাগান৷ সত্যিকারের আরামের মরুদ্যান৷''

দর্শকদের আরামেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ চিড়িয়াখানা ঘোরার অভিজ্ঞতাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলাই ছিল উদ্দেশ্য৷ নাতাশা ময়সার বলেন, ‘‘বর্তমান চিন্তাধারা অনুযায়ী চিড়িয়াখানার স্থাপত্যে ঘরে-বাইরে প্রাণীদের থাকার জায়গা পুরোপুরি পরিকল্পনামাফিক তৈরি করা হয়৷ প্রত্যেকটি ঝোপঝাড়, ঘাস, বেড়া ভেবেচিন্তে তৈরি করা হয়৷''

নাতাশা মনে করেন, নাটকের মঞ্চের মতো চিড়িয়াখানার স্থাপত্যও দর্শকদের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে৷ চিড়িয়াখানা আসলে প্রকৃতি উপভোগের অভিজ্ঞতার বিভ্রম সৃষ্টি করে৷ নাতাশা ময়সার প্রায় ১০ বছর ধরে চিড়িয়াখানার স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং সে বিষয়ে একটি বই লিখেছেন৷ আসলে তিনি আফগানিস্তান, মালি ও ইয়েমেনের মতো সংকটপূর্ণ দেশে দূতাবাস ভবন তৈরি করেন৷ চিড়িয়াখানাও সেই কাজের কথা কিছুটা মনে করিয়ে দেয়৷ এখানেও স্থাপত্যে কড়া নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে৷

কিন্তু চিড়িয়াখানা কি আসলে কারাগার? মানুষ সেভাবে ভাবতে চায় না৷ স্থাপত্য সেই মনোভাব ভুলতে সাহায্য করে৷ নাতাশা ময়সার বলেন, ‘‘কারণ আমরা এনক্লোজারের সীমানায় সৌন্দর্য আনি৷ খাঁচার গরাদ, বেড়া বা সীমানা আর দেখা যায় না৷ তার বদলে পানির পরিখা খোঁড়া হয়েছে৷ সীমানাকেও আমরা সুন্দর করে তুলি৷ আমার মতে, প্রাণীদের এনক্লোজার মোটেই ‘মানবিক' করে তোলা যায় না৷ প্রাণীরা বন্দিই থাকে, আমরা শুধু নাটকীয়ভাবে তাকে সবার সামনে পেশ করি৷''

নাতাশা ময়সার চিড়িয়াখানার স্থাপত্যের ইতিহাস ঘেঁটে দেখেছেন৷ ১৮৪৪ সালে বার্লিন চিড়িয়াখানার সূচনা হয়েছিল জিরাফের এনক্লোজার দিয়ে৷ সে সময়ে ভিনদেশীয় আজব প্রাণী হিসেবে তাদের দেখানো হতো – যেন আরব্যরজনীর কাল্পনিক চরিত্র৷

১৯০০ সালে হামবুর্গ শহরে কার্ল হাগেনবেক গারদহীন চিড়িয়াখানার আইডিয়া নিয়ে আসেন৷ শিকারি প্রাণীদের পাশে ফ্ল্যামিংগো পাখি রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নাটক শুরু হয়৷ নাতাশা ময়সার বলেন, ‘‘স্বর্গের উদ্যানের একটা ছবির চাহিদা আমাদের মনের মধ্যেই রয়েছে৷ এখানে তাকিয়ে দেখলে শুধু প্রকৃতিই চোখে পড়ছে, স্থাপত্য নয়৷ আমার মনে হচ্ছে, প্রাণীরা ভালোই আছে৷''

জঙ্গলে প্রাণী দেখতে চান? তার জন্য টেলিভিশনে তথ্যচিত্র রয়েছে৷ জঙ্গলের স্বাদ নেবার চাহিদা অবশ্যই রয়েছে৷ কিছু প্রাণী আমাদের হৃদয় গলিয়ে দেয়৷ যেমন ২০০৬ সালে পরিত্যক্ত তুষার ভালুকের ছানা ক্নুট করেছিল৷ দর্শকদের প্রিয় এমন প্রাণীকে কিন্তু খাঁচায় বন্দি রাখা উচিত নয়৷ উন্মুক্ত প্রকৃতিই তাদের জন্য উপযুক্ত৷

ভবিষ্যতের চিড়িয়াখানা কেমন দেখতে হবে? সিঙ্গাপুর ও সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যে পরিকল্পনা চলছে, তা থেকে সেই আভাস পাওয়া যায়৷

বার্লিন চিড়িয়াখানায় জলহস্তির ভবিষ্যতধর্মী ঘর প্রকৃতির মধ্যেই মিশে যাচ্ছে৷ তবে এ সব নিয়ে প্রাণীরা সম্ভবত মাথা ঘামাচ্ছে না৷

ভানেসা ল্যোভেল/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন