চিকিৎসা-সংকট মেটাতে পাড়া মহল্লাতে আইসোলেশন সেন্টার | বিশ্ব | DW | 06.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

চিকিৎসা-সংকট মেটাতে পাড়া মহল্লাতে আইসোলেশন সেন্টার

ভোট শেষ হতেই কোভিড রুখতে সক্রিয়তা বাড়ল প্রশাসনের৷ করোনা রোগীদের চিকিৎসা-সংকট মেটাতে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার৷ হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে পাড়ায় পাড়ায় তৈরি হবে আইসোলেশন সেন্টার‍৷

দেশের বাকি অংশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়ের গতিতে নতুন সংক্রমণ বাড়ছে৷ বেডের সংখ্যা বাড়িয়েও রোগীর চাপ সামলাতে নাজেহাল হাসপাতালগুলি৷ তাই ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কোভিড মোকাবিলার নয়া নির্দেশিকা নেওয়া হয়েছে৷ নির্দেশিকা অনুযায়ী, সকালে ৭টা থেকে ১০টা, বিকেলে ৫টা থেকে ৭টা বাজার খোলা থাকবে৷ বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন বন্ধ৷ সরকারি গণপরিবহণ ও মেট্রো রেল ৫০ শতাংশ চলবে৷ ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে দুপুর দুটো অবধি৷ আপাতত এই আংশিক লকডাউন চলবে৷ পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

অডিও শুনুন 03:07

‘অনেক ক্ষেত্রেই যার প্রয়োজন নেই, এ রকম মানু্ষও বেড দখল করে রাখছেন’


হাসপাতালের চাপ কি কমবে?


চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ কমাতে এ বার হাসপাতালের বেড শুধু গুরুতর করোনা রোগীদের জন্যই ব্যবহৃত হবে৷ বাকি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় পাড়ায় পাড়ায় আইসোলেশনে সেন্টার তৈরির নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর৷ এই সেন্টারগুলিতে অক্সিজেন পরিষেবা থাকা আবশ্যক৷ পাশাপাশি শ্বাসকষ্টে ভোগা সন্দেহভাজন করোনা রোগীদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এই আইসোলেশন সেন্টারে৷ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ ধরনের কমিউনিটি সেন্টারের দায়িত্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা আবাসিক কমিটিকে দেওয়া হবে৷ আক্রান্তদের দেখভালের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে৷ অক্সিজেনের মাত্রা ৮৬ শতাংশের নীচে গেলেই হাসপাতালে স্থানান্তর করার বিষয়টিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকছে৷ পাশাপাশি উপসর্গ মৃদু থেকে মাঝারি, অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশ বা তিন দিন জ্বর না থাকলেই ছুটি৷ 
করোনা আটকাতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ যে সদর্থক হতে পারে, সে ব্যাপারে আশাবাদী বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিনের ডাঃ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, “অনেক ক্ষেত্রেই যার প্রয়োজন নেই, এ রকম মানু্ষও একটা গুরুত্বপূর্ণ বেড দখল করে রাখছেন নিছক আতঙ্কে৷ মানুষ যদি নিশ্চিত হয়ে যান যে তিনি অক্সিজেন পাবেন, গুরুতর সমস্যা হলে ভালো জায়গায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে, তা হলে মানুষের আতঙ্ক থাকবে না৷

অডিও শুনুন 02:12

‘এবার সচেতনতা প্রচারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’

তখন নিশ্চিতভাবে হাসপাতালের উপর চাপ কমবে৷ সরকারের এই চেষ্টা সদর্থক হয়ে উঠবে৷” ডাক্তার বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, স্বাস্থ্যবিভাগের পেশাদারদের মতোই যে কেউই কোভিড রুগীদের দেখাশোনার কাজটি করতে পারবেন৷ সেক্ষেত্রে সরকারের তরফে গ্রামগঞ্জের খালি পায়ে চিকিৎসক বা কোয়াক ডাক্তারদের এ কাজে লাগানোর পদক্ষেপ ইতিবাচক হতে পারে৷ গ্রামে করোনা রোগী পাওয়া গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে তারা করবেন, সেই গাইডলাইন দেবে রাজ্য৷  


মৃতদেহ ঘিরে সমস্যা?


অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠছে, মৃতদেহ পড়ে থাকছে বাড়ি বা রাস্তায়৷ কোভিডের আতঙ্কে কেউ দেহ সংগ্রহ করতে চাইছে না৷ মঙ্গলবার পুর প্রশাসক ও কো-অর্ডিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিম জানান, কেউ মারা গেলে পুরসভার গাড়িই দেহ তুলবে৷ শহরের এমন একাধিক ঘটনা ঘটার পর পুরসভার সিদ্ধান্ত, প্রত্যেক ওয়ার্ডে গাড়ি রাখা থাকবে৷ সার্টিফিকেশনের জন্য দেহ ফেলে রাখা যাবে না৷ ফিরহাদ হাকিম বলেন, “দেহ তোলার পর নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে৷ কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ এলে দেহ দেওয়া হবে পরিবারকে৷ পজিটিভ হলে নির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী সত্কার করা হবে৷” রক্সি হলে আয়োজিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অটো নিয়ে প্রতি ওয়ার্ডে চলবে সচেতনতা প্রচার৷ পাড়ায় পাড়ায় দেওয়া হবে কোভিড হেল্পলাইন নম্বর৷ সেই নম্বরে ফোন করলেও পুরসভা এগিয়ে আসবে রোগীর সাহায্যে৷ 

কলকাতা লাগোয়া অন্যান্য পুরসভাও উদ্যোগ নিচ্ছে৷ দমদম পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য বরুণ নট্ট ডয়চে ভেলেকে বলেন, “ এ বার সচেতনতা প্রচারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি৷ ৫৫ বেডের সেফ হোম হয়েছে৷ আরেকটি সেফ হোম খোলার চেষ্টা করছি৷ আমাদের হাসপাতালে রোজ ৪০টি কোভিড টেস্ট হচ্ছে৷ সপ্তাহে তিনদিন ৩০০-৩৫০ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে৷” নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংবাদিক, হকার ও পরিবহণকর্মীদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়