চাষ না করেই মুনাফা! | অন্বেষণ | DW | 28.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

চাষ না করেই মুনাফা!

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য শুধু গাড়ি ও কলকারখানা দায়ী নয়, চাষবাস ও গবাদি পশু পালনও জলবায়ুর এই ক্ষতির শরিক৷ জার্মানির বাভেরিয়া রাজ্যে এক অভিনব প্রকল্পের মাধ্যমে জমির বিকল্প ব্যবহারের চেষ্টা চলছে৷

জার্মানির সোয়েবিয়া অঞ্চলের জলাভূমিতে এক্সমুর প্রজাতির পনি বা টাট্টু ঘোড়া এবং মোষ আনা হয়েছে৷ এই প্রাণী নাকি পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করবে৷ অনেক দিন ধরে আজকের জলাভূমি শুকনা ছিল৷ সেখানে চাষবাসের কারণে বিশাল মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হতো৷ তবে যবে থেকে জমি প্লাবিত করা হয়েছে, সেখানকার মাটি থেকে অনেক কম পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন ঘটছে৷

কিন্তু কৃষিজমির মালিক কি প্লাবিত জমি থেকেও আয় করতে পারবেন? স্থানীয় সমিতির কৃষি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আনিয়া শুমান সেই জমির নতুন করে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালাতে চান৷ কিন্তু তার জন্য চাষিদের সহায়তা প্রয়োজন৷ আনিয়া বলেন, ‘‘বলা বাহুল্য চাষিদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অবশ্যই জমি প্লাবিত করার বিরুদ্ধে ছিল৷ কারণ ৫০ বছর আগে তাদের সেই জমি শুকিয়ে ফেলতে হয়েছিল৷ এখন কেন আবার পানি ভরিয়ে ফেলা হবে, তা মাথায় ঢোকানো মুশকিল৷ কিন্তু জলবায়ুর খাতিরেই সেটা করা প্রয়োজন৷ আমরা তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ করে দিতে চাই৷ চাষিরা জমিতে প্রাণীর বিচরণের মাধ্যমে আয় করতে পারেন৷''

চাষি হিসেবে ক্রিস্টিয়ান মায়ার এমন আইডিয়া গ্রহণ করেন৷ ২০১৫ সালে তিনি সেখানে মোষের পাল নিয়ে আসেন৷ সেটা খুব বড় ঝুঁকি ছিল বটে৷ তবে প্লাবিত জমিতে মোষ মোটামুটি নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে৷ নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ক্রিস্টিয়ান বলেন, ‘‘দুধ দেওয়া অথবা হলস্টাইন জাতের গরু সম্ভবত এমন জমিতে সুবিধা করে উঠতে পারবে না৷ কিন্তু মোষ নিয়ে আমাদের সেই সমস্যা নেই৷ এই প্রাণী দিব্যি সেখানে খোরাক পায় এবং সেটির মাংস ভালই বিক্রি হয়৷ সাধারণ জাতের গরুর সঙ্গে তুলনাই হয় না৷''

এমন পশুপালনের জন্য ক্রিস্টিয়ান মায়ার সরকারি ভরতুকিও পান৷ অব্যবহৃত জমিতে আগাছা কাটার জন্যও ভরতুকি আসে৷ ফ্রাইসিং এলাকার জমি আবার প্লাবিত করার প্রক্রিয়ার সময় বিজ্ঞানীরা নিয়মিত পরিমাপ চালিয়ে গেছেন৷ ড. টিম আইকেনশাইট তাঁদেরই একজন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের দিকে নজর রাখি৷ পেছনেই সেটা দেখা যাচ্ছে৷ এটা একটা স্বয়ংক্রিয় প্রণালী, যার মাধ্যমে ‘ট্রেস গ্যাস' পরিমাপ করা হয়৷ মাটিতে পোঁতা ঢাকা দেওয়া কাঠামোয় তা দেখা যায়৷ ঢাকার নীচে আমরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড বা মিথেনের মতো নির্দিষ্ট কোনো গ্যাসের ওঠানামা টের পাই৷ সেগুলির পরিমাণ বাড়া বা কমার ভিত্তিতে আমরা নিখুঁতভাবে কোনো চিহ্নিত জায়গার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ নির্ণয় করতে পারি৷ পানির স্তর অনুযায়ীও সেটা মাপা হয়৷''

পানির স্তর খুব বেশি উঁচু হলে চলবে না৷ ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার উচ্চতা আদর্শ বলে গণ্য করা হয়৷ এমন উচ্চতায় সবচেয়ে কম পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে৷

এমন পানিভরা পরিবেশের উপযুক্ত কোন উদ্ভিদ সবচেয়ে বেশি মুনাফা আনতে পারে, বিজ্ঞানীরা একই সঙ্গে সেটাও খতিয়ে দেখছেন৷ রিড ক্যানারি জাতের পাশাপাশি ইয়খেন ক্রাউস সেজেস ঘাসও চাষ করছেন৷ খামারে তিনি আলপাকা প্রাণীর ব্রিডিং বা বংশবৃদ্ধি করছেন৷ তার প্রাণীরা সাধারণত খোরাক হিসেবে খড় পায়৷ তবে সন্ধ্যায় তাজা সেজেস ঘাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রাণীগুলি আদৌ সেই ঘাস খাবে কিনা, খেলে কীভাবে খাবে তা দেখার জন্য ইয়খেন উদগ্রীব হয়ে আছেন৷ এই প্রথম সেজেস ঘাসের খেত ছাঁটা হচ্ছে৷ সতীর্থ হিসেবে ক্রিস্টিয়ান মায়ার নিজের বার মোয়ার যন্ত্র দিয়ে সেই কাজ করে দিচ্ছেন৷ ঘাস কাটতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না৷ ভিজে জমিতে সেজেস ঘাস ভালই বেড়ে ওঠে৷

পাশের শুকনো জমিতে প্রথাগত গ্রীষ্মকালীন শস্যের চাষ হচ্ছে৷ সেখানে হেক্টর-প্রতি ২০ টন বাড়তি কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন ঘটে৷ ইয়খেন ক্রাউস বলেন, ‘‘দুই জমির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করাই হলো লক্ষ্য৷ আমাদের কত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, কী করা যেতে পারে, কত পরিমাণ চাষ করতে পারি সেটা জানলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে৷''

সেজেস ঘাস বিক্রি করে কত আয় হবে, সে বিষয়ে এখনো তার কোনো ধারণা নেই৷ তবে এই ঘাস নানাভাবে কাজে লাগানো সম্ভব৷ কৃষি ইঞ্জিনিয়ার আনিয়া শুমান মনে করেন, ‘‘আমাদের গবাদি পশুর খোরাক হিসেবে ঘাস কাজে লাগতে পারে৷ অবশ্যই সেই চেষ্টা করবো৷ জ্বালানি উৎপাদন করতে বায়ো গ্যাস প্লান্টে ব্যাকটিরিয়ার প্রয়োজন৷ ঘাস সেই কাজেও লাগবে৷ শুকনো ঘাস লাকড়ি অথবা ইনসুলেশন বোর্ড তৈরির কাজেও লাগানো যেতে পারে৷ যেমন এই প্রাকৃতিক ইনসুলেশন বোর্ডের থার্মাল প্রভাব অসাধারণ৷''

এমন এলাহি পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, তা জানতে এখনো পরীক্ষা চালাতে হবে৷ আলপাকা তাজা অথচ শক্ত সেজেস ঘাস খায় কিনা, আপাতত ইয়খেন ক্রাউস তা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন৷ প্রাণীগুলির অনীহা দেখে তিনি বলেন, ‘‘এমন ভিজে অবস্থায় খেতে না চাইলেও শুকনো ঘাস খাবে বলে আমার মনে হচ্ছে৷ তবে আজ ঘাস ছাঁটার কাজ ভালই হয়েছে৷ তাড়াতাড়ি শুকিয়েও যাচ্ছে৷ গোটা প্রকল্প সম্পর্কে আমি ইতিবাচক ও আশাবাদী৷''

২০২২ সালে এই পরীক্ষার কাজ শেষ হবে৷ চাষবাস, প্রকৃতি এবং জলবায়ু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ‘মুর-ইউজ' প্রকল্প সাফল্য বয়ে আনতে পারে৷ জার্মানির বাভেরিয়া রাজ্যের সব মুর বা জলাভূমিতে আবার পানি ভরিয়ে দিলে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন পাঁচ শতাংশ কমানো যাবে৷

মোনিকা সারে-মক/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়