চালের দামে নাভিশ্বাস! | বিশ্ব | DW | 18.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

চালের দামে নাভিশ্বাস!

চালের বাজারের অস্থিরতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে দেশের মানুষ৷ গত ৮ মাস ধরেই চলছে এই নৈরাজ্য৷ দাম কমার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই বরঞ্চ আরও বাড়বে বলে আশংকা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা৷

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷

সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা তার ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘‘প্রথমত: বিশ্ববাজারে চালের দাম বাড়েনি৷ দ্বিতীয়ত: আপনারা বলছেন, পর্যাপ্ত মজুত আছে, বিপুল পরিমান চাল আমদানি করেছেন, আরও আমদানি করছেন৷ প্রশ্ন: ওএমএস’-এর চালের দাম কেজি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা, দ্বিগুণ করা হলো কেন? শুল্ক ২৮% থেকে কমিয়ে ২% করেছেন৷ বাংলাদেশের কাছে টাকা আছে, বিশ্ববাজারে চাল আছে৷ তাহলে প্রতিদিন চালের দাম বাড়ছে কেন?’’

আরেক সাংবাদিক সঞ্জয় দে তাঁর ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘‘চালের দাম আর একটু বাড়লেই আমরা উচ্চ মধ্যবিত্ত দেশের তালিকায় পৌঁছাব৷ লেটস প্রে... ’’

আমদানি শুল্ক ২৮ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, বিদেশ থেকে জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানির পরও হাতের মুঠোয় রাখা যাচ্ছে না চালের বাজার৷ উলটো বেড়েই চলেছে দাম৷ মোটা চাল ৫৫ টাকা আর চিকন চালের কেজি ঠেকেছে ৭৫ টাকায়৷ এরইমধ্যে মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়৷ এতে প্রতি টন চালের দাম পড়বে ৪৪২ ডলার৷ আগামী তিন মাসের মধ্যে এই চাল আনা হবে৷

এ পরিস্হিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার সাধারণত খোলা বাজারে বিক্রি বা ওএমএস চালু করে৷ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ‘‘ওএমএস-এ আগের মতোই ১৫ টাকা কেজিতে চাল পাওয়া যাবে৷’’ অথচ দু'দিন যেতে-না-যেতেই সেই ওএমএস-এর দামও  ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করেছে সরকার৷

চলতি বছরের শুরু থেকেই চালের দাম বাড়তির দিকে৷ দেশের বেশিরভাগ এলাকা জুড়ে পর পর তিনবারের বন্যা এবার ফসলের অনেক ক্ষতি করেছে নি:সন্দেহে৷ এছাড়া চাল আমদানিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের বড় ভরসার জায়গা, সেখানাকার অস্থিতিশীলতাও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলেছে৷ সব মিলিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে যেখানে কমপক্ষে ছয় লাখ টন চাল থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র সোয়া তিন লাখ টন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে৷

তবে অনেকেরই শক্ত অভিযোগ, সরকারের নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র চালের বাজার এতটা অস্হিতিশীল করে তুলেছে৷

দাম বাড়ার যত যুক্তিই থাকুক না কেন, গত ৮ মাসে চালের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১৫ টাকার উপরে৷ যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের ওপর৷ বিশেষ করে বাড়তি টাকায় চাল কিনতে গিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে৷ সেকারণেই প্রতিক্রিয়া জানাতেও ভুল করছেন না অনেকে৷

ফেইসবুকে ফিরোজ আহমেদ লিখেছেন, ‘‘ওএমএস এর চালের দাম ১৫ টাকা থেকে এক লাফে ৩০ টাকা করে যে ইশারাটা দেয়া হযেছে, মজুতদাররা সেই সংকেত অনুযায়ীই কাজ করে যাবে৷ মোটা চাল এখন ৫০ টাকা৷ বহু দশক পর মানুষ আবার ভাতের কষ্ট দেখছে৷’’

সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘‘চালের দাম ৭০ টাকা কেজি৷ মোটা চালের দাম ৫৫ টাকা৷ আমার সহকারি আয়শা জানালো, ট্রাকে করে ৩০ টাকা দামের চাল দেয়া হবে৷ বললাম, আমাকেও নিয়ে যেও৷ এছাড়া তো উপায় নেই আমার আর .....মাঝে-মধ্যে কেউ যদি নিমন্ত্রণ করে চিকন চালের ভাত খাওয়ায়, সেটাই হবে আমার খাওয়া৷ 

জীবন আনন্দময় !!!!’’

আর আব্দুল কুদ্দুস প্রশ্ন করেছেন, ‘‘চালের দাম বাড়ছে, একশ’ টাকা কেজি হতে বেশি দেরি নেই৷ দশ টাকা কেজি চালের কথা কি আসলেই আওয়ামী লীগ বলেছিল?’’

সংকলন: আসমা মিতা

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন