চার লাখ ৬০ হাজার আক্রান্তকে ত্রাণ-উদ্ধারে টাস্ক ফোর্স | বিশ্ব | DW | 11.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

চার লাখ ৬০ হাজার আক্রান্তকে ত্রাণ-উদ্ধারে টাস্ক ফোর্স

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এ বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ এবং উদ্ধারের কাজে তদারকির জন্য টাস্ক ফোর্স গড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ ক্ষতিগ্রস্ত নয় জেলার চার লাখ ‌৬০ হাজার মানুষ৷

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ এবং উদ্ধারের কাজ হবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে বিধ্বস্ত এলাকায়৷ সোমবার আকাশপথে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার নামখানা-বকখালি-কাকদ্বীপ ঘুরে দেখে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ তাঁর সরকারের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহার নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় ত্রাণের কাজ খতিয়ে দেখবে এই টাস্ক ফোর্স৷ জোর দেওয়া হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফের চালু করা, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র জোগান দেওয়ার ওপর৷ ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ৩৪ টি বিদ্যুতের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ সোমবারের মধ্যে তার ৩০টিতেই সরবরাহ ফের চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের খবর৷ ১০৫০টি মোবাইল টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঝড়ের কারণে৷ এছাড়া ক্ষতি হয় প্রায় ৬০ হাজার বসতবাড়ির৷ সারা রাজ্যে প্রাণ হারান ১০ জন৷ অধিকাংশই গাছ ভেড়ে পড়ে, অথবা বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে পড়ে৷


ঘুর্ণিঝড়ের দাপট শুরু হওয়ার আগেই সরাসরি ঝড়ের আওতায় আসতে পারে, এমন এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা প্রশাসন৷ এক লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ৪৭১ টি সরকারি ত্রাণ শিবিরে৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন কাকদ্বীপে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, এত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসনকে পুরস্কৃত করা উচিত৷ কেন্দ্র সরকারও তাদের এই তৎপরতার প্রশংসা করেছে৷ উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যখন তাণ্ডব চালাচ্ছে রাজ্যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে৷ ত্রাণের কাজে তাঁরা সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন তাঁর নির্ধারিত উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করে পরিস্থিতি দেখতে দক্ষিণবঙ্গে যান৷ বুধবার তিনি যাবেন উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটে৷


ঘূর্ণিঝড় বুলবুল রবিবার সকালেই বাংলাদেশের দিকে চলে যায়৷ তার পর উপকূলে জারি থাকা সতর্কবার্তা তুলে নিতেই অশান্ত সমুদ্রে নেমে পড়েন কলকাতার বাঘা যতীন এলাকা থেকে ঘূর্ণিঝড় দেখতে যাওয়া ৪৫ বছরের এক পর্যটক৷ এই আমোদসন্ধানীদের নিয়ে প্রতিবারই বিব্রত হচ্ছে প্রশাসন৷ যারা কোনও সাবধানবাণীর পরোয়া না করে চলে যান ঝড়, বা বন্যা দেখতে, সেলফি তুলতে৷ বস্তুত এবার ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘‌বুলবুল’ হওয়ায় সেই নিয়েও বিস্তর রসিকতা, ব্যঙ্গচিত্র ছড়ায় সোশাল মিডিয়ায়৷ অনেককে ফেসবুকে এমন পোস্ট দিতেও দেখা যায়, যে ঘূর্ণিঝড় আপনার কাছে মজার বিষয় হলেও বহু মানুষের প্রাণহানি, সম্পত্তিহানির কারণ হয়৷ দয়া করে এই নিয়ে মজা করবেন না!‌
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নয়টি জেলা৷ বিপর্যস্ত হয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার মানুষের জীবন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন