‘চার দুয়ারের′ অভিবাসন নীতি চান এফডিপি প্রধান | জার্মান নির্বাচন ২০১৭ | DW | 24.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

‘চার দুয়ারের' অভিবাসন নীতি চান এফডিপি প্রধান

ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারে আগামী সংসদীয় নির্বাচনে জার্মান উদারপন্থি দলের মুখ্য প্রার্থী ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার ম্যার্কেলের উদ্বাস্তু নীতির সমালোচনা করেছেন৷ তিনি চান ‘চার দুয়ারের' অভিবাসন নীতি৷

মুক্ত গণতন্ত্রী দলের সভাপতির সাক্ষাৎকার নেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল এবং রিপোর্টার ও উপস্থাপক জাফর আব্দুল করিম৷ ‘‘আমরা আফগানিস্তানে সেনা নিয়োগ দীর্ঘকাল চালিয়ে যেতে পারব বলে আমি মনে করি না'', বলেন লিন্ডনার৷ তাঁর মতে আফগানিস্তানে সৈন্য প্রেরণের লক্ষ্যগুলি অর্জিত হয়নি৷ পরিকল্পিত সময়সূচির মধ্যে আফগানিস্তানকে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিচারে একটি পশ্চিমা ধরনের খোলাবাজার ভিত্তিক গণতন্ত্রে পরিণত করার লক্ষ্য বড় বেশি উচ্চাশামূলক হয়ে থাকতে পারে, বলে তাঁর ধারণা৷

আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযান চলেছে গত ১৬ বছর ধরে৷ এ সপ্তাহের সূচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে আরো সৈন্য পাঠানোর অভিপ্রায় ঘোষণা করেছেন৷ ‘‘সে ধরনের সেনা নিয়োগ জার্মান সেনাবাহিনীর পক্ষে অনুকূল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না'', ডয়চে ভেলেকে বলেন লিন্ডনার৷

ভিডিও দেখুন 02:15
এখন লাইভ
02:15 মিনিট

Lindner: Germany needs to change its psyche

তুরস্ক

তুরস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক মনোমালীন্যের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৮ বছর বয়সি উদারপন্থি নেতা বলেন, ‘‘জার্মানি ও তুরস্কের মধ্যে যাবতীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা স্থগিত রাখা উচিত৷'' এক্ষেত্রে তিনি জার্মানি থেকে তুরস্কে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনোরকম সরকারি গ্যারান্টি না দেবার ও তুরস্ক থেকে বিনা শুল্কে পণ্য আমদানির ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন৷ ‘‘তুরস্কের সরকার বিরোধীদের জন্য আমাদের অন্তত এটুকু করা উচিত'', বলে লিন্ডনার মন্তব্য করেন৷

উদ্বাস্তু নীতি

লিন্ডনার চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উদ্বাস্তু নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে বড় বেশি সময় লাগছে৷ এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার জন্য লিন্ডনার একটি নতুন স্ট্যাটাস বা পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন, যা উদ্বাস্তুদের সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দেবে৷ পরিচিতি নিশ্চিত করার পর উদ্বাস্তুদের একটি রেসিডেন্স পার্মিট বা জার্মানিতে থাকার ভিসা দেওয়া হবে ও তারা সঙ্গে সঙ্গে জার্মানিতে কাজ করার অনুমতি পাবেন৷ ‘‘কিন্তু এই রেসিডেন্স পার্মিটগুলি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কালের জন্য দেওয়া হবে৷ উদ্বাস্তুরা যে সব দেশ থেকে আসছেন, সেখানে শান্তি ফিরলে সাধারণভাবে তাদের জার্মানি পরিত্যাগ করতে হবে'',  ব্যাখ্যা করেন লিন্ডনার৷

উন্নততর উদ্বাস্তু নীতি লিন্ডনারের অভিবাসন সংক্রান্ত সামগ্রিক চিন্তাভাবনার একটি উপাদান৷ এফডিপি চেয়ারম্যান ডয়চে ভেলেকে বলেন যে, জার্মানি একটি অভিবাসনের দেশ, ‘‘কিন্তু জার্মানিতে আগমনের পন্থাগুলি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করতে হবে৷'' এক্ষেত্রে লিন্ডনার চারটি প্রবেশদ্বারের কথা বলেন: ‘‘প্রথম দরজাটি হবে রাজনৈতিক আশ্রয়'',  যা তাঁর মতে একটি বুনিয়াদি, ব্যক্তিগত অধিকার, যার উপর কোনো ধরনের বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়৷ কিন্তু এ কথা খুব কম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, ‘‘যারা বাস্তবিক ব্যক্তি হিসেবে নিপীড়নের সম্মুখীন৷''

লিন্ডনারের দ্বিতীয় দরজা হলো ‘‘উদ্বাস্তু'', অর্থাৎ এমন সব ব্যক্তি, যারা যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে পলায়ন করছেন বটে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি বা নিপীড়নের সম্মুখীন হননি৷ কতোজন উদ্বাস্তুকে জার্মানিতে ঢুকতে দেওয়া হবে, তার উপর কোনো ঊর্ধ্বসীমা আরোপ করা হবে কিনা, ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোলের এ প্রশ্নের জবাবে লিন্ডনার বলেন, ‘‘একটি সীমা থাকবে, যা উদ্বাস্তুদের দেখাশোনা করার ও তাদের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতার উপর নির্ভর করবে৷'' তবে উদ্বাস্তু আগমনের ঊর্ধ্বসীমা কি হতে পারে, লিন্ডনার সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি৷

লিন্ডনারের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতির তৃতীয় দরজা হল ‘‘যোগ্যতা ভিত্তিক অভিবাসন''; এক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে বহির্বিশ্বের মানুষজনকে জার্মানিতে আসতে এবং বসবাস ও কাজ করতে দেওয়া হবে: ‘‘ভাষাজ্ঞান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদির ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কারা জার্মানিতে আসতে পারবেন'', ব্যাখ্যা করলেন লিন্ডনার৷

চতুর্থ ও শেষ দরজাটি বন্ধই থাকবে, অর্থাৎ যারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার যোগ্য নন, এবং উদ্বাস্তু অথবা বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন অভিবাসী নন, তারা ‘‘জার্মানিতে আসতে পারবেন না ও এখানে থাকতে পারবেন না৷''

ভিডিও দেখুন 05:25
এখন লাইভ
05:25 মিনিট

#Germany Decides: Christian Lindner speaks to DW

রাশিয়া

বর্তমানে এফডিপি দলের সংসদে কোনো আসন নেই, তবে আগামী ২৪ শে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তারা আট শতাংশ ভোট পাবার, এমনকি কোনো না কোনো জোট সরকারে অংশীদার হবার আশা করতে পারে৷ কাজেই বিদেশনীতির ক্ষেত্রে লিন্ডনার চান ‘‘জার্মান দাতাঁত'' বা সম্প্রীতির নীতিতে প্রত্যাবর্তন করতে৷ সম্প্রতি তাঁকে একটি সংবাদপত্র সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা গেছে যে, আপাতত ক্রাইমিয়াকে একটি ‘‘স্থায়ী অস্থায়ী পরিস্থিতি'' হিসেবে গণ্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই৷ ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারে লিন্ডনার পুনরায় উল্লেখ করেন যে, রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী; অপরদিকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জার্মান দাতাঁত বা সম্প্রীতির নীতি ‘‘চিরকালই দ্বিবিধ: দৃঢ়তা এবং আলাপ-আলোচনার প্রস্তুতি৷''

মার্সেল ফ্যুর্স্টেনাউ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়