চার দিনে মিলল ২৯৩০ জন শিশুর খোঁজ! | বিশ্ব | DW | 25.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

চার দিনে মিলল ২৯৩০ জন শিশুর খোঁজ!

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৬-র মধ্যে ৬৩,৪০৭ জন শিশু নিখোঁজ হয় ভারতে৷ অর্থাৎ ঘণ্টায় ৭ জন!‌ দিল্লিতে সংখ্যাটা দিনে ২২৷ ‌তবে ভরসা মুখমণ্ডল চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি বা ‘‌ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম'‌৷

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে প্রতি বছর বহু শিশু নিখোঁজ হয়৷ পুলিশ-‌প্রশাসনের হাতে খুব সহজে তাদের খুঁজে বের করার কোনো পথই ছিল না এতদিন৷ এবার বোধহয় সেই সমস্যা মিটতে চলেছে৷ নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে একটি সফটওয়্যারের প্রয়োগ হবে কি হবে না, তা নিয়েই টানাপোড়েন চলছিল৷ দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আইনি লড়াই চালাচ্ছিল নোবেল জয়ী সমাজসেবী কৈলাশ সত্যার্থীর সংগঠন ‘‌বচপন বাঁচাও আন্দোলন'‌ বা বিবিএ৷ দীর্ঘ চাপানউতোরের পর আদালতের নির্দেশে বিবিএ-‌র তৈরি এফআরএস সফটওয়্যার ব্যবহার করে পুলিশ৷ আর তাতেই এলো বিপুল সাফল্য৷

অডিও শুনুন 01:35
এখন লাইভ
01:35 মিনিট

‘‘তথ্যভাণ্ডারে দেখা যায়, প্রায় সাত লক্ষ শিশু নিখোঁজ আছে’’

গত ৫ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্টে এই সফটওয়্যার নিতে অস্বীকার করে পুলিশ৷ তারপর ৬ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে মাত্র চারদিনে ভারতের রাজধানী শহরে খোঁজ মিলল ২৯৩০ জন নিখোঁজ শিশুর৷ ১০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক মারফৎ আদালতে নিখোঁজ শিশু শনাক্তকরণের এই তথ্য পেশ করেছে পুলিশ৷ নিখোঁজ করে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়াই এখন পুলিশের প্রধান কাজ৷ শিশু বিষয়ক মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এবার আদালতে ‘‌ন্যাশনাল চাইল্ড ট্রাইব্যুনাল'‌ গড়ার আর্জি জানাতে চলেছে বিবিএ৷ ঠিক যেমন রয়েছে ‘‌ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল'‌৷

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার স্বার্থে এই সফটওয়্যারের খুঁটিনাটি জানানো হয়নি৷ তবে বর্তমানে এই সফটওয়্যারের ব্যবহার হচ্ছে দু'টি পদ্ধতিতে৷ জিওমেট্রিক এবং ফোটোমেট্রিক৷ জিওমেট্রিক পদ্ধতি মূলত অবয়ব-‌নির্ভর৷ মুখমণ্ডলের বৈশিষ্ট বিশ্লেষণ করে দু'টি ছবির বাহ্যিক অবয়ব ও প্রতিটি প্রত্যঙ্গের বৈশিষ্ট ও তাদের মধ্যে ব্যবধান পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয় এটি৷ অন্যদিকে, ফোটোমেট্রিক পদ্ধতিও একটি সমাধান পদ্ধতি৷ এতে নিখোঁজ শিশুর ছবিটিকে পিক্সেলে ভাগ করা হয়৷ এবার অপর ছবিটিকে একই ভাবে পিক্সেল-‌এর আকারে টুকরো টুকরে করে সেই‌ পিক্সেল-‌তথ্য যাচাই করা হয়৷

‘‌বচপন বাঁচাও আন্দোলন'‌-‌এর প্রাক্তন সম্পাদক তথা দুঁদে আইনজীবী ভূবন রিভু ডয়চে ভেলেকে জানালেন, ‘‌‘‌সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তথ্য-ভাণ্ডার গড়ার কাজ শুরু করেছিল বিবিএ৷ তথ্যভাণ্ডারে দেখা যায়, প্রায় সাত লক্ষ শিশু নিখোঁজ আছে৷ এক লক্ষের মতো শিশু বেশ কিছু সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির পক্ষে ছবি মিলিয়ে দেখে শিশুদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব৷ এরপর এই সফটওয়্যারের ব্যবহার নিয়ে পুলিশ বহু টালবাহানা করেছে৷ শেষ পর্যন্ত পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পুলিশ চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউশনে থাকা ৪৫ হাজার শিশুর সঙ্গে ৪৫ হাজার নিখোঁজ শিশুর তথ্য যাচাই করা হয়৷ তাতেই প্রায় তিন হাজার শিশুর সন্ধান মিলেছে৷''

কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বছরে দেশে মোট ২,৪০,০০০ শিশু নিখোঁজের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে৷ স্বভাবতই বাস্তবিক সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি৷ বেশ কিছু সংগঠন এই নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে৷ তাদের হিসেব বলছে, ভারতে প্রতি বছর নিখোঁজ হওয়া শিশুর সংখ্যা ৫,০০,০০০ জন৷ এখন নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক দেশব্যাপী একটি অনলাইন তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘‌ট্র্যাক চাইল্ড'‌৷ এখানে নিখোঁজ ও খুঁজে পাওয়া শিশুদের ছবি পোস্ট করা যায়৷ দেখা যায় বিবরণ৷ এছাড়া ওয়েবসাইটে ক্লিক করে পুলিশে খবরও দেওয়া যায়৷

২০১৩ সালে শিশু নিখোঁজ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছিল ‘‌বচপন বাঁচাও আন্দোলন'‌৷ সেসময় সুপ্রিম কোর্ট একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল৷ এরপর দিল্লি হাইকোর্টে আরও একটি মামাল শুরু হয়৷ সেই মামলায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিবিএ নিখোঁজ শিশুদের শনাক্তকরণে দিল্লি পুলিশকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের তৈরি এফআরএস‌ সফটওয়্যার দিতে চাইলেও তা নিতে অস্বীকার করে পুলিশ৷ আদালত দিল্লি পুলিশকে চলতি বছরের বিগত ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিবিএ-‌র তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফলাফল পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল৷ তারপর যা ঘটেছে তা চমকপ্রদ৷

দিল্লি পুলিশের পক্ষে পুরো বিষয়টি হাতে-‌কলমে করেছেন এমন হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে একজন হলেন দিল্লির জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার (‌ক্রাইম)‌ অলোক কুমার৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘‘‌‌মুখমণ্ডল চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি বা ‘‌ফেসিয়াল রিকগ্নিশন সিস্টেম'‌ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাফল্য এসেছে ঠিকই, তবে কিছু সমস্যাও আছে৷ এই সফটওয়্যার তিন বছর ও তার চেয়ে কম বয়সি শিশুদের শনাক্তকরণ করা সম্ভব নয়৷ কারণ এত কম বয়সে মুখমণ্ডলে পরিবর্তণ হয়ে থাকে৷'‌' অন্যদিকে, এই সফটওয়্যারের সাফল্য দেশের শিশুরক্ষায় নতুন দিশা এনে দিয়েছে বলে মনে করছে ‘‌দ্য ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশান অফ চাইল্ড রাইটস' বা ‌এনসিপিসিআর৷ সংস্থার সদস্য যশোবন্ত জৈনের কথায়, ‘‌‘‌এই ধরনের আধুনিক পদ্ধতি নিখোঁজ শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহায়ক হয়ে উঠবে৷ তাই এই আরও বেশি ব্যবহার প্রয়োজন৷''  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন