চার দশকে সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যা অর্ধেক হয়েছে | বিশ্ব | DW | 19.09.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চার দশকে সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যা অর্ধেক হয়েছে

প্রাণী বলতে স্তন্যপায়ী জীব, পাখি, সরীসৃপ, মাছ – এক কথায় সব কিছু কমে গেছে৷ হ্রাসের পরিমাণ ১৯৭০ সাল যাবৎ প্রায় ৫০ শতাংশ৷ ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড বুধবার জানিয়েছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা৷

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মাত্রাধিক মাছ ধরা, সেই সঙ্গে দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৭০ থেকে ২০১০, এই চল্লিশ বছরে সাগরে তথাকথিত কমার্সিয়াল ফিশ স্টক বা বাণিজ্যিক মাছের পরিমাণ বিপুলভাবে কমে গেছে৷ লিভিং ব্লু প্ল্যানেট রিপোর্টের বক্তব্য হলো, যে সব মাছ বিশ্বের খাদ্য সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলিই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে৷

যেমন টুনা আর ম্যাকারেল মাছ কমেছে ৭৪ শতাংশ৷ একদিকে মাছেদের প্রজনন প্রক্রিয়ার চেয়ে দ্রুততর হারে মাছ ধরা হচ্ছে; অন্যদিকে তাদের ডিম পাড়ার জায়গাগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে – বলেছেন ডাব্লিউডাব্লিউএফ ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রধান মার্কো লাম্বেরতিনি৷ এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মানবগোষ্ঠীদেরই এর মূল্য চোকাতে হচ্ছে, কেননা তারাই তাদের জীবিকার জন্য সাগরের ওপরে নির্ভর৷

শুধু মাছই নয়, সেই সঙ্গে প্রবাল দ্বীপ, ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূল অরণ্য এবং সামুদ্রিক ঘাস, সব কিছু উধাও হচ্ছে৷ মনে রাখা দরকার, মাছেদের এক তৃতীয়াংশ এই সব প্রবাল দ্বীপের উপর নির্ভর, যেমন পৃথিবীর প্রায় ৮৫ কোটি মানুষের জীবিকা সামুদ্রিক মাছেদের উপর নির্ভর৷ প্রবাল দ্বীপগুলোর অর্ধেক ইতিমধ্যে অন্তর্হিত হয়েছে, এবং বিশ্বের উষ্ণায়ন চলতে থাকলে, বাকি অর্ধেকও ২০৫০ সালের মধ্যে উধাও হবে৷ হাঙর ও স্টিং রে গোত্রীয় মাছেদের প্রতিটি চারটে প্রজাতির মধ্যে একটি আজ বিলুপ্ত হওয়ার মুখে৷

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর পক্ষে বিশ্বের নেতৃ – তথা সরকারবর্গের প্রতি আবেদন জানানো ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার নেই৷ তবে রিপোর্টে সুরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকার পরিমাণ ২০২০ সালের মধ্যে বর্তমান তিন দশমিক চার শতাংশ থেকে তিনগুণ বাড়ানোর ডাক দেওয়া হয়েছে৷ ‘‘সমুদ্রে যে গতিতে পরিবর্তন ঘটছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, আর নষ্ট করার মতো সময় নেই'', বলেছেন লাম্বেরতিনি৷ ‘‘আমাদের জীবদ্দশাতেই এই সব পরিবর্তন ঘটছে৷ আমাদের এখনই পথ বদলাতে হবে এবং আমরা তা করার ক্ষমতা রাখি৷''

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়