‘চাকরির ভয়ে নারীরা যৌন হয়রানির কথা বলেন না’ | বিশ্ব | DW | 05.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘চাকরির ভয়ে নারীরা যৌন হয়রানির কথা বলেন না’

বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশ বেড়েছে৷ তবে কর্মক্ষেত্রে নারীরা কী ধরনের সংকটে পড়ছেন, সেখান থেকে উত্তরণের পথ কী, সেসব নিয়ে ডয়চে ভেলে কথা বলেছে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সঙ্গে৷

ডয়চে ভেলে : কর্মক্ষেত্রে নারীরা কতটা অধিকার ভোগ করছে বাংলাদেশে?

ব্যারিস্টার সারা হোসেন: এক অর্থে অধিকার ভোগ করছে৷ কারণ কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে৷ কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ গার্মেন্টস সেক্টরে তো অনেক নারী কাজ করছেন৷ সরকারি চাকরিতেও আগের চেয়ে নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি দেখা যায়৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য জায়গায়ও নারীদের সুযোগ বাড়ছে৷ পাশাপাশি নানান ধরনের সমস্যায়ও তারা পড়ছেন৷ যেমন ধরেন, হয়রানি একটা বড় সমস্যা৷ পাশাপাশি যৌন হয়রানি যদি ধরেন, এটা নিরোধ করতে নানা ধরনের আইন আছে৷ হাইকোর্টের রায়ও আছে৷ কিন্তু রাষ্ট্র বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সেটা নেওয়া হচ্ছে না৷ এই ধরনের হয়রানির শিকার হলে অনেকেই বলতে পারে না৷ তার চাকরির ভয় থাকে বা তাকে নিয়ে কথা বলাবলির একটা ভয় কাজ করে৷ পাশাপাশি কিছু সুবিধা নারীদের পাওয়ার কথা, যেমন ধরেন মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়৷ আইনে ভালোভাবে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটার বাস্তবায়ন হচ্ছে না৷ আরেকটা সমস্যা হলো- বেসরকারি চাকরি যারা করেন তাদের অনেক রাত পর্যন্ত অফিস করতে হয় বা ভোরে অফিসে যেতে হয়৷ সেক্ষেত্রে যানবাহনের যে অবস্থা সেখানে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়৷ অফিসে যে ধরনের সমস্যায় পড়েন, রাস্তায়ও তাদের একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়৷ কেউ কেউ হয়ত প্রতিবাদ করেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের নীরবে সবকিছু সহ্য করতে হয়৷

অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে কোন জায়গায় এখনো ঘাটতি আছে বলে মনে করেন আপনি?

আমাদের দেশে আইনকানুন যা আছে, তা হয়তো আরো ঠিক করা সম্ভব৷ প্রক্রিয়াগতভাবেও ঠিক করা সম্ভব৷ আইন যা আছে তার যদি সঠিক প্রয়োগ হতো তাহলেও অনেক সমস্যা কমে যেত৷ আইনকানুনের পাশাপাশি আমাদের সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন৷ যেটা বলছিলাম, যৌন হয়রানি৷ সেখানে আদালতের একটা রায় আছে৷ সেখানে বলা আছে, একটা ঘটনা ঘটলে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না, যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না৷ আইনে কিন্তু বলা আছে, আপনি একজন পুরুষ হলে কর্মক্ষেত্রে আপনি একজন নারীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করবেন, কী করলে অশ্রদ্ধা হিসেবে গণ্য হবে তাও বলা আছে৷ এগুলো কিন্তু মানা হচ্ছে না৷

অডিও শুনুন 11:34

‘আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে সমস্যা কমে যেত’

নারী কতটা নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে?

এটা আসলে নির্ভর করছে আপনি কোথায় কাজ করছেন৷ যেমন আপনার পাশে যে নারী কাজ করছেন তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন৷ আমি কাজ করছি আদালতে৷ আবার লক্ষ লক্ষ নারী কাজ করছেন গার্মেন্টসে৷ অনেকে কাজ করছেন গৃহকর্মী হিসেবে৷ অনেকে রাস্তায় পানের দোকানে কাজ করছেন, অনেকে ইট ভাঙছেন৷ একেক জন একেক জায়গায় কাজ করছেন৷ অনেকের জন্য কিন্তু কোনো আইনই নেই৷ যে রাস্তায় কাজ করছে তার জন্য কোনো আইন নেই৷ আবার যে কারখানায় কাজ করছে তার জন্য শ্রম আইন আছে৷ আমরা যারা আদালতে কাজ করছি, তাদের জন্য প্রশাসনিক রেজুলেশন আছে, বার কাউন্সিল আছে৷ এখন সবাইকে আইনের মধ্যে আমরা আনতে পারছি না৷ আমি একটা উদাহরণ দেই৷ উচ্চ আদালতে আগে নারীদের জন্য একটা মাত্র ওয়াশরুম ছিল৷ এখন কয়েকটা হচ্ছে৷ অথচ প্রতিটি ফ্লোরে পুরুষদের জন্য চারটি করে ওয়াশরুম আছে৷ এখন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে৷ এখন তো নারীরা বেশি করে কাজে আসছেন, তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র কতটা উপযুক্ত সেটা এখন দেখতে হবে৷

সব কাজে কি এখনো নারীর সুযোগ অবারিত?

সব জায়গায় এই সুযোগ নেই৷ যেমন ধরেন আইনে বলা আছে, রাতের বেলায় কারখানায় নারীরা কাজ করতে পারবেন না৷ এখন কোনো নারী যদি বেশি আয় করতে চান তাহলে তাকে রাতে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে৷ এর জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে, কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে৷ এটা না থাকার কারণে অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও এই সুযোগটা নিতে পারছেন না৷ আগের থেকে অনেক উন্মুক্ত হয়েছে৷ তবে এখনো অনেক বাধা নিষেধ আছে৷

কর্মক্ষেত্রে প্রায়ই নারীদের যৌন হয়রানির কথা শোনা যায়৷ এটা দূর করতে আপনার পরামর্শ কি?

সুপ্রিমকোর্টের একটা রায় আছে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে একটা সেল থাকতে হবে৷ এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এসব কমিটিতে অবশ্যই নারীদের সংখ্যা বেশি থাকতে হবে৷ সেখানে যে কেউ অভিযোগ করতে পারবে৷ কেউ অভিযোগ করলে অবশ্যই সেটার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ বেশ কয়েকবছর আগে মহিলা আইনজীবী সমিতি এই রায়টি পেয়েছিল৷ আমাদের সৌভাগ্য হয়েছিল এখানে দু'টি কথা বলার৷ অনেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে৷ অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানির নীতিমালা করেছে৷ কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি৷ একটা ভালো দিক, কারখানা পরিদর্শন অধিদফতর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে৷ তারা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছেন৷ এই উদ্যোগগুলো আরো বেশি জোরালো করা দরকার৷ আমার মনে হয়, কেন্দ্রীয়ভাবে এটা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন৷ আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, যে প্রতিষ্ঠান থেকে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হোক, বা ব্যবস্থা নেওয়া হোক প্রতিবেদনগুলো সংসদে যেতে হবে৷ কিন্তু সংসদে কোনো প্রতিবেদন যাচ্ছে বলে আমরা জানি না৷ এটা নিয়ে কোনো পর্যালোচনাও আমরা শুনিনি৷

সব নারী কি নায্য মজুরি পাচ্ছেন?

এটা একটা বড় সমস্যা৷ অনেক নারীই নায্য মজুরি পাচ্ছেন না৷ অনেক সময় নারী-পুরুষ সমান কাজ করলেও নারীকে কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে৷ এটা বিভিন্ন পেশায় যেমন দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রেও দেখা যায়৷ এখনও এটা একটা বড় সমস্যা৷

নারীদের ক্ষেত্রে মূল বৈষম্যের জায়গা কোনটি?

কিছু কিছু জায়গায় ধরেন নারীদের একেবারেই কোনো অংশগ্রহণ নেই৷ যেমন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ নেই৷ এটা একটা বড় সমস্যা৷ এর বাইরে বিয়ে রেজিষ্ট্রি৷ সেখানে কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা কোনো নারীকে এই কাজে দেখিনি৷ অন্যান্য দেশে নারীরা এই কাজ করেন৷ কিছু কিছু জায়গা আছে, আইনে কিছু না বলা হলেও বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেই কাজ নারীরা করতে পারবেন না৷ আরেকটা জিনিস হলো, একজন নারী চাকরিজীবী হলেও পুরো পরিবারের বিষয়টা তার উপর বর্তাচ্ছে৷ যেমন ধরেন সন্তান লালনপালন, বাড়িঘর পরিচালনা করা, পরিবারের সদস্যদের দেখা, সবকিছু কিন্তু নারীকেই দেখতে হয়৷ এখন পুরুষদেরও কিছু দায়িত্ব নেওয়া উচিত সন্তান লালনপালন বা ঘর সংসারের৷ তাহলে যৌথ দায়িত্ব যৌথভাবেই পালন করা হবে৷

নারীর মূল বৈষম্যের জায়গা কোনটি বলে মনে হয়? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন