চাঁদে উদ্ভিদ চাষের মার্কিন উদ্যোগ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 08.05.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

চাঁদে উদ্ভিদ চাষের মার্কিন উদ্যোগ

এতদিন মহাকাশচারীদের জমিয়ে রাখা শুকনো গুঁড়া জাতীয় এবং অর্ধ-তরল শর্করা জাতীয় খাবারের উপর নির্ভর করতে হতো৷ তাদের খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা৷ তাঁরা চাঁদে সব্জি চাষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন৷

২০২০ সালের মধ্যে মহাকাশ যাত্রীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে নাসা

২০২০ সালের মধ্যে মহাকাশ যাত্রীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে নাসা

চাঁদে সব্জি চাষ

বিজ্ঞানীরা এখন এমন দিনের প্রতীক্ষা করছেন, যেদিন চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দারাও বেশ আয়েশ করে তাজা সব্জি খেতে পারবে৷ প্যারাগন স্পেস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন চাঁদে ফুল এবং শস্য উৎপাদনের প্রথম পর্যায় সম্পর্কে এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷ এতদিন পর্যন্ত মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা'র সাথে সকল মহাকাশ অভিযানে যৌথভাবে কাজ করছিল প্যারাগন৷ কিন্তু নাসা ২০১০ সালের শেষ নাগাদ তাদের মহাকাশ অভিযান আপাতত বন্ধ করতে যাচ্ছে৷ যদিও নাসা'র দু'টো উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা রয়েছে৷ ২০২০ সালের মধ্যে মহাকাশ যাত্রীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মনুষ্য অভিযান পরিচালনা করা৷

BdT: Athen, so nah zeigt sich der Vollmond erst wieder 2007

সবচেয়ে কঠিন সমস্যাটি হচ্ছে চাঁদে দীর্ঘদিন যাবত প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা৷

প্যারাগনের ‘চন্দ্র মরূদ্যান'

প্যারাগন কর্তৃপক্ষ তাদের চাঁদে উদ্ভিদ চাষের এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘চন্দ্র মরূদ্যান'৷ সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা প্রথমত দেড় ফুট দীর্ঘ ত্রিকোণাকার একটি এ্যালুমিনিয়ামের আধারে ছোট গ্রিনহাউস তৈরি করে এর মধ্যে উদ্ভিদ চাষের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে৷ গবেষণাগারের উদ্ভিদকে এই গ্রিনহাউসে করে নিরাপদে চন্দ্র পৃষ্ঠে রাখা হবে এবং সেটি বাড়ার সাথে সাথে তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে৷ ওডিসি মুন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মহাকাশ অভিযানের সময় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্যারাগন কর্তৃপক্ষ৷ তবে তা ২০১২ সালের আগে হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে৷

বিজ্ঞানীরা প্রথমত এই গ্রিনহাউসের মধ্যে ব্রাসিকার বীজ লাগাবেন৷ কেননা ব্রাসিকার বীজ থেকে ফুল হতে মাত্র ১৪ দিন সময় লাগে৷ এছাড়া এটার এক জীবন চক্র সম্পন্ন হতে এক চন্দ্র রাত সময় প্রয়োজন হয়৷ ব্রাসিকা হচ্ছে বাঁধাকপি জাতের এক উদ্ভিদ যা প্রধানত ব্রাসেলসে জন্মে৷ এরা চরম আবহাওয়াতেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই বাঁচতে পারে৷ ব্রাসিকা থেকে মূলত রান্নার তেল এবং পশু খাদ্য পাওয়া যায়৷

চাঁদে উপনিবেশের পথে

প্যারাগনের প্রেসিডেন্ট জেন পয়েন্টার বলেন, চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহে উপনিবেশ গড়ে তোলার বিষয়টি অনেক দূরে রয়েছে তবে আমাদের এই গবেষণা এখন বেশ এগিয়ে গেছে৷ উপনিবেশ গড়ে তোলার জন্য সেখানে পুনরুৎপাদন কর্মসূচি থাকতে হবে৷ কেননা বিষয়টি এমন নয় যে বনভোজন শেষ করে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বাড়ি রওয়ানা করলাম৷ তিনি বলেন, চাঁদে উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, সুষ্ঠু ও সমন্বিত পদ্ধতি আবিষ্কার বেশ সময় সাপেক্ষ এবং এজন্য ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন হবে৷

ইউনিভার্সিটি অব এ্যারিজোনা'র উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিন এ গিয়াকোমেলি বলেন, প্যারাগনের উদ্যোগ এবং নাসা'র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একসাথে দেখতে পেলে আমি খুবই খুশি হতাম৷ তিনি বলেন, এটা কোন বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী নয়৷ আমরা এখন অন্য কোন গ্রহে গেলেও সেখানে জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের প্রযুক্তি আমাদের হাতে রয়েছে৷ মহাকাশে উদ্ভিদ চাষ করতে আমাদের অনেক প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে৷ তবে সবচেয়ে কঠিন সমস্যাটি হচ্ছে সেখানে দীর্ঘদিন যাবত প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা৷

কন্ট্রোল্ড এনভায়রোনমেন্ট এগ্রিকালচার সেন্টার (সিইএসি)'র গবেষণা

গিয়াকোমেলি এবং তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ কৃষি কেন্দ্র (সিইএসি) এর গবেষণাগারে চাঁদে উদ্ভিদ চাষের বিষয়ে গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ সিইএসি ইতিমধ্যে এ্যান্টার্কটিকায় জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের নতুন এ্যামুন্ডসেন-স্কট সাউথ পোল স্টেশনে মাটি ছাড়া শুধু পানিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক খাদ্য সরবরাহ করে উদ্ভিদ চাষের কাজে বেশ অগ্রগতি সাধন করেছে৷ তারা চার বছর আগে এই প্রকল্পটির কাজ শুরু করে৷ পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল স্থানে থাকা সত্ত্বেও এই গবেষণার কাজে নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি টমেটো, মরিচ, লেটুস, স্ট্রবেরি এবং সুগন্ধিযুক্ত লতা-গুল্ম খেতে পাচ্ছে৷ তারা সপ্তাহে প্রায় ২৭ কিলোগ্রাম সব্জি উৎপাদন করছে যা সেখানে কর্মরত ৭৫ জন বিজ্ঞানীর প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন দু'বেলা সালাদ খাওয়ার জন্য বেশ যথেষ্ট৷ গিয়াকোমেলি বলেন, দক্ষিণ মেরুতে এই প্রকল্পে তাঁদেরকে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে নিম্ন বায়ু চাপে এবং মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করতে হয়েছে৷ চাঁদে উদ্ভিদ চাষের ক্ষেত্রেও তাঁদেরকে প্রায় একইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছেন গিয়াকোমেলি৷

প্রতিবেদক: হোসাইন আব্দুল হাই, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন